আজকালের প্রতিবেদন: ধূমপান হাড়ের ওপর অত্যন্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে ঝুঁকি বাড়াচ্ছে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের। ‌শুধু হাড় নয়, অস্থিসন্ধি এবং সন্ধিগুলোতে সংযোগকারী টিস্যুর ওপরেও ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে। কী ধরনের আর্থ্রাইটিস হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এটা না ভেবে শরীরের অস্থিসন্ধি এবং নিজের কথা ভেবে ধূমপান বর্জন করাই শ্রেষ্ঠ উপায় বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকেরা। তাঁদের মতে, ধূমপানের সঙ্গে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। বিশেষত, ২০ বছর ধরে বা তার বেশি দিনের ধূমপায়ীদের মধ্যে সিভিয়র রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের প্রকোপ বাড়ছে। এই রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধের কার্যকারিতাও নষ্ট হয় ধূমপানের কারণে। বহু মানুষ রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসে ভোগেন কিন্তু ধূমপান তাদের জন্য আরও অবনতি ডেকে আনে।  এসএসকেএম হাসপাতালের রিউম্যাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ অলোকেন্দু ঘোষ বলেন, ‘‌ধূমপানে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বাড়ে। পরিবারে যাঁর রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস আছে তিনি যেন ধূমপান না করেন। এতে তাঁর রোগের প্রকোপ বাড়বে সেইসঙ্গে পরোক্ষভাবে বা প্যাসিভ স্মোকার হিসেবে পরিবারের অন্য কারও হতে পারে। তাঁদের কারও যদি রিউমাটয়েড জিনটা থাকে, তা হলে এই রোগটি বাড়ার আশঙ্কা প্রবল।’‌ সিএমআরআই হাসপাতালের চেস্ট মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক রঞ্জনকুমার দাশ বলেন, ‘‌ধূমপান রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস এবং অস্টিওআর্থ্রাইটিসের আশঙ্কা বাড়ায়। আর্থ্রাইটিসে ভোগা রোগীদের শারীরিক অবস্থা আরও খারাপ করে। ওষুধ ঠিকমতো কাজ করে না। দিনে তিনবার ধূমপান করলে লোয়ার ব্যাক পেইন বাড়ে। ধূমপান শরীরের বিভিন্ন কোষের মৃত্যু ঘটায়, প্রদাহ বাড়ায়, টিস্যু নষ্ট করে, জিনগত পরিবর্তনও ঘটায়। ধূমপায়ীদের শরীরে প্রদাহজনিত প্রোটিন (‌সাইকোটিনস)‌ অতিমাত্রায় বাড়ে। ধূমপান বর্জন না করলে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের সঙ্গে ফুসফুস ক্যান্সার, স্ট্রোক, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, অস্টিওপোরোসিস–‌সহ আরও একাধিক রোগেরও ঝুঁকি বাড়ায়।’‌  অলোকেন্দুবাবুর মতে, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস অটো ইমিউন ডিজিজের মধ্যে পড়ছে। নিজের শরীরের বিরুদ্ধেই অ্যান্টিবডি তৈরি করে অস্থিসন্ধির ক্ষতি করে। ধূমপায়ীদের মধ্যে এই বিরুদ্ধ অ্যান্টিবডি বেড়ে যাওয়ায় জয়েন্টের সমস্যা বাড়ছে। মূলত হাতের জয়েন্ট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। লেখালেখি, খাওয়া–দাওয়া করতে না পারা–‌সহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় কাজগুলো ব্যাহত হয়। শরীরের কার্যক্ষমতার পাশাপাশি এই রোগের ওষুধের কার্যকারিতাও নষ্ট করে।‌ অস্থি ও জয়েন্ট রিপ্লেসমেন্ট বিশেষজ্ঞ ডাঃ অয়ন রায় জানিয়েছেন, ‘‌সিগারেট খেলে প্রথমে ভাল অনুভব হয়। কারণ সিগারেটের মাধ্যমে নিকোটিন মস্তিষ্কে উত্তেজনা বাড়ায়। মস্তিষ্ক থেকে নির্গত ডোপামিন নামে এক ধরনের রাসায়নিক ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ায় নিকোটিনের আসক্তি বাড়ায়। এ ছাড়াও হাড় এবং টিস্যুতে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের সরবরাহকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। শরীরে রক্ত ও পুষ্টি সরবরাহ হ্রাস করে হাড়ের কার্যক্ষমতা, অস্বাভাবিক মাত্রায় কমিয়ে দেয় হাড়ের খনিজ লবণ।’‌ চিকিৎসকদের মতে, সিগারেট জ্বালানোর আগে অন্তত তিনবার ভাবুন। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের পিছনে জিনগত সমস্যা এবং পরিবেশগত কারণ দায়ী থাকলেও ধূমপান আরও ঝুঁকি বাড়ায়। ‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top