সুকমল শীল
করোনায় কমেছে কাজ। দেশি–বিদেশি বহু টিভি–শো, সিনেমার বাংলা ডাবিংয়ের কাজ থমকে রয়েছে। ‌অনেক চ্যানেল এখনও বিভিন্ন শোয়ের পুনঃ‌‌সম্প্রচার করছে। বিদেশি সিরিয়াল, কার্টুন, অ্যানিমেশন, সিনেমা, বিজ্ঞাপন, অডিওবুক–সহ কণ্ঠ–অভিনয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কাজের সঙ্গে যুক্ত র‌য়েছেন কলকাতার প্রায় ২০০ শিল্পী। মার্চ মাসের মাঝামাঝি থেকে এঁদের বেশিরভাগেরই জীবন–জীবিকা চ্যালেঞ্জের মুখে। 
এখনকার কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে গোলপার্কের ‘‌সাউন্ড আইডিয়াজ’‌ রেকর্ডিং স্টুডিওর কর্ণধার তমালি মুখার্জি বললেন, ‘‌স্টুডিওর বন্ধ পরিবেশে কাজ করতে গেলে ঝুঁকি থাকে। ডাবিং শিল্পীদের কোনও সংগঠন নেই। অনেকে নিজস্ব ‘‌পপ গার্ড’‌, হেডফোন কিনে নিয়েছেন। চ্যানেলগুলো বাজেট কমানোর আভাস দিচ্ছে। কলকাতায় কম পয়সা দিয়ে কাজ করানো হয়। গত তিন মাসে তেমন কাজ হয়নি। অনেকে ঘরে বসে নানাভাবে কণ্ঠ দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। খুব একটা লাভ হচ্ছে না।‌ সাউন্ড রেকর্ডিংয়ে স্টুডিও একটা বড় ব্যাপার।’
স্টার জলসা মুভিজের কণ্ঠ–অভিনেতা দীপ বসু জানালেন, কলকাতায় কেউ চাকরি, কেউ বা ফ্রিল্যান্স কণ্ঠশিল্পী হিসেবে কাজ করে থাকেন। তিনি এটাকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। কণ্ঠ দিয়ে উপার্জনেই সংসার চলে। লকডাউনের জন্য তাঁর চুক্তিপত্রের নবীকরণ হয়নি। মুম্বইয়ের সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। কাজ চললেও চার মাস বেতন পাচ্ছেন না। ফ্রিল্যান্সারদের সমস্যা বেশি। মোবাইলে কাজ করতে বলা হয়েছে। ভাল মোবাইল না থাকায় সবাই পারছেন না। লকডাউনের আগে এপিসোড প্রতি দেওয়া হত ৩০০ টাকা। এখন ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। দীপের কথায়, ‘কলকাতার কণ্ঠ–‌অভিনেতাদের বড় অংশ থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত। অনেকে এসেছেন রেডিও থেকে। আমিও থিয়েটার কর্মী। রোজগারের জন্য কণ্ঠ–অভিনেতার কাজ করি। রেকর্ডিস্টদের পরিস্থিতিও বেশ খারাপ।’‌
কেয়া মুখার্জি লকডাউনে সান টিভির জন্য কয়েকটি দক্ষিণী, কালার্সের কিছু হিন্দি ধারাবাহিক, ক্রাইম পেট্রল, ফক্স লাইফ, ন্যাশনাল জিওগ্রাফির কিছু শোয়ের বাংলা ডাবিং করেছেন। কাজ করেছেন কয়েকটি অডিওবুকের। যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে। কিছু স্টুডিও, আকাশবাণী গাড়ি পাঠাচ্ছে। থার্মাল স্ক্যানিং করে ঢোকানো হচ্ছে। হেডফোন, মাইক্রোফোন স্যানিটাইজ করা হচ্ছে। কে সেভেন্টি সেভেন্টি, মহুল, প্রাইম ফোকাস–‌সহ কয়েকটি স্টুডিওতে কাজ করছেন। সানি লিওনির জীবন নিয়ে জি–তে ‘‌করণজিৎ কৌর’‌ শো–তে সানির মায়ের ভূমিকায় কণ্ঠ দিয়েছেন। তবে এখন মুম্বইয়ের কাজ কম।  
ফ্রিল্যান্স কণ্ঠ–অভিনেতা অভিষেক মুখার্জি জানালেন, এখন কালার্সের বিভিন্ন শো, বিভিন্ন হিন্দি–ইংরেজি কার্টুনের বাংলা ডাবিং বন্ধ। বেশিরভাগ ডাবিং স্টুডিও দক্ষিণ কলকাতায়। উত্তর কলকাতা থেকে যাতায়াতে সমস্যা হচ্ছে।
অভিনেতা ও কণ্ঠ–অভিনেতা নরেন ভট্টাচার্যের মতে, সিরিয়াল, সিনেমার তুলনায় ডাবিংয়ের পরিস্থিতি কিছুটা ভাল। তিনি ২০১১ সাল থেকে বাঁটুল দি গ্রেট–এর চরিত্রে কণ্ঠ দিচ্ছেন। আগে দক্ষিণী ছবির বাংলা ডাবিংয়ের কাজ করতেন। গার্গী হোড় চট্টোপাধ্যায় সমস্যা হলেও ঝুঁকি নিয়ে কাজ করছেন। বাড়িতে বসেই মোবাইলে রেকর্ড করে ভয়েস পাঠাচ্ছেন কণ্ঠশিল্পী দোয়েল মুখার্জি। জানালেন, মোবাইলে ভাল রেকর্ড হয় না। সমস্যা হচ্ছে। ছবিটি প্রতীকী

জনপ্রিয়

Back To Top