সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: • প্রথমেই অনেক শুভেচ্ছা টেলি আকাডেমির শ্রেষ্ঠ অভিনেতার সন্মান পাওয়ার জন্য।
•• আমি ভাবতে পারিনি সিরাজদৌল্লা চরিত্রের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরস্কার পাব। আমি মনে করি আমার হার্ড ওয়ার্ক এবং দর্শকের ভালবাসার ফল এই পুরস্কার। পুরস্কার সব সময় দায়িত্ব বাড়িয়ে দেয় ভালো কাজ করার।
• প্রথম ধারাবাহিক ‘‌আমি সিরাজের বেগম’‌ এর পর এবার ‘‌এখানে আকাশ নীল’‌। নতুন ধারাবাহিকেও লীড রোল। আপনার চরিত্র?
•• হ্যাঁ, দুটো ধারাবাহিকে পর পর দুটো লীড চরিত্র। ‘‌এখানে আকাশ নীল’‌ ধারাবাহিকে আমার চরিত্রটার নাম ডাক্তার উজান চ্যাটার্জি। এক জন নামকরা কার্ডিওলজিস্ট। শুধু ভারতের নয় বিশ্বের দশ জন কার্ডিওলজিস্টের এক জন। চরিত্রটি খুবই দৃঢ় এবং ডিসিপ্লিন্ড। উজান খুবই প্রফেশনাল এবং সব সময় চায় সব কিছু নিজের মতো হোক।
• সিরাজের অভিনয় এখনও দর্শকের মনের মধ্যে আছে। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে উজান চরিত্রে অভিনয় করাটা কতটা কঠিন ছিল?
•• সব সময় দুটো জিনিসের মধ্যে অনেক মিল থেকে যায়। যেমন সিরাজের ক্ষেত্রে আমার চরিত্রটা খুবই গম্ভীর ছিল। প্রেমের অভাব ছিল, ভালোবাসার অভাব ছিল। সিরাজ একজন ওয়ান ম্যান আর্মি ছিল। উজানের মধ্যেও কিছু সিমিলারিটি আছে। ওর জীবনেও ভালোবাসা নেই। কখনও ছিল না। বাবা সমরেশ চ্যাটার্জির নিজের ছেলে হয়েও দত্তক ছেলে পরিচয়ে বাঁচতে হচ্ছে এটাই ওর কাছে বড় ট্রাজেডি। এই ছোট ছোট মিল দিয়ে চরিত্রটা করতে অসুবিধা হয়নি। সিরাজদৌল্লা অষ্টাদশ শতাব্দীর, আর উজান চরিত্রটি একেবারে আধুনিক, এটাই বিশাল বড় চেঞ্জ। ডায়লগের চেঞ্জ আছে, স্টাইলের চেঞ্জ আছে। এই কারনে চরিত্রটা করতে অসুবিধা হচ্ছে না। আমি আগেও খেটেছি এখনও খাটছি। বাকিটা দর্শকের ভালবাসার উপরে।
• উজান চ্যাটার্জির চরিত্রে অভিনয়ের জন্য কি কি প্রস্তুতি নিতে হয়েছে? 
•• একজন কার্ডিওলজিস্টের ভূমিকায় অভিনয় করা। তার উপরে সার্জেন। খাটতে তো হয়ছেই। আমি লাকি যে আমার বেশকিছু বন্ধু ডাক্তার। তাদের কাছ থেকে অনেক কিছু জেনেছি। 
• দশ বছর আগে ‘‌এখানে আকাশ নীল’‌ দারুণ জনপ্রিয় হয়েছিল। তখনকার উজানের অভিনয়ের সঙ্গে আপনার অভিনীত উজানের একটা তুলনা আসবে?
• আমি মনে করি আমার ডিউটি হচ্ছে চরিত্রটিকে নতুন করে তুলে নিয়ে আসা, যাতে দর্শকদের সবার ভাল লাগে। আমি যাতে চরিত্রটিকে জাস্টিস করতে পারি। দর্শকদের ভালবাসাতে আমি আপ্লুত মনে হয় কিছুটা হলেও জাস্টিস করতে পেরেছি।
• সুপ্রিয়া দেবীর নাতি। এই পরিচয়টা আশীর্বাদ না বোঝা?
