লোপামুদ্রা ভৌমিক

বলিউডের মৃত্যুমিছিল দীর্ঘতর হল। থেমে গেল হাসি। চিরঘুমে সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ জাফরি ওরফে অভিনেতা জগদীপ ওরফে সুরমা ভূপালি। 
বলিউডে পা ১৯৫১–তে। বয়স তখন মাত্র ৯। বি আর চোপড়া পরিচালিত ‘অফসানা’ ছবিতে। সহকারী পরিচালক যশ চোপড়া। দেশভাগের ক্ষত বুকে নিয়ে মুম্বই এসেছিল একরত্তি ইশতিয়াক। সম্বল শুধু মা। অনাথ আশ্রমে মাকে দিনরাত খাটতে দেখে ছোট্ট ছেলেটি ঠিক করে, স্কুলের পড়াশোনা নয়, বরং চেষ্টা চালাবে পান্তাভাতে নুন জোটানোর। শুরু হল ঘুড়ি তৈরি বা রাস্তায় ঘুরে ঘুরে সাবান বিক্রির মতো ছোটখাটো কাজকর্ম। একদিন রাস্তাতেই ঘুরে গেল জীবনের মোড়। ৩ টাকা মজুরিতে জুটে গেল সিনেমায় কাজ করার সুযোগ। 
আর পেছনে তাকাতে হয়নি। একে একে ‘লায়লা মজনু’, ‘মুন্না’, ‘আরপার’, ‘ধোবি ডক্টর’, ‘দো বিঘা জমিন’, ‘ভাবি’, ‘‌খিলোনা’, ‘বরখা’, ‘তিন বহুরানিয়াঁ’, ‘‌কুরবানি’‌, ‘বিদাই’, ‘হম পঞ্ছি এক ডাল কে’, ‘‌শাঁস ভি কভু বহু থি’‌, ‘‌এজেন্ট বিনোদ’, ‘‌আন্দাজ আপনা আপনা’ বা ‘‌গলি গলি চোর হ্যায়’‌, ‘‌লাইফ পার্টনার’‌, ‘‌বম্বে টু গোয়া’‌, ‘‌কহিঁ প্যার না হো যায়ে’‌। 
হাসির হাওয়ায় মাতিয়ে রেখেছিলেন চারশোরও বেশি ছবি। তবে ‘‌শোলে’‌র সুরমা ভূপালিই এককথায় জগদীপের ‘সিগনেচার ক্যারেক্টার’। অথচ এই ছবিতে অভিনয়ের জন্য নাকি প্রথমে তিনি মোটেই রাজি ছিলেন না!‌ চিত্রনাট্যকার জুটি সেলিম–জাভেদের কথায় রাজি হন। তাঁদের যুক্তি ছিল, সুরমা ভূপালির চরিত্র ছাড়া ‘শোলে’ হবে না। আর জগদীপ ছাড়া ওই চরিত্রে কাউকেই মানাবে না। আসলে কৌতুকাভিনয়কে অসাধারণ নিপুণতার ছাঁচে ঢেলেছিলেন জগদীপ। ১৯৮৮–তে ‘‌সুরমা ভূপালি’‌ নামে একটি ছবিও পরিচালনা করেছিলেন। ৫টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন নায়কের চরিত্রেও। ভয়ানক ভূতুড়ে বেশ কিছু বলিউডি ছবিরও পরিচিত মুখ ছিলেন। ‘পুরানা মন্দির’ বা ‘খুনি পাঞ্জা’ ছবিতে ভয়ের আবহে তাঁর দেওয়া একচিলতে কমিক রিলিফ ছিল দর্শকের উপরি পাওনা। 
অভিনয় থেকে যা উপার্জন করেছিলেন, তার একটা বড় অংশ জগদীপ খরচ করেছিলেন বাড়ির পিছনে। প্রথমে মুম্বইয়ের ঝুপড়ি থেকে এক কামরার বাড়ি। তারপর মুম্বই এবং চেন্নাইয়ে দুটি বাংলো কিনেছিলেন। আসলে শৈশবের কষ্টের দিনগুলো ভুলতে চেয়েছিলেন তিনি। এছাড়াও বলিউডে এভিএম প্রোডাকশনের অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। জগদীপের দুই স্ত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী সুঘরা বেগমের দুই ছেলে জাভেদ জাফরি এবং নাভেদ জাফরি। জাভেদ বরাবরই তাঁর বাবার মতো কৌতুকাভিনেতা হতে চেয়েছিলেন। নাভেদও অভিনেতা এবং টেলিভিশনে পরিচিত মুখ। আছেন আরও এক ছেলে এবং তিন মেয়ে। বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বইয়ের শিয়া কবরস্থানে চিরশায়িত হলেন তিনি। যেখানে তাঁর পাশেই চিরঘুমে রয়েছেন  ‘‌পাকিজা’‌, ‘‌রাজিয়া সুলতানা’, ‘‌মুঘল–ই–আজম’‌ ছবিতে তাঁর সহ–অভিনেত্রী মীনা কুমারীও। প্রিয় ভূপালির স্মৃতিতে শোক জানিয়েছেন ‘‌জয়’‌ অমিতাভ বচ্চন। লিখেছেন, ‘‌বলিউডের আকাশ থেকে আরও একটা তারা খসে পড়ল।’‌ ‘‌বীরু’‌ ধর্মেন্দ্র লিখেছেন, ‘‌তুমিও চলে গেলে?‌ শোকের পর শোক। স্বর্গে সুখে থাকো।’

জনপ্রিয়

Back To Top