সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

বাংলা সঙ্গীতজগতে আবারও ছন্দপতন। প্রয়াত হলেন বাংলা ব্যান্ড ‘‌মহীনের ঘোড়াগুলি’‌র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং নাট্যকর্মী রঞ্জন ঘোষাল। বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৫টায় বেঙ্গালুরুর বাড়ি ‘‌হলুদ সাবমেরিন’‌–এ মৃত্যু হয় তাঁর। রেখে গেলেন স্ত্রী সঙ্গীতা ও দুই ছেলে ইন্দ্রায়ুধ ও অভিমন্যুকে।
রঞ্জন ঘোষালের জন্ম ১৯৫৫ সালের ৭ জুন বর্ধমানের মেমারিতে। বাবা তারাপদ ঘোষাল, মা লীলা ঘোষাল। বাবা ছিলেন দুঁদে গোয়েন্দা অফিসার। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক হন রঞ্জন। পরে মুম্বইয়ের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং থেকে শিল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে পিএইচডি করেন। কাজ করেছেন ভেল–এর মতো সংস্থায়।
গৌতম চট্টোপাধ্যায়ের প্রথম ব্যান্ড ‘সপ্তর্ষি’র অন্যতম সদস্য ছিলেন রঞ্জন। ১৯৭৫–এ ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’ ব্যান্ডের প্রথম দিন থেকে ছিলেন রঞ্জন ঘোষাল। বেশ কিছু গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলা, আর্ট ওয়ার্কগুলি রেকর্ড রাখা, অ্যালবামের কভার ডিজাইন এবং প্রচারের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। মহীনের ঘোড়াগুলির বেশ কিছু গানের গীতিকার ছিলেন রঞ্জন। প্রথম অ্যালবাম ‘‌সংবিগ্ন পাখিকুল’–এর ‘‌ভেসে আসে কলকাতা’‌, এছাড়া ‘‌রানওয়ে’‌, ‘‌সুধীজন’‌, ‘অজানা উড়ন্ত বস্তু’‌র মতো গানগুলি রঞ্জন ঘোষালেরই লেখা। পাশাপাশি ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় কবিতা, গল্পও লিখেছেন। নাটক ও চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য রচনা করেছেন। শেষ গল্পগ্রন্থ দে’জ থেকে অণুগল্পের বই। বেঙ্গালুরুতে সক্রিয় নাট্যকর্মী হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। মারীচ অ্যাডভার্টাইজিং নামে বিজ্ঞাপনী সংস্থা স্থাপন করেন বেঙ্গালুরুতে। পরবর্তী দশকগুলিতে ‘মহীনের ঘোড়াগুলি’র জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে রঞ্জন ঘোষালের ভূমিকাও বিশেষভাবে উল্লেখ্য। বেঙ্গালুরুতে রক কনসার্ট ‘রিমেম্বারিং মহীনের ঘোড়াগুলি’ এবং কলকাতায় ‘আবার বছর ত্রিশ পরে’ শিরোনামে একটি কনসার্টের আয়োজন করে শিরোনামে আসেন।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top