অলোকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
করোনা–‌আবহে ৪০ জনের ইউনিট নিয়ে ধারাবাহিকের শুটিং চলছে। স্যানিটাইজেশনে কোনও গাফিলতি নেই। মাস্ক আছে, দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে রীতিমাফিক। যে কয়েকজন শিল্পী, কলাকুশলী করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন, তঁাদের অধিকাংশই আবার কাজে ফিরেছেন। এই ‘‌নিউ নর্মাল’‌ পরিস্থিতিতে শুটিংয়ে অভ্যস্থ হয়ে গেছেন শিল্পী, কলাকুশলীরা। আতঙ্কের আবহ নেই। তাই সকলেই চাইছেন শুটিং ইউনিটের লোকসংখ্যা এবার বাড়ানো হোক। আর্টিস্ট ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় বললেন, বহু শিল্পীর এখন কাজ নেই ইউনিট ছোট রাখার জন্যে। আমরা চাইছি, তাড়াতাড়ি যেন ইউনিটে লোকজনের সংখ্যা বাড়ানোর অনুমতি পাওয়া যায়। আরও বহু কলাকুশলীও কাজের সঙ্গে যুক্ত হবেন তাহলে। সরকারের কাছে এই আবেদন রাখা হবে বলে জানালেন কলাকুশলীদের সংগঠন ফেডারেশনের সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসও।
তার আগে‌ আর্টিস্ট ফোরাম, ফেডারেশন, চ্যানেল ও প্রযোজক পক্ষ— চারটি সংগঠনকে বৈঠকে বসতে হবে। শান্তিলাল মুখোপাধ্যায় জানালেন, বাকি তিন পক্ষকেই আমরা চিঠি দিয়েছি বৈঠকে বসার জন্য। চার পক্ষের মধ্যে যাবতীয় নিয়ম–‌রীতি নিয়ে যে ‘‌এসওপি’‌ সই হয়েছিল তিন মাসের জন্য, তার মেয়াদ শেষ হয়েছে ১০ সেপ্টেম্বর। এখন তো পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টেছে। ২১ সেপ্টেম্বর থেকে তো ১০০ জনের জমায়েতেরও অনুমতি পাওয়া যাবে। তাই শুটিং ইউনিটের সংখ্যাও নিশ্চয়ই বাড়বে। চার পক্ষের মধ্যে যে চুক্তি বা ‘‌এসওপি’‌ সই হবে, সেখানেও কিন্তু নিয়ম বদলাবে। তারপর সরকারের কাছে আবেদন পৌঁছে দেওয়া হবে বলে জানালেন শান্তিলাল মুখোপাধ্যায়। স্বরূপ বিশ্বাস জানালেন, আগামী সপ্তাহের প্রথম দিকেই টেকনিশিয়ান্স স্টুডিওতে তঁারা বৈঠকে বসবেন। সেখানে ইউনিটের লোকসংখ্যা থেকে শুরু করে পারিশ্রমিক, সব কিছু নিয়েই আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এখন অনেক শিল্পীকে কম পারিশ্রমিক দেওয়া হচ্ছে পরিবর্তিত পরিস্থিতির জন্য। শান্তিলাল বললেন, পারিশ্রমিক না কমানোয় কেউ কেউ কাজ পাননি। যদি শুটিং ইউনিটে লোকজনের সংখ্যা বাড়ে, তাহলে অনেকে যেমন কাজও পাবেন, তেমনি ‘‌নিউ নর্মাল’‌ পরিস্থিতিতে শিল্পীরাও ঠিকঠাক পারিশ্রমিক পাবেন। সে জন্যেই তাড়াতাড়ি বৈঠকটা করে নতুন ‘‌এসওপি’‌ তৈরি করতে চাইছি আমরা— বললেন শান্তিলাল।
গল্পকার ও অন্যতম প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ইউনিটের সংখ্যা অনেকটাই বাড়বে এবার। মিটিংটা হয়ে গেলেই সবটা পরিষ্কার বোঝা যাবে। চার পক্ষের মিটিংয়ে যে সিদ্ধান্ত হবে, সেটাই সবাই মানবেন। আর, ইউনিটে লোকসংখ্যা বাড়ানোর প্রস্তাবটাও সরকারের কাছে পাঠানো হবে। সার্কুলার এলে সব ইউনিটের লোকসংখ্যাই বাড়বে। আর, এখন তো স্বাস্থ্যবিধি, স্যানিটাইজেশন নিয়ে সকলেই সতর্ক। আতঙ্কের পরিবেশটাই নেই। ফলে, শুটিংয়ের ক্ষেত্রে ‘‌নিউ নর্মাল’‌ যে অনেকটাই ‘‌নর্মাল’‌ হয়ে উঠবে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। এবং সব পক্ষই নিশ্চিত খুব শিগগিরই শুটিংয়ের ইউনিটে লোকসংখ্যা বাড়তে চলেছে। শিল্পী ও কলাকুশলীদের কাছে এটা নিঃসন্দেহে খুশির খবর, করোনা–‌আবহে নয়, পুজোর আবহে।

জনপ্রিয়

Back To Top