অদিতি রায়: • আপনাকে কী বলব, কলকাতার অভিনেত্রী, নাকি বাংলাদেশের?‌
•• (‌হেসে)‌ আমি বাঙালি অভিনেত্রী। কলকাতায় কাজ করলে আমার কখনও মনে হয়না, অন্য কোথাও এসে কাজ করছি। কারণ আমার প্রথম ছবি ‘আশিকী‌’‌ কলকাতার, অঙ্কুশের সঙ্গেই। বরং বাংলাদেশে কাজ করতেই আমার মাঝে মধ্যে অসুবিধে হয়। আমার ১০-‌টা ছবির মধ্যে, ৭-‌টাই কলকাতার। কলকাতার অনুপাতটা বেশি হওয়ার কারণে আমি এখানেই বেশি স্বচ্ছন্দ। এখানে যখন আসি, কাজের জন্যই আসি, ২৪ ঘণ্টা কাজেই থাকি। তবুও মনে হয় নিজের ঘরেই এসেছি।
• এখানে এসে হোটেলে থাকেন কেন?‌ নিজের একটা আস্তানা বানিয়েই নিতে পারেন।
•• না, আমি খুব অলস। কে আমার বাসা পরিষ্কার করবে?‌ তার থেকে হোটেলই ভাল। এক হুকুমেই সব হাতের কাছে। আমাকে নুন ছাড়া খাবারও তৈরি করে দেয় এরা। এটাই বেস্ট অপশন (‌হাসি)‌।
• অলস যখন, তখন অভিনেত্রীর পেশাটা বাছলেন কেন?‌ 
•• আমার জীবনে বেশ কিছু ফেজ আছে। আমি দেড় বছর টানা বিতর্কে অংশ নিয়েছি, তারপর হোস্টিং করেছি। মডেল, বা আর-‌জে হিসেবেও কাজ করেছি। তখনও আমি নিশ্চিত ছিলাম না আসলে আমি কী চাই। সেই সময় একটা ছবির অফারও পেয়েছিলাম। রাজিও হলাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ছবিটা হয়নি। তাতে আমি খুব ডি-‌মোটিভেটেড হয়ে গিয়েছিলাম। তারপর যখন ধানুকারা আমার কাছে ‘‌আশিকী’‌র প্রস্তাব নিয়ে আসেন, তখন ভাবলাম একটা শেষ চেষ্টা করে দেখা যাক। এভাবেই শুরু হল।
• বাড়ি থেকে সাপোর্ট পেলেন?‌
•• প্রথমে কোনও সাপোর্টই পাইনি। মিডিয়া নিয়ে রক্ষণশীলতা আমার পরিবারে বরাবরই ছিল। ধীরে ধীরে ওঁরা বুঝলেন আমার কাজটাও সম্মানজনক। অবশ্য এটা বুঝতে ওঁদের সময় লেগেছিল আমার পঞ্চম ছবিটা পর্যন্ত (‌হাসি)‌। পঞ্চম ছবিটার সময় মা-‌কে বলেছিলাম, এস আমার সঙ্গে, তাহলে বুঝতে পারবে কতখানি কষ্ট করি আমি!‌
• মা কলকাতাতে আসেন?‌
•• না না, জীবনে ওই একটা ছবিতেই গিয়েছিলেন আমার সঙ্গে। মায়ের একটাই বক্তব্য, যা-‌ই করোনা কেন, ভাল সার্টিফিকেট জরুরি এবং বাড়ি ফিরে পড়াশোনায় মন দিতে হবে!‌
• কী বিষয় নিয়ে পড়াশোনা করছেন?‌
•• লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন নিয়ে পড়ছি।
• ল’‌ইয়ার অভিনেত্রী তো প্রযোজকদের মাথা খারাপ করে দেবেন!‌
•• (‌হাসতে হাসতে)‌ তা একটু তর্ক-‌বিতর্ক হয় বৈকি!‌ তবে আমাকে ভয় পায়না কেউ, সবাই সম্মান করে, আদর করে।
• ‘বিবাহ অভিযান‌’‌-‌এ ইন্টারেস্টিং বিষয়টা কী?
