ঘরবন্দি একটা চরিত্র ‘‌মেজো (‌‌ইলা)‌‌’‌ দর্শকদের মনবন্দি হল কীভাবে?‌ চরিত্রটা করতে গিয়ে আলাদা কিছু করেছিলেন?‌ আর ছবির নাম ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’ না হয়ে কি ‘মেজো’ হতে পারত না? 
সুদীপ্তা চক্রবর্তী:‌ এই রে!‌ ‘ইলা’ কেন দর্শকদের ভাল লাগল, সেটা তো তাঁরাই বলতে পারবেন। আমি কী করে বলি?‌ আসলে এই চরিত্রগুলো, মানে ইলা বা ইলার মতো মানুষ তো বেশ খানিকটা অসহায়। তাই বেশি অ্যাপিল করে। দ্বিতীয়ত, এত সারল্য আছে চরিত্রটার মধ্যে, যে কোনও মানুষের ভাল লাগবে। আর না, সিনেমার নাম ‘মেজো’ হলে ভাল লাগত না। একদমই না। এটা তো ‘‌মেজো’‌র গল্পই না! 
 দর্শকদের মতে ‘‌মেজো’‌ সুপারহিট। অহংকার হচ্ছে?‌
সুদীপ্তা:‌‌ অহংকার কেন হবে?‌ আমার কখনওই উদ্দেশ্য থাকে না, সবাইকে পেছনে ফেলে দেব। এই ছবিটা অভিনয়ের ক্লাস করতে যাওয়ার মতো। ঋত্বিক, দামিনী বা শ্রেয়াকে বাদ দিয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ছেড়ে লোকে শুধু আমার কথা বলছে, মানছি না। 
 আপনাকে সারাক্ষণ কেন গ্রাম্য চরিত্রেই দেখা যায়?‌ 
সুদীপ্তা:‌‌ এটা ঠিকই। গ্রাম্য, প্রান্তিক চরিত্রেই আমাকে দেখা যায়। হয়ত আমার লুকের জন্য। পরিচালকের হাতেও অপশন কমে যায়। আমরা শহুরে জীবনে অভ্যস্ত। শহুরে জীবনের সঙ্গে মিল নেই, এমন চরিত্র যে মুহূর্তে আসে, অভিনেতাদের অপশন কমে। তখন হাতেগোনা লোকের মধ্যে কাজ করতে হয়। যেখানে গ্ল্যামার প্রধান নয়, কেমন দেখতে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেখানে চরিত্রটা ফুটিয়ে তুলতে ভাল পারফর্মারের দরকার পড়ে। তাই আমার ডাক পড়ে। তবে তার মধ্যেও ‘‌অনেকদিনের পরে’‌ সিনেমায় আমার কর্পোরেট ব্যাকগ্রাউন্ড। চিবিয়ে চিবিয়ে ইংলিশ বলা মহিলার চরিত্র। ‌‌‘ষড়রিপু’–তে সম্পূর্ণ কোকেনখোর। নাকে ফুটো, কানে ফুটো। ট্রু আরবান ক্যারেক্টারেও আমাকে ভাবা হয়েছে। 
 ‘‌ময়ূরাক্ষী’‌র অ্যাটেনডেন্ট, ‘‌গয়নার বাক্স’‌র কমলা না ‘‌জ্যেষ্ঠপুত্র’‌র মেজো— কোন কাজকে কত নম্বর দেবেন?‌
সুদীপ্তা:‌‌ কমলা গেস্ট অ্যাপিয়ারেন্স। মাত্র একটা সিনে ছিলাম। তার সঙ্গে আমার বাকি চরিত্রগুলোর তুলনা চলে না। ‘‌মেজো’‌, ‘ময়ূরাক্ষী’র অ্যাটেনডেন্ট বা ‘উড়নচণ্ডী’র বিন্দির চরিত্রে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ ছিল। নিজেকে রেট করতে পারব না। 
 বাড়িওয়ালির ‘‌মালতি’‌। সেরা সহ–অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। ঊনিশ বছর আগের চরিত্রটা আবার করলে কোথাও কিছু বদলাতেন?‌
সুদীপ্তা:‌‌ সবটাই হয়ত বদলে যেত। গত প্রায় কুড়ি বছরে আমি মানুষটাই তো অনেক বদলে গেছি। 
 বাবা বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর মৃত্যুর কিছুদিনের মধ্যে ‘জ্যেষ্ঠপুত্র’। সিনেমায় বাবার মৃত্যুর খবর শোনার পর আসল অনুভূতিটা তুলে ধরেছিলেন?‌ নাকি অভিনয়? 
