আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৪ জুন বান্দ্রার ফ্ল্যাটে সুশান্তের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। মুম্বই পুলিশ জানায়, আত্মহত্যা করেছেন সুশান্ত। আঙুল ওঠে বলিউডের প্রভাবশালী গোষ্ঠীর দিকে। বলা হয়, তাঁদের স্বজনপোষণই অবসাদের দিকে ঠেলে দিয়েছিল সুশান্তকে। শেষে প্রাণ নিয়েছে তাঁর। এর একে একে এই অভিযোগে মুখ খোলেন বলিউডের তাবড় শিল্পী, তারকারা। 
১.‌ অভিনব কাশ্যপ— আঙুল তুলেছেন সলমন খান এবং তাঁর পরিবারের দিকে। অনুরাগ কাশ্যপের ভাইয়ের অভিযোগ, সলমন, সোহেল, আরবাজ মিলে তাঁর কেরিয়ার নষ্ট করেছেন। তাঁর ছবি ‘‌বেশরম’‌–এর প্রচার আটকে নেতিবাচক প্রচার চালিয়েছেন। পরিবেশকদের ছবি না কেনার জন্য চাপ দিয়েছেন। ফেসবুকে সমস্ত অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।
২.‌ রণবীর শোরে— প্রতিভাবান অভিনেতা। তা সত্ত্বেও ভাটদের রোষে পড়ে একের পর এক ছবি হাতছাড়া হয়েছে। মানসিক অবসাদে ভুগেছিলেন। এক সময় দেশ ছাড়তেও বাধ্য হন। তিনি একটি সাক্ষাৎকারে এও বলেছেন, ‘‌যখন সুযোগ পেত ভাটরা বলে বেড়াত আমি মদ্যপ। মারধর করি। অসহায় মনে হত। ক্ষমতাহীন মনে হত। কারণ এরা এতই প্রভাবশালী, যে সংবাদ মাধ্যম এঁদের কথাই শুনবে।’
৩.‌ কঙ্গনা রানাওয়াত— বারবার আঙুল তুলেছেন করণ জোহর, যশ রাজ প্রোডাকশনের দিকে। করনের চ্যাট শোয়ে প্রকাশ্যে এসব বলেছেন। বলেছেন, জাভেদ আখতার নাকি তাঁকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন। বলেছিলেন, ঋত্বিকের কাছে ক্ষমা না চাইলে তাঁকেও আত্মঘাতী হতে হবে। মহেশ ভাটের ছবি করতে রাজি হননি বলে পরিচালক চটি ছুড়েছিলেন। আদিত্য চোপড়া হুমকি দিয়েছিলেন সলমনের বিপরীতে ‘‌সুলতান’‌ করতে চাননি বলে। 
৪.‌ এ আর রহমান— তিনি অস্কার পেয়েছেন। অথচ এই বলিউডের প্রভাবশালী গোষ্ঠী তাঁকেও কাজছাড়া করেছেন। একের পর এক ছবির কাজ খুইয়েছেন তিনি। তাঁর ক্ষোভ, প্রভাবশালীদের এই ‘‌গ্যাং’‌ তাঁর বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। ‌কাজ পেতে দেয়নি।
৫.‌ রবীনা ট্যান্ডন— অতীতে মুখ খুলেছেন। আবারও খুললেন। বললেন, ‘‌কিছু খারাপ মানুষ রয়েছে, যারা আপনার ব্যর্থতার ছক কষে চলে। আমি এই পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গেছি। অনেকে আছে, যারা আপনাকে নীচে নামাতে চায়। ছবি থেকে বাদ দিতে চায়। ক্লাসরুমের মতোই রাজনীতি চলে এখানে। ওরা খেলে যায়।’‌
৬.‌ রেসুল পুকুট্টি— শেখর কাপুর লিখেছিলেন, বলিউডে অস্কার ‘‌মৃত্যুর চুম্বন’‌। সায় দিয়ে একই কথা লেখেন এই সুরকার। বলেন, অস্কার পাওয়ার পর বলিউড আর কাজ দেয়নি তাঁকে। 
৭.‌ তিগমাংশু ধুলিয়া— এই পরিচালকের ক্ষোভ দু’‌টি গোষ্ঠীকে ঘিরে। তাঁর কথায়, এরা শুধু টাকা কামাচ্ছে। সিনেমার জন্য কিছু করছে না। এরা সিনেমাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টাই করে না। চাইলেই দর্শকদের রুচি পাল্টাতে পারে। কিন্তু করে না, আক্ষেপ ‘‌গ্যাংস অফ ওয়াসিপুর’‌–এর রামাধীন সিংয়ের। 
৮.‌ অমিত সাধ— মুখের ওপর কথা বলেন। তাই ছোট পর্দা তাঁকে কাজ দেয় না। নিজেদের মধ্যেই আলোচনা করে নেয়, একে কাজ দেওয়া চলবে না। অভিযোগ ‘‌কায় পো চে’‌ অভিনেতা অমিত সাধের। 
৯.‌ সোনু নিগম— আঙুল তুলেছেন মিউজিক মাফিয়াদের দিকে। অভিযোগ, এদের জন্যই বলিউডে মিউজিক থেমে গেছে। ভাল গায়কদের উঠতে দেয়নি তারা। সহমত হয়েছেন মোনালি ঠাকুর, কৈলাস খের, কুণাল গাঞ্জাওয়ালা। সরাসরি বচসায় জড়িয়েছেন টি সিরিজ সংস্থার মালিক ভূষণ কুমারের সঙ্গে। 
১০.‌ সোনা মহাপাত্র— ‘‌অম্বরসারিয়া’‌র মতো হিট দিয়েও বলিউডে দ্বিতীয় গান গাওয়ার সুযোগ পাননি। সোনা আঙুল তুলেছেন জাভেদ আর ফারহান আখতারের দিকে। 
১১.‌ মধুর ভাণ্ডারকার— বরাবর দলবাজি থেকে দূরে থেকেছেন। তাই দলবাজি করা লোকগুলো বদলা নিয়েছে তাঁর থেকে, জানিয়েছেন মধুর। একের পর এক ছবি হিট। যখন প্রথম, তাঁর একটা ছবি ফ্লপ হল, দূরে ঠেলে দিয়েছিল বলিউড। আর পায়ের জমি শক্ত করতে দেয়নি তাঁকে। নিজেই বলেছেন সেসব। 
১২.‌ মনোজ বাজপেয়ী— শক্তিশালী অভিনেতা। একের পর এক হিট ছবি। মনে রাখার মতো চরিত্র। তবু বলিউডে তাঁর জায়গা পাকা হতে দেয়নি কিছু জন। এজন্য অবসাদেও ভুগেছিলেন। ক্ষোভ থেকে বলেছেন, ‘‌এই ইনডাস্ট্রি প্রতিভাদের নষ্ট করে।’‌ তাঁর কথায়, এই বলিউড বহিরাগতদের একেবারে সম্মান দেয় না। 
১৩.‌ গোবিন্দ— একের পর এক হিট ছবি। যেমন নাচ, তেমন কমিক সেন্স। তবু খারাপ সময়ে তাঁর দিকে ফিরে তাকায়নি বলিউড। একথা সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। ঠারেঠোরে গোবিন্দ খান ভাইদের দিকেও আঙুল তুলেছেন।   

জনপ্রিয়

Back To Top