•• এসভিএফের সঙ্গে আমার প্রথম যোগাযোগ ‘পটাকা‌’‌ গানটার মাধ্যমে। আমি সঙ্গীতবাংলা চ্যানেলের একনিষ্ঠ দর্শক ছিলাম। আমি চেয়েছিলাম আমার গান এই চ্যানেলে দেখানো হোক। আমি তখন কাউকে চিনতাম না। আমি ভোর সাড়ে পাঁচটায় একদিন মণিদাকে (মহেন্দ্র সোনি‌)‌ টুইটারে মেসেজ করে, গানটা শোনার অনুরোধ করেছিলাম। উনি শুনেছিলেন, তারপর সেটা ভিডিও হওয়ার পর সঙ্গীতবাংলাতে চলেওছিল। এর জন্য আমি সারাজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। তারপর আমার কাছে এই ছবির প্রস্তাব আসে। আমি না বলার জায়গাতেই ছিলাম না। তার ওপর অঙ্কুশের বিপরীতে। ও তো আমার প্রথম হিরো (‌হাসি)‌। আমার কৃতজ্ঞতা জানানোর এটা একটা প্রয়াস বলতে পারেন। তা ছাড়াও ছবির গল্প এবং আমার চরিত্রটাও দারুণ।
• কলকাতায় কোন নায়কের সঙ্গে আপনি সবথেকে কমফর্টেবল?‌
•• আমি বেশির ভাগ কাজ জিৎ দা’‌র সঙ্গে করেছি। সেই কমফর্ট লেবেলটা তো আছেই। ওঁর সঙ্গে কাজ করাটাই একটা অভিজ্ঞতা। ওম, অঙ্কুশের সঙ্গেও স্বচ্ছন্দ। আসলে আমি সবার সঙ্গেই কমফর্টেবল। নিজেকে ওই জোনটায় না নিয়ে গেলে কাজ করাটাই মুশকিল হবে।
• অন্য হাউসের সঙ্গে কাজ করবেন না?‌
•• অবশ্যই। আমি তো সবার সঙ্গেই কাজ করতে রাজি। শুরু করেছিলাম এসকে মুভিজের সঙ্গে। তারপর জিৎ দা’‌র প্রোডাকশনে কাজ করলাম। এবার এসভিএফের সঙ্গেও কাজ হয়ে গেল। বাংলাদেশেও আমি নানা প্রোডাকশন হাউসের সঙ্গে কাজ করছি।
• কোন নায়িকা সবথেকে প্রিয়?‌
•• আমি ভীষণ পছন্দ করি কোয়েল মল্লিককে। ওঁর ছবি দেখে আমি বড় হয়েছি। ওঁর হাসি, ওঁর চুল, জাস্ট ওয়াও!‌
• মূলধারার ছবির বাইরে অন্যধারার ছবিতে কাজ করতে ইচ্ছুক?‌
•• আমি আগে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছি। সবাই জানুক নুসরত ফারিয়া নামের একজন অভিনেত্রী আছেন। গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে একটা সময় তো লাগে। তাই পরপর কাজ করে গেছি। এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আমি এমন একটা জায়গায় পৌঁছতে পেরেছি যে, এবার আমি নিজের পছন্দ মতো কাজ বেছে নিতে পারি। বাংলাদেশেই আমার পরের ছবিটা একদমই নারীকেন্দ্রিক। দর্শক এখন বাস্তবসম্মত ছবিই দেখতে চান। ছবির ক্ষেত্রে পুরোপুরি বাণিজ্যিক বা পুরোপুরি পরীক্ষামূলক না হয়ে, মাঝামাঝি একটা অবস্থান নেওয়া উচিত বলে আমার মনে হয়।
• কলকাতার আর এক নামী নায়িকার নামও নুসরত। নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে গিয়ে এটা কোনও প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেনি?
•• নামে কী বা আসে যায়?‌ রণবীর কাপুর এবং রণবীর সিং দুজনেই সুপারস্টার, একই সময়ে। আমাদের কাজ আমাদের আইডেনটিটি তৈরি করে দেয়।
• কোনও স্বপ্নের চরিত্র আছে?‌
•• না সেরকম কিছু নেই। যে কোনও চরিত্রেই মজা পেতে হবে, তাহলেই সেটা স্বপ্নের মতো হয়ে যাবে!‌
• বলিউড কি স্বপ্নের তালিকায় আছে?‌
•• ওখানে বিজ্ঞাপনে কাজ করে এলাম দুদিন আগেই। ছবি সংক্রান্ত কথাবার্তাও হয়েছে। তবে আমি কোয়ান্টিটির থেকে কোয়ালিটিতে বিশ্বাস করি। কাজেই ভাল প্রস্তাবের অপেক্ষায় আছি আপাতত।
• কোনও বিশেষ বন্ধু আছে জীবনে, নাকি তারও অপেক্ষায় আছেন?‌
•• আমি ১৫ বছর বয়স থেকে কাজ করি। এখন আমি ২৪। কাজ করেই চলেছি। প্রেম করার সময়টাই পেলাম না!‌
• এটা তো সবাই বলে। প্রেম কি সময় দেখে আসে, নাকি হয়ে যায়?‌
•• (‌হাসতে হাসতে)‌ শিল্পী হলে, জীবনে প্রেম অনিবার্য। সেটা কীভাবে আছে সেটাই ধাঁধা।
• জীবনে আর কী চাওয়ার আছে?‌
•• আমি নিজের স্বপ্ন পূরণ করেছি, নায়িকা হয়েছি। এবার আমার মায়ের স্বপ্ন পূরণ করার পথে এগোচ্ছি। আমাকে ব্যারিস্টার হতেই হবে। তখন দুটো স্বপ্ন নিয়েই সমন্তরাল হবে আমার জীবনের জার্নি (‌হাসি)‌। ‌ ‌  

জনপ্রিয়

Back To Top