আজকালের প্রতিবেদন: টিটাগড়ের পুলিশ অফিসার সোমা হেলা স্তন ক্যান্সারকে হারিয়ে ঘোড়ায় চড়া এবং পর্বতারোহণের মতো কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন। স্তন ক্যান্সার ধরা পড়ার পর চিকিৎসার সময়ে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন পলি সেন। পরে তা কাটিয়ে তিনি চালু করেন হোম ডেলিভারি ইউনিট। যেখানে এখন আরও অনেক মহিলা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। শোভা দাশ ও তাঁর স্বামীর একসঙ্গে ক্যান্সার ধরা পড়েছিল। এসব উপেক্ষা করে শোভা মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন। গত বছর পাঁচ হাজার কিলোমিটার ম্যারাথনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের মতো আরও অনেক মহিলা ক্যান্সারকে জয় করে শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন। নানা সংশয়, বাধা–‌বিপত্তি কাটিয়ে কীভাবে এই রোগের বিরুদ্ধে জয়লাভ করেছেন, স্তন ক্যান্সার সচেতনতা মাস পালনের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সেই কাহিনি শুনিয়ে অন্য আক্রান্তদের মনে তাঁরা সাহস জোগালেন।
 অ্যাপোলো গ্লেনঈগলস হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে রেডিয়েশন অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ সুচন্দা গোস্বামী বলেন, ‘‌এখন স্তন ক্যান্সার ক্রমশ বেড়ে চলেছে। কারণ বেশি বয়সে বিয়ে করার প্রবণতা বাড়ছে, সন্তান ধারণ দেরিতে করছে। স্তনদুগ্ধ 
খাওয়ানো তাড়াতাড়ি বন্ধ করে দেওয়ার কিংবা না খাওয়ানোর প্রবণতা বাড়ছে, বিশেষত শহুরে মহিলাদের মধ্যে। স্তন ক্যান্সার দেরিতে ধরা পড়লে 
চিকিৎসাও জটিল হয়ে পড়ে। অধিকাংশ মহিলার মধ্যে এই রোগ লুকিয়ে রাখার প্রবণতা দেখা যায়। কিন্তু গোড়াতেই এই রোগ ধরা পড়া জরুরি। তাহলে  দ্রুত সেরে ওঠা যায়।’‌ সার্জিক্যাল অঙ্কোলজিস্ট ডাঃ শুভদীপ চক্রবর্তী বলেন, ‘‌অ্যাপোলোতে আমরা পিঙ্ক ক্লিনিক চালু করতে চলেছি যেখানে স্তন ক্যান্সার চিহ্নিতকরণ এবং চিকিৎসার ঠিক পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য এক ছাদের নীচে থাকবে  বিশ্বমানের আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স পদ্ধতি।’‌ প্রতি আটজন মহিলার মধ্যে একজনের স্তন ক্যান্সারে আক্রান্তের সম্ভাবনা থাকে। প্রতি ২২ জনের মধ্যে একজনের এই রোগ হয়। গোপন না করে নিয়মিত নিজেরাই স্তন পরীক্ষা করে সাবধান হতে পারবেন বলে জানাচ্ছেন ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে ছিলেন ডাঃ সৈকত গুপ্ত, ডাঃ পৃথা রক্ষিত প্রমুখ। ‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top