অদিতি রায়: • একদম সাধারণ চেহারা বা ডি-‌গ্ল্যাম লুকে অভিনয় করতে আলাদা কোনও মোটিভেশন লাগে?‌
•• আমি আসলে এভাবে ভাবিইনা। চরিত্রের প্রতি সৎ থাকি, চরিত্রটা হয়ে ওঠার চেষ্টা করি। আজকেই দেখলাম দীপিকা পাড়ুকোনের নতুন ছবির লুক, অ্যাসিড আক্রান্ত এক মেয়ের ভূমিকায়। দীপিকা তো সাঙ্ঘাতিক গ্ল্যামারাস। যদিও এই সংজ্ঞাটা খুবই আপেক্ষিক। আমি ব্যক্তিগত ভাবে দীপিকার ফ্যান। এর আগে কখনও কারুর ফ্যান হইনি। দীপিকা কত সুন্দর ভাবে নিজেকে উপস্থাপন করে। আসলে এখন সবাই চরিত্রই দেখতে চায়।
• ‘দুর্গা সহায়‌’‌ই হোক বা ‘‌ভিঞ্চি দা’‌, সব পরিচালকরাই কি চরিত্র হয়ে ওঠার জন্য আপনার ওপরই ভরসা করেন?‌
•• সেটা পরিচালকরাই বলতে পারবেন, কিন্তু আমি দেখেছি এই ধরণের চরিত্র আমার কাছে আসে।
• কখনও ভীষণ গ্ল্যামারাস চরিত্রে অভিনয় করতে ইচ্ছে হয়নি?‌
•• আমি এভাবে তো চরিত্র নির্বাচন করিনা। যেখানে অভিনয়ের সুযোগ থাকবে, দর্শকের চোখে পড়বে, কাজ করে আনন্দ পাব, এমন চরিত্রই বেছে নিই। আর আমি ব্যক্তিগত ভাবে চড়া মেকআপে কাজ করতে পছন্দও করিনা। মেকআপ বা কস্টিউম, সবটাই চরিত্রের অংশ। যদি চরিত্রের দাবিতে সুন্দরী হতে হয়, তাহলে সুন্দরী হব, যদি চরিত্রের খাতিরে আমার একটা চোখের ওপর বড় আঁচিল দরকার হয়, তাহলেও আমার আপত্তি নেই। মেকআপ মানে তো শুধু দেখতে সুন্দর বা গ্ল্যামারাস লাগা নয়, তার জন্য তো আমার বন্ধুর বিয়ে রয়েছে, পার্টি আছে, ছবির প্রিমিয়ার আছে (‌হাসি)‌!‌
• এখন তো বোটক্স করে সুন্দরী হওয়ার একটা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, আপনি করবেন?‌
•• আমি এটা নিয়ে ভেবেছি। দিনের কিছু সময় ব্যয়ও করেছি। এই যেমন আজকেই আমার এক বন্ধু, থিয়েটার করে, এখন ছবিতেও কাজ করছে, সে বলল, এই তুই এত গাঢ় লিপস্টিক লাগিয়েছিস কেন রে?‌ আমি ভাবলাম, আমি নর্মালি একটু লিপস্টিক লাগিয়েছি, এটাই ওর কাছে বেশি লাগছে!‌ তার মানে সাজগোজের কোনও নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। কাজেই যে বোটক্স করছে, সেটাই তার কাছে নর্মাল। জাজমেন্টাল হব কেন? তবে আমি এভাবে সুন্দর হতে চাইনা। আমার মুখে যে বয়সের ছাপ পড়ছে, সেটাকে আমি অভিজ্ঞতায় সুন্দর হয়ে ওঠা মনে করি। হ্যাঁ, বয়স বাড়ছে, এটা নিয়ে কি চিন্তিত হইনি?‌ হয়েছি। তখনই হয়েছি, যখন মনে হয়েছে, ইশ আমি আর কলেজ বা স্কুলের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করতে পারব না!‌ এই বয়সের মেয়েকে নিয়ে দারুণ একটা ছবি হলে, আমার কথা তো কেউ ভাববে না (‌হাসি)‌।‌ আবার বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য অনেক চরিত্র তো পাব। 
• নায়িকা মানেই সুন্দরী, ভোগ্যপণ্য, এমন দিন বাংলা ছবিতে শেষ হয়েছে তাহলে?‌
