আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ শ্রোতারা তাঁদের চেনেন বাংলাব্যান্ডের দাপুটে গায়ক হিসেবে। কিন্তু কৌশিক চক্রবর্তী, তিমির বিশ্বাসরা একই ইমেজে আটকে থাকায় যে বিশ্বাসী নন, সে প্রমাণ মিলল আবারও। ২ জুন, শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে ‘‌কলকাতা ভিডিয়োজ’‌–এর উদ্যোগে জিডি বিড়লা সভাঘরে আয়োজিত হচ্ছে ‘‌রবিকাহন’‌। সেখানে গাইবেন কৌশিক, তিমিররা। যাঁদের এতদিন খাঁটি রক ফোক আর প্লেব্যাকে দেখে এসেছেন সঙ্গীতপ্রেমীরা। ‘‌কলকাতা ভিডিয়োজ’–এর তরফে কুণাল বিশ্বাস (‌যিনি আবার ফকিরার বেস গিটারিস্টও বটে)‌ বললেন, ‘‌আগে পাড়ায় পাড়ায় রবীন্দ্রজয়ন্তী পালন করা হতো। এটাকেও সেরকমই একটা উদ্যোগ বলা চলে। এখন তো আর পাড়ায় পাড়ায় সেভাবে রবীন্দ্রজয়ন্তী পালিত হয় না, তাই হল বুক করে আমরাই একটা উদ্যোগ নিলাম।’‌ ‘‌একাঙ্গ’‌–এর নৃত্যানুষ্ঠান দিয়ে শুরু হবে ‘‌রবিকাহন’‌। তারপরে থাকছে ‘‌কলকাতা ভিডিয়োজ’–এর অনুষ্ঠান। সেখানে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে শোনা যাবে তিমির–কৌশিকদের। পিয়ানোয় সঙ্গত করবেন রাহুল সরকার। কলকাতা ভিডিয়োজ লাইভের তরফে গাইবেন অ্যানি। বেস গিটারে কুণাল। এছাড়াও গিটারে থাকছেন চয়ন, বান্টি এবং সাগর। 
রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনে না করে কেন তার এতদিন পরে এই অনুষ্ঠান?‌ কুণাল বলছিলেন, ‘‌রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই আমাদের অনুষ্ঠানটা করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু নানা কারণে সেটা করতে উঠতে পারিনি।

পাশাপাশি হল পাওয়া নিয়েও একটা সমস্যা হচ্ছিল। তারপরে ভাবলাম, যেদিনই গান করা হোক না কেন, সেটাই রবীন্দ্রজয়ন্তী হয়ে যায়।’‌ পাশাপাশি এ–ও জানালেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতকে কুক্ষিগত করে রাখার একটা চেষ্টা চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সেটা ভাঙাটাই এই অনুষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। তবে তার জন্য রবীন্দ্রসঙ্গীতের মূল ভাব বা সুর বিকৃত করা হবে না। বরং ড্রাম্‌স–গিটারে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে নতুন রূপ দিতে চাইছেন কুণালরা। 
এর আগে ব্যান্ড হিসেবে ‘‌ফকির রবির আসর’‌ নামে একটি অনুষ্ঠান করেছিল কুণাল–তিমিরদের ব্যান্ড ফকিরা। অনলাইন রিলিজের পরে দারুণ জনপ্রিয়তাও পেয়েছিল সেই অনুষ্ঠানটি। কুণাল বলছেন, ‘‌ফকির রবির আসরের আগের বছর রবীন্দ্রজয়ন্তীতে হয়েছিল রবিগানের আসর নামে একটি অনুষ্ঠান। সেখানেও তিমির, কৌশিকরা ছিল। এবারের অনুষ্ঠানটা আগের ওই দুটো অনুষ্ঠানের পর্ব ধরে নেওয়া যেতেই পারে।’ ‌
মঞ্চে প্রায় ২০ বছর পরে রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইবেন ‘‌পৃথিবী’‌–খ্যাত কৌশিক। তিনি বলছিলেন, ‘‌মঞ্চে শেষবার রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছি স্কুলে পড়ার সময়। তবে কলকাতা ভিডিয়োজের একটা অনুষ্ঠানে একটা রবীন্দ্রসঙ্গীত গেয়েছিলাম। সেটাকে ঠিক মঞ্চ বলা যায় না। তবে রবীন্দ্রসঙ্গীত এতটাই আমাদের মধ্যে ঢুকে আছে যে এতদিন পরেও রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে কোনও অসুবিধাই হচ্ছে না। মজা হল, শো–র আগের দিনই প্রথম রিহার্সাল করলাম। তিনটে গান গাইবো। তারমধ্যে একটা গান তো স্কুলে আমাদের প্রার্থনাসঙ্গীত ছিল (‌আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে)‌।

আর দুটো গানও চেনা গান।’‌ কৌশিকের কথায়, ‘‌আমি আমার অনুভব দিয়ে গানগুলো গাইবো। কেউ কেউ হয়তো তাতে রেগে যেতে পারেন। কিন্তু আমি যেভাবে গানগুলোকে অনুভব করেছি, সেভাবে গাওয়াটাই উচিৎ বলে মনে করছি। তবে রবীন্দ্রআঙ্গিক রেখেই কাল গান গাইবো।’‌
ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানের আগে রীতিমতো উত্তেজিত তিমিরও। সাউন্ডক্লাউড এবং ইউটিউবে তো বটেই, ফকিরার লাইভ শো–তেও ‘‌আমি শুধু রইনু বাকি’‌–র মতো জনপ্রিয় রবীন্দ্রসঙ্গীত গাইতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। এমনকী, বেশ কয়েকবছর আগে ‘‌চক্রপর্ণ’‌ নামে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীতের ব্যান্ডও ছিল তাঁর। তিমির বলছিলেন, ‘‌প্রায় দশবছর পরে এমন একটা অনুষ্ঠান করছি, যেখানে পুরোটাই রবীন্দ্রনাথের গানে ভরা থাকবে। এটা দারুণ একটা অভিজ্ঞতা। যাদের সঙ্গে কাল (‌শনিবার)‌ গাইছি, তাঁদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই গানবাজনা করে আসছি। কিন্তু কখনওই শুধু রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে শো করা হয়নি। আমরা যে ধরনের সাউন্ড নিয়ে কাজ করি, আমরা সেই আঙ্গিকেই রবীন্দ্রসঙ্গীত করছি। তবে অবশ্যই গানের সুর ও ভাব অবিকৃত থাকবে। রবীন্দ্রনাথ নিজের গান সম্পর্কে কী ভাবতেন, আমরা সেটা নিয়ে রীতিমতো পড়াশুনো করেছি। সেই পড়াশুনো করেই আমাদের দৃঢ় ধারণা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ বেঁচে থাকলে হয়তো এভাবেই নিজের গান নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করতেন। কখনওই এক জায়গাতে আবদ্ধ থাকতেন না। আর এই প্রথমবার টিকিট কেটে মানুষ রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে আসছেন, সেটা ভাবতেও খুব ভাল লাগছে।’‌
❏‌ কীভাবে পাবেন এই অনুষ্ঠানের প্রবেশপত্র:‌ যোগাযোগ করতে হবে ৯৮৮৩৫৫০৭৯৪, ৯১২৩৮৪৩৫৩৩ কিংবা ৮০১৩৮৪১৪৮৪ নাম্বারে।

জনপ্রিয়

Back To Top