সৌগত চক্রবর্তী: ‌‌• আপনার নতুন ছবি ‘‌উড়ান’-‌এ আর্সেনিকমুক্ত জলের কথা বলা হয়েছে। কীরকম এই ছবির গল্প?‌
•• গল্পটা একটা মেয়ের লড়াইয়ের গল্প। মেয়েটাকে প্রথমে জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীকালে বৃহত্তর মানুষের স্বার্থে লড়াইতে নেমে মেয়েটি কিন্তু জয়ী হয়ে ওঠে। তাই নিয়েই এই ছবির গল্প। মেয়েটির ভূমিকায় অভিনয় করেছে শ্রাবন্তী। এছাড়াও একাধিক ভাল অভিনেতা রয়েছেন। এই ছবির সাপোর্টিং অ্যাক্টররাও কিন্তু দারুনভাবে এই ছবিকে সাপোর্ট করেছেন।
• এই ছবি করতে গিয়ে কোন বিষয়টা আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে হয়েছে?‌ 
•• গল্পটা একটা সোশ্যাল ইস্যু নিয়ে। অনেক সময়েই বলা হয় আপনারা অভিনেতা-‌অভিনেত্রীরা বিভিন্ন সামাজিক ইস্যু নিয়ে কথা বলছেন না কেন?‌‌ আসলে আমাদের বক্তব্য আমরা আর্ট ফর্মের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করি। এই ছবিটা কিন্তু আজকের দিনে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক একটা ছবি। যখন একের পর এক মেয়ের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাদের পুড়িয়ে মারা হচ্ছে সেই সময়ে এই ছবি খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
• এই ছবিতে আপনার অভিনীত চরিত্রটা কেমন?‌
•• আমার চরিত্রের নাম রোমিত। একজন বড় ব্যবসায়ী। আজকের দিনে দাঁড়িয়ে কোনও একটা লড়াই করার জন্য যেমন দরকার সদিচ্ছা আর সাহস তেমনই দরকার অর্থ আর ক্ষমতা। আমার চরিত্রটা মেয়েটির পাশে সেই অর্থ আর ক্ষমতা নিয়ে দাঁড়ায়। এবং দুজনে একসঙ্গে লড়াইটা শুরু করে। আর এই লড়াইটা চলাকালীন দুজনের মধ্যে একটা মিষ্টি সম্পর্ক তৈরি হয়।
• বেশিরভাগ সময়েই দেখা গেছে ছবিতে ইস্যুর কথা বলতে গিয়ে সেই ছবি প্রচারমূলক হয়ে উঠছে। সেদিক থেকে এই ছবি কতখানি আলাদা?‌
•• এই মূহূর্তে দাঁড়িয়ে যদি আমরা একটু ভাল করে দেখি যে ধরনের বাংলা ছবি হচ্ছে তাতে প্রায় সব ছবিতেই কিছু না কিছু সামাজিক সমস্যার কথা রয়েছে। সেটাই হওয়া স্বাভাবিক। কারণ, আমাদের চারপাশে এত ঘটনা ঘটে চলেছে, সেই ঘটনাগুলোর মধ্যে ছবি তৈরির প্রচুর উপকরণ রয়েছে। আগে সিনেমা ছিল লার্জার দ্যান লাইফ। আর এখন সিনেমা কনটেন্ট ড্রিভেন। এই ছবিটাও যেহেতু কনটেন্ট প্রধান তাই আমার মনে হয় তা মোটেই জ্ঞান দেওয়ার মত হবে না।
• এই ছবির আউটডোর শুটিং করতে গিয়ে সেখানকার মানুষের মধ্যে কি এই সচেতনতা লক্ষ্য করেছেন?‌
•• কলকাতা থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে একটা জায়গায় আমরা শুটিং করেছি। সেখানে একটা সরকারি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টও রয়েছে। তবু আমাদের বলে দেওয়া হয়েছিল সেই এলাকার জল খাওয়া তো দূরের কথা, হাত পর্যন্ত ধোবেন না। এতটাই স্ট্রংলি আর্সেনিক অ্যাফেকটেড এরিয়াতে আমরা শুটিং করেছি। অবস্থা যে কতখানি সিরিয়াস তা ওখানকার মানুষের সঙ্গে কথা বলে বুঝতে পেরেছি। ওখানকার বেশ কিছু মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত। ওখানকার মানুষ শুধু যে এই বিষয়ে ওয়াকিবহাল তাই নয়, খুব অ্যাকটিভ একটা পার্টিশিপেশনও ছিল তাঁদের। এবং এরকম একটা ছবি হচ্ছে জেনে তাঁরা খুবই আপ্লুত কারণ তাঁদের দুর্দশার কথাটা এবার ছবির মাধ্যমে বাইরের পৃথিবীর মানুষ জানতে পারবে।
• ‘‌আগুনের পরশমণি’‌ ছবিতে আপনার বাবার সঙ্গে আপনার অভিনয় করার কথা.‌.‌.‌
•• না, আমি ছবিটা করছি না। কারণ আমি ডেট দিতে পারিনি। তবে বাবা ওই ছবিটায় করছেন।
• এই বছর আর কী কী ছবি আছে আপনার?‌
•• জানুয়ারিতে আমার একটা ওয়েব সিরিজ আসছে হৈচৈ-‌তে। এছাড়া পার্থসারথি জোয়ারদারের ‘‌অপহরণ’‌ ছবিটা এবছর মুক্তি পাবে। এই মুহূর্তে পার্থদারই আরেকটা ছবির শুটিং করছি। নাম ‘‌ভোরের পাখি’‌। কমল রায়ের পরিচালনায় ধানবাদের কোল মাফিয়াদের নিয়ে একটা ছবির শুটিং চলছে, আর সুমন মৈত্রর ‘‌ইচ্ছা উড়ান’‌ ছবিতেও অভিনয় করছি। ফলে এখন ‘‌উড়ান’‌ সিরিজ আমার পিছু ছাড়ছে না।
• এই মূহূর্তে গোটা দেশ উত্তাল এন আর সি নিয়ে, জে এন ইউ-‌তে হামলা নিয়ে। আপনার বক্তব্য কী?‌
•• যে কোনও ছাত্র বা ছাত্রীর ওপর শারীরিক নিগ্রহের আমি তীব্র নিন্দা করি। একটা দেশের ভবিষ্যৎ তার ছাত্ররা। কোনও সরকারের উচিত নয় তাদের লাঠি মারা বা মাথা ফাটিয়ে দেওয়া। এই ঘটনার প্রতিবাদ করার অধিকার সব মানুষের আছে। আমাদের সংবিধানেই সেই অধিকার দেওয়া আছে। আর ভারতবর্ষ তো কোনও ইসলাম কান্ট্রি নয়, হিন্দু কান্ট্রিও নয়, জৈন কান্ট্রি নয় বা খ্রিষ্টান কান্ট্রি নয়, ভারতবর্ষ একটা সেকুলার কান্ট্রি। ফলে সেখানে বিভিন্ন জাতের, বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে সহাবস্থান করছেন সেই প্রাচীনকাল থেকেই। এটাই ভারতের ঐতিহ্য। এই ঐতিহ্যকে ভেঙে ফেলা বা বদলে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। আর এন আর সি-‌কে আমি কখনওই সমর্থন করি না।‌

ছবি:‌ বিপ্লব মৈত্র

জনপ্রিয়

Back To Top