সঙ্কর্ষণ বন্দ্যোপাধ্যায়: • অভিনয় জগতে এলেন কীভাবে?‌
•• একেবারেই হঠাৎ করে। সেটা ছিল ২০০৯-‌এর ঈদ। ঢাকা যাওয়ার পথে যশোর বাসস্ট্যন্ডে দেখা হল বাংলাদেশ টেলিভিশনের জনপ্রিয় পরিচালক ফিরদৌস হাসান রাজার সঙ্গে। তিনিই আমার মাথায় অভিনয়ের পোকাটা ঢুকিয়ে দিলেন। সেদিন তাঁর সঙ্গে দেখা না হলে হয়তো আমি বাংলাদেশের একজন আর্মি অফিসার হয়ে উঠতাম।
• আর্মি অফিসার কেন?‌
•• আসলে আমার পরিবারের সকলেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে যুক্ত। বাবা গাজি আব্দুল মান্নান এবং মা সাজেদা মান্নান একসময়ে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই তাই সেনাবাহিনীর পোষাকটা আমার খুব প্রিয় ছিল। কিন্তু সেনাবাহিনী সম্পর্কে আমার সেই আকর্ষণ ২০০৯-‌এর একটা ঘটনায় ভেঙে যায়। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর আধা সামরিক সেনাবাহিনীর হামলায় সেই সময় ১৪৪ জন সেনার মৃত্যু হয়। যার মধ্যে আমার মামাও ছিলেন।
• এই ২০০৯-‌তেই তো আপনার সঙ্গে ফিরদৌস হাসান রাজার দেখা হয় বলছিলেন।
•• হ্যঁা। যখন সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেল, অল্টারনেটিভ কী করা যায় যখন ভাবছি তখনই ফিরদৌসভাই আমাকে অভিনয়ের প্রস্তাব দিলেন। বললেন, তোমার অভিনয় হবে। কিন্তু তার আগে তো অভিনয়টা শিখতে হবে। তাই থিয়েটারে জয়েন করলাম। বাংলাদেশে থিয়াটারটা এখনও ভালবাসার জায়গা থেকেই হয়। যশোরের বিবর্তন গ্রুপে আমার থিয়েটার ওয়ার্কশপ শুরু। (‌‌হাসতে হাসতে)‌ এখনও মনে আছে আমার অভিনয় শুরু হয়েছিল মনোজ মিত্রর ‘‌রাজার পেটে প্রজার পিঠে’‌ দিয়ে। আর ২০১১-‌এ প্রথম কলকাতায় এলাম নাটক নিয়ে। গঙ্গা যমুনা নাট্যোৎসবে আমাদের নাটক ছিল ‘‌রাজা প্রতাপাদিত্য’‌।
• তারপর তো রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে নাটক নিয়ে পড়া শুরু করলেন। এই যোগাযোগটা কীভাবে হল?‌
•• প্রথম কলকাতায় এসেই মনে হয়েছিল এখানে নাটক নিয়ে চর্চা করার সুযোগটা অনেক বেশি। তাই সেশন শুরু হওয়ার প্রায় চার মাস পরে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিই এবং সুযোগ পাই। পরে এখান থেকেই মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর করি। ভবিষ্যতে দুই বাংলার নারী পরিচালকদের নিয়ে পি এইচ ডি করার ইচ্ছে আছে।
• কলকাতায় আসার পর পড়াশোনার পাশাপাশি নাটক করেছেন?‌
•• স্বপ্নের ফেরিওয়ালা কলেজ স্ট্রিট বলে একটা দলে নাটক করেছি। ‘‌ঈগল’ বলে একটা দলের সঙ্গে ‘‌কৃষ্ণভামিনী’‌ নাটকে অভিনয় করেছি। এই নাটকে অভিনয়ের সঙ্গে সঙ্গে আমার গলায় বেশ কিছু গান ছিল।

এছাড়াও বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব মনোজ মিত্র বাবুর সঙ্গে চট্টগ্রামে গিয়ে ওয়ার্কশপ ও প্রোডাকশনে কাজ করেছি।
• ‘‌করুণাময়ী রানী রাসমণি’‌ ধারাবাহিকে রজচন্দ্র চরিত্রে আপনি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। এই ধারাবাহিকে সুযোগ পেলেন কীভাবে?‌
•• ঘটনাচক্রে আমার সঙ্গে আলাপ হয় অভিষেক রায়ের। অভিষেকদাই চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কাছে ‘‌রাজচন্দ্র’‌ চরিত্রের জন্য আমার নাম প্রস্তাব করেন। সেখান থেকেই আমার অডিশনে ডাক পাওয়া। তারপর তো আপনারা জানেন।
• এটা একটা ঐতিহাসিক চরিত্র। কিন্তু এই চরিত্র সম্পর্কে বিশদভাবে কোনও তথ্য নেই ইতিহাসে। কীভাবে নিজেকে তৈরি করলেন এই চরিত্রের জন্যে?‌
•• এ ব্যাপারে আমার কাছে বড় চাপ ছিল খুব অল্প সময়ের মধ্যেই স্ক্রিপ্টটা মুখস্থ করা। আর সমস্যা ছিল, আমার ওপার বাংলার কথ্য ভাষার টানটা দূর করা। এই দুটো বিষয় নিয়েই খুব খাটতে হয়েছে। তারওপর কলকাতা নিয়ে আমার খুব একটা কিছু জানা ছিল না। আমার সৌভাগ্য, প্রথম ধারাবাহিকেই রাজেন্দ্র প্রসাদ দাসের মতো একজন পরিচালক পেয়েছি। দাদা আমাকে বলতেন, অন্য কিছু নিয়ে তোকে ভাবতে হবে না। তুই শুধু অভিনয়টা নিয়ে ভাব। আজ ‘‌রাজচন্দ্র’‌ চরিত্রে অভিনয়ের সুবাদে যদি কিছু জনপ্রিয়তা পেয়ে থাকি তার সবটুকু কৃতিত্বই পরিচালকের প্রাপ্য।
• ধারাবাহিকে ‘‌রাসমণি’