•• শুধু বাংলা ছবি কেন, গোটা দেশের সমস্ত আঞ্চলিক ছবিতেই এখন নায়িকা নয়, নারী চরিত্রের গুরুত্ব বেশি। দক্ষিণের এত বড় বাজেটের সব জনপ্রিয় ছবিতেও চরিত্র হয়ে ওঠাটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ।
• ‘‌ভিঞ্চি দা’‌-‌তে তোতলা মেয়েটা হয়ে উঠলেন কীভাবে?‌
•• এইটা নিয়ে আমার খুব চাপ ছিল। তোতলার চরিত্রে যাঁরাই অভিনয় করেছেন, কিছু না কিছু সমালোচনার মুখে পড়েছেন। কেউ বলেছে হয়নি, কেউ বলেছে বাড়াবাড়ি হয়েছে। সৃজিতদা আমাকে প্রথম যেদিন চিত্রনাট্য শুনিয়েছিল, একদম ওইরকম স্ক্যানিং করেই শুনিয়েছিল। ওটাই আমাকে চরিত্রের সংলাপ বলায় সুবিধে করে দিয়েছিল। আমি সৃজিতদার সংলাপ বলাটাই অ্যাডপ্ট করে নিলাম। এছাড়াও আমার কিছু পরিচিত, যাঁরা একটু আধটু স্ট্যামার করেন, তাঁদেরও ভালভাবে খেয়াল করেছি। তারপর নিজের মতো করে চেষ্টা করেছি। আমিও তো ছোটবেলায় রেগে গেলে তোতলা হয়ে যেতাম।
• ‘‌ভিঞ্চি দা’‌ তো মূলত রুদ্রনীল আর ঋত্বিকের ছবি। তাহলে আপনাকে চরিত্রটা আকর্ষণ করল কেন?‌
•• হ্যাঁ, এটা রুদ্রদা আর ঋত্বিকেরই ছবি। স্কিন প্রেজেন্স কম হলেও, আমার চরিত্রটা এই গল্পের একটা অংশ। ভাল লাগার একটা বড় কারণ, মেয়েটা বড্ড সাদামাটা। একটুও আকর্ষণীয় নয়। সে ভাল রাঁধতে পারেনা, ভাল গান গাইতে পারেনা, পড়াশুনাতেও ভাল না, জীবনে কিছুই করেনি, তাকে নিয়ে কেউ ভাবেও না। সে শুধু একজনকে ভালবেসেছে নিখাদ।
• এখানে আপনি রুদ্রনীলের বিপরীতে, আপনি তো আবার রুদ্রনীলের থেকে লম্বা, সেটা কি এখানে ম্যানেজ করার চেষ্টা হয়েছে?‌
•• না না, একদম যা, তাই দেখানো হয়েছে। বিরসাদার ‘বিবাহ অভিযান‌’‌-‌এও আমি রুদ্রনীলের বিপরীতে। সেখানে আবার ছেলেটা স্বপ্নই দেখত যে, ওর বৌ খুব লম্বা হবে (হাসি‌)‌।
• কোন চরিত্রে অভিনয়ের সাধ এখনও মেটেনি?‌
•• অনেক অনেক আছে এরকম। এই তো ‘‌গালি বয়’‌ দেখেই মনে হল, আহা, রণবীর সিংয়ের চরিত্রটা কী ফাটাফাটি (‌হাসি)‌! আর একটা ইচ্ছে ছিল বরাবর, একজন অ্যাথলেটের চরিত্রে অভিনয়। স্বপ্না বর্মণকে নিয়ে ছবিটা ফাইনালি হলে সে সাধ পূর্ণ হবে।
• এর জন্য প্রস্তুতি শুরু হয়েছে?‌
•• হয়েছে টুকটুক করে। আমার মতো করে ঘাম ঝরানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তারপর খেলাধুলোর টেকনিকাল দিকটায় ঢুকতে হবে।
• থিয়েটারও তো করছেন?‌
•• অর্ণ মুখোপাধ্যায়ের মহাভারতে দ্রৌপদীর ভূমিকায় অভিনয় করছি। দারুণ লাগছে (হাসি‌)‌। ‌আগেও থিয়েটার করেছি, ‘‌চেতনা’‌র সঙ্গে, পশ্চিমবঙ্গ নাট্য আকাদেমির সঙ্গে, ‘‌অবয়ব’-এর সঙ্গেও কাজ করেছি বেশ কিছুদিন।
• নিজের বিবাহ অভিযানটা হবে কবে?‌
•• (হাসতে হাসতে‌)‌ ওরে বাবারে!‌ চিত্রনাট্য লিখছি, পরিচালক পাইনি। কোনও প্রযোজকও টাকা দিচ্ছেনা!‌ বাজেটেই কুলোচ্ছেনা!‌ (‌বলতে বলতে গজদন্ত ঝিলমিলিয়ে হেসে গড়িয়ে পড়লেন সোহিনী)‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top