•• আমি জানি, আমি যে সুপ্রিয়া দেবীর নাতি, সেই পরিচয়টা মানুষ আমার গায়ে এঁটে দিতে পারেন। আমাকে সেই হিসাবে বিচারও করতে পারেন। কিন্তু আমার চোখে এই পরিচয়টা আমার প্লাস পয়েন্ট। নেগেটিভ ফ্যাক্টর নয়। এখনও পর্যন্ত যা কিছু অ্যাচিভ করেছি, নিজের পরিশ্রমে করেছি। কারও আত্নীয় হওয়ার সুবাদে নয়। তাই এই পরিচয় নিয়ে আমার কোনও দ্বিধা বা উদ্বেগ নেই। এই পরিচয় আমার কেরিয়ারে বাধা সৃষ্টি করেনি, করবেও না। (‌হাসতে হাসতে)‌ আশা করি, তাঁর অভিনয়ের সঙ্গে কেউ নিশ্চয়ই আমার তুলনা করতে আসবেন না। তাছাড়া দিদাকে কখনও আমি সেলিব্রিটি বা বিখ্যাত অভিনেত্রী হিসাবে দেখিনি। আমার কাছে সুপ্রিয়া দেবী শুধুই আমার দিদা।
• দিদার সঙ্গে কাটানো কোন স্মৃতি আজও উজ্জ্বল হয়ে আছে? 
•• দিদা বেঁচে থাকলে আমাকে এই ইন্ডাস্ট্রিতে দেখে খুব খুশি হতেন। দিদার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি আছে। দিল্লি থেকে কলকাতায় আসার পর দিদার সঙ্গে বসে প্রচুর সিনেমা দেখতাম। বাংলা, হিন্দি, ইংরেজি সব রকম। তবে বেশি দেখতাম ইংরেজি সিনেমা। প্রতিদিন লাঞ্চের পর আমরা একসঙ্গে বসতাম। দিদা বলত, বনা (আমার ডাক নাম) নতুন একটা ইংরেজি সিনেমা দেখা। তাই করতাম। তার পর দু’জনে মিলে বসে চুপ করে সিনেমা দেখতাম। সেই সময় কেউ কোনও কথা বলতাম না, যতক্ষণ না ছবিটা শেষ হয়! সেই মুহূর্তগুলো খুব মিস করি। ছবি শেষ হলে দিদা বলত, বনা যুগটা অনেক পালটে গেছে রে। অভিনয় থেকে পরিচালনা, কোনও কিছুই আর আগের মতো নেই। এখন সব কিছু খুব সাট্‌ল। খুব রিয়েলিস্টিক। চড়া কিছু নয়। আর সেটা ভাল। দিদা খুব প্রশংসা করতেন।
• দিদাকে কতটা মিস করেন?
•• মিস করি বলতে, আমি যখনই নতুন কোন স্টেপ নিই তখনই আমি এটা মনে করি যে দিদা আমার পাশে আছে। যেখানে যাই আমি ওঁকে সঙ্গে সঙ্গে নিয়ে চলি।
• দিদার সঙ্গে উত্তমকুমার প্রসঙ্গে কথা হয়েছে?
•• দিদা খুব বেশি কথা বলতেন না। আমিও অনেকটা তেমনই। তবে মাঝে মাঝে বলতেন, উত্তমকুমারকে তিনি কতটা ভালবাসতেন। দিদার কথা শুনে মনে হত, তিনি উত্তমকুমারকে অন্ধভাবে ভালবাসতেন। ওঁর ভালবাসাটা সত্যি ছিল। স্বচ্ছ ছিল। এরকম ভালবাসা দেখা যায় না। 
• অভিনয়ে আসা কীভাবে?
•• আমার ছোট বেলা থেকেই কেটেছে নৈনিতালে। স্কুলিং সেখানেই । দিল্লি থেকে ফাইন আর্টসে ডিপ্লোমা করেছি। কিন্তু অভিনয় করার ইচ্ছেটা ছোটবেলা থেকেই ছিল। দিদাও খুব উৎসাহ দিতেন। আগে মডেলিং করতাম। তার পর অভিনয়ের অফার পেয়ে টুকটাক কিছু ছবির কাজ করি। ছোট ছোট ছবির কাজ করলেও প্রথম ব্রেক ‘‌আমি সিরাজের বেগম’‌ ধারাবাহিকে । অডিশন দিয়েছিলাম রোলটার জন্য। ভাবতে পারিনি নির্বাচিত হব।
• এখন কোন কোন ছবির কাজ আছে?
•• এই মুহূর্তে কিছু নয়। কেবল স্টার জলসার ‘‌এখানে আকাশ নীল’‌ এর উজানে ডুবে থাকা।

স্মৃতি সততই সুখের। দিদা সুপ্রিয়া দেবীর সঙ্গে শন। ছবি:‌সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top