সুদীপ্তা:‌‌ অভিনয় করিনি বললে ভুল হবে। অভিনয়ই উদ্দেশ্য ছিল। শট যখন শেষ হল তখন বুঝলাম আসল অনুভূতিটাই বেরিয়ে আসছে। ‘বাবা’ ডাকটা বলতে গিয়ে বুঝতে পারলাম, ডাকটা ভেতরে ছিল। শট শেষ হওয়ার অনেকক্ষণ পরেও কান্না থামেনি। 
 বাড়িওয়ালির ‘‌মালতি’‌ ঋতুদার কাছে বকুনি খেয়েছে?‌ দ্বিতীয়, ‘‌খাসখবর’‌ আবার শুরু হলে ডাক পেলে ফিরবেন?‌
সুদীপ্তা:‌‌ ঋতুদার কাছে বকুনি সেভাবে খাইনি। তবে ‌কেমন হয়েছে, জিজ্ঞেস করলে বকা খেতাম। আর ‘খাসখবর’এ ডাক পেলেও বোধহয় আর ফিরব না। খবর পড়তে শুরু করার পর চাউর হয়ে গিয়েছিল, ও ওই খবরের অফিসে চাকরি করে। অভিনয়টা আর করবে না। প্রচুর কাজ হারিয়েছিলাম। আর ঝুঁকি নিতে চাই না। 
 এখন সঞ্চালকরা চিৎকার করে কথা বলেন‌। সহ্য হয়?‌ দ্বিতীয়, দিদি বিদীপ্তাকে কখনও প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে?‌
সুদীপ্তা:‌‌ এখনকার সঞ্চালকরা কী বলেন, সেটাই বুঝতে পারি না। দোষদুষ্ট বাংলায় সবাই একভাবে কথা বলেন!‌ বেশ বাজে। আর দিদিকে প্রতিপক্ষ মনে হওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। 
 নাটক না করে যাঁরা অভিনয়ে এসেছেন, তাঁদের নিয়ে কোনও ছুঁতমার্গ আছে আপনার?‌ ভোটে দাঁড়াবেন কখনও?
সুদীপ্তা:‌‌ প্রথমত, কাউকে নিয়েই ছুঁতমার্গ নেই। এটা একটা মিথ যে, নাটক করে এলেই সে ভাল অভিনেতা। আর নাটক না করে এলে অভিনেতা নয়। এটা মানি না। বহু অভিনেতাই একে অসত্য প্রমাণ করেছেন। আর রাজনীতিতে নামা, ভোটে দাঁড়ানো বা কোনও দলের মুখপাত্র হয়ে সামাজিক কাজ–টাজ করার কোনও প্ল্যান এখনই নেই। পরে কী হবে জানি না। 
 স্বামী অভিষেক সাহার সঙ্গে ফ্লোরে কখনও ঝগড়া করেন?‌
সুদীপ্তা:‌‌ ঝগড়া তো সবসময়ই করি (‌‌হাসি)‌‌। তবে আমরা একসঙ্গে একটাই ছবি করেছি। ফ্লোরে ঝগড়ার কোনও অবকাশ ছিল না। 
 মেগা সিরিয়াল কি এই অভিনেত্রীর ধাতে সয়?‌
সুদীপ্তা:‌‌ অফার সারাক্ষণ আসে। তবে এখন মেগা সিরিয়াল করার মুডে নেই। যদি না সাংঘাতিক ভাল কোনও চরিত্রের অফার আসে। থোড় বড়ি খাড়া করে লাভ নেই। 
 ঋতুপর্ণ নাকি কৌশিক গাঙ্গুলি, কার সঙ্গে কাজ করা সহজ?‌
সুদীপ্তা:‌‌ দুটো দু’‌রকম। ঋতুদার সঙ্গে যখন কাজ করেছি, তখন বয়স অনেক কম। এখন আমি অলমোস্ট ভেটারেন। গোটা ইন্ডাস্ট্রি ‘‌দিদি–দিদি’‌ বলে। বুঝি, বয়স অনেকটাই বেড়ে গেছে (‌‌হাসি)‌‌। ঋতুদা আর কৌশিক গাঙ্গুলি দু’‌জনেই ভাল লেখেন। দু’জনেই ভাল অভিনেতা। টোনটা ধরিয়ে দেন। ধরতে পারলে যুদ্ধ জেতা সহজ।
 বাংলায় তো ‘‌দিদি’‌ মানে একজনই। তাই কি নিজেকে ‘‌দিদি’‌ ভাবতে আপত্তি আপনার?‌
সুদীপ্তা:‌‌ এই রে!‌ আমি এটা ভেবে কিন্তু কথাটা বলিনি। 
 সামনে কী কী কাজ আছে?‌
সুদীপ্তা:‌‌ কিছু নেই। বেকার। সত্যিই কোনও অফার নেই। সুদেষ্ণাদির সঙ্গে একটা ছবি করেছি। দু’‌তিন মাসের মধ্যেই সেটা রিলিজ হয়ে যাবে। তারপর আকাশের তারা গুনব (‌‌অট্টহাসি)‌‌।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top