বিনোদনের প্রতিবেদন:‌ এবার পুজোয় মুক্তি পেল চারটি বাংলা ছবি। ‘‌গুমনামী’‌, ‘‌পাসওয়ার্ড’‌, ‘‌সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’‌ আর ‘‌মিতিন মাসি’‌। আশঙ্কা ছিলই, হল পাওয়ার সমস্যা হবে ঋত্বিক-‌টাইগারের ‘‌ওয়ার’‌-‌এর জন্যে। কিন্তু পুজোর সপ্তাহে যথেষ্ট সংখ্যক হল পেয়েছে চারটি ছবিই। পুজোর মধ্যেই মোটামুটি স্পষ্ট হয়ে যাবে, কোন ছবি দর্শকের কতটা মন জিতে নিল। 
গুমনামী
‌মনের মানুষ’‌ ছবি থেকেই নিজেকে ক্রমশ ভাঙছেন আর গড়ছেন প্রসেনজিৎ। ছবিতে নিজের লুক নিয়ে চিন্তা-‌ভাবনা করছেন, বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ নিচ্ছেন। তবে এবার তিনি যে চ্যালেঞ্জটা নিলেন তা সম্ভবত সেরা। এবার সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘‌গুমনামী’‌ ছবিতে সুভাষচন্দ্র বসুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘‌মনের মানুষ’‌-‌এর মুখ্য চরিত্র লালন ফকির বাস্তব চরিত্র হলেও তাঁর চেহারার সঙ্গে পরিচিত ছিলেন না আমজনতা। অন্যদিকে ‘‌অটোগ্রাফ’‌ বা ‘‌বাইশে শ্রাবণ’‌ ইত্যাদি ছবি গুলিতে নিজের লুক পরিবর্তন করলেও সেই সব চরিত্রই কাল্পনিক। কিন্তু সুভাষচন্দ্র বসুর চেহারার সঙ্গে পরিচিত নন, এমন মানুষ ভূ-‌ভারতে কেউ নেই। তাই সেই চরিত্রে অভিনয় করে তাকে দর্শকের সামনে প্রতিষ্ঠিত করা যে বেশ চ্যালেঞ্জের তাতে কোনও সন্দেহ নেই। সেই চ্যালেঞ্জই এবার নিলেন প্রসেনজিৎ। ছবিতে তাঁকে দেখা যাবে একদিকে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসু ও গুমনামী বাবার ভূমিকায়। ৫০-‌এর দশকে অযোধ্যায় সাধু হিসেবে যাঁর আবির্ভাব। এই ছবিতে প্রসেনজিৎ ব্যবহার করেছেন প্রস্থেটিক মেক আপ। ছবিতে পাওয়া যাবে আরও কয়েকটি ঐতিহাসিক চরিত্রকে। যেমন জওহরলাল নেহরুর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন সঞ্জয় মতিলাল গুরুবক্সানী, মহাত্মা গান্ধীর চরিত্রে দেখা যাবে সুরেন্দ্র রাজনকে। 
পাসওয়ার্ড
‌এবার ডি সি পি রোহিত দাশগুপ্তর ভূমিকায় দেব। তাঁর পুজোর ছবি ‘‌পাসওয়ার্ড’-‌এ তাঁর এই ভূমিকা। কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় এই ছবি সাইবার ক্রাইম নিয়ে।  ‘‌আমরা নিজেরাও জানি না, যতই ডিজিট্যাল প্রযুক্তির উন্নতি ঘটছে আমরা কীভাবে সেই জালে জড়িয়ে পড়ছি। স্মার্ট ফোন বা কম্পিউটার ব্যাবহার করার কারণে আমাদের সব তথ্যই আমাদের অজান্তেই জমা হয়ে যাচ্ছে ক্লাউডে। আর সেখান থেকেই বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা ঘটে চলেছে। প্রত্যেক মানুষের সব তথ্যই ফাঁস হয়ে যাচ্ছে হ্যাকিং চক্রের কাছে’‌, বলেছেন দেব। এই ছবির গল্প এক আন্তর্জাতিক হ্যাকিং চক্র নিয়ে। যাদের নাম ‘‌ওনিয়ন’‌। এই চক্রের নেতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। আর এই কাজে তাঁর সঙ্গী পাওলি দাম। অন্যদিকে এই হ্যাকিং চক্রর রহস্য ফাঁস করার জন্য দেশে-‌বিদেশ বিভিন্ন প্রান্তে ছুটে বেড়াচ্ছে দাপুটে পুলিস অফিসার রোহিত শর্মা। আর এই কাজে তাঁকে সাহায্য করছে হ্যাকিং বিশেষজ্ঞ রুক্মিনী মৈত্র ও আদৃত রায়। 
সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ
এর আগে অঞ্জন দত্তর পরিচালনায় ‘‌ব্যোমকেশ বক্সি’‌র চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন আবির চট্টোপাধ্যায় ও যিশু সেনগুপ্ত। এবার সেই চরিত্রে নতুন সংযোজন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। সঙ্গে আছেন নতুন অজিত রুদ্রনীল ঘোষ। এবং সেই ছবিতেও ক্রিয়েটিভ প্রোডিউসারের ভূমিকায় আছেন অঞ্জন দত্ত। শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌মগ্নমৈনাক’‌ অবলম্বনে এই ছবির পরিচালক অবশ্য সায়ন্তন ঘোষাল। আসল গল্প ছিল সদ্য স্বাধীনতা উত্তর ভারতের। কিন্তু এই ছবির প্রেক্ষাপটে আছে ভারত‌-‌বাংলাদেশ যুদ্ধ ও নকশালবাড়ি আন্দোলন। কাজেই এই ছবিতে হেনা মল্লিকের খুন ও তার রহস্য সন্ধানের পাশাপাশি থাকছে সেই সময়ের রাজনৈতিক আবহও। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষ ছাড়াও এই ছবিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন গার্গী রায়চৌধুরি ও সুমন্ত মুখোপাধ্যায়। 
মিতিন মাসি
ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালনায় ‘‌শুভ মহরৎ’‌ ছবির ‘‌রাঙা পিসিমা’‌র ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন রাখী গুলজার। ছবিতে একটি খুনের সমাধান ঘরে বসে বসেই করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই অর্থে এই চরিত্রকে কখনওই পরিপূর্ণ একটি মহিলা গোয়েন্দার ভূমিকা বলা যায় না। সেই হিসেবে বাংলা সিনেমায় প্রথম পুরদস্তুর মহিলা গোয়েন্দা চরিত্রে দেখা যাবে কোয়েল মল্লিককে। সুচিত্রা ভট্টাচার্য সৃষ্ট গোয়েন্দা ‘‌মিতিন মাসি’‌র চরিত্রে অভিনয় করেছেন তিনি। ‘‌হাতে মাত্র তিনটি দিন’‌ অবলম্বনে এই ছবির পরিচালনায় আছেন অরিন্দম শীল। ছবিতে অভিনয় করেছেন বিনয় পাঠকও। আছেন শুভ্রজিৎ দত্ত ও জুন মালিয়া। ছবিতে মিতিন মাসি নারী স্বনির্ভরতার প্রতীক হয়ে উঠেছে। ছবিতে রীতিমতো অ্যাকশনও করেছেন কোয়েল মল্লিক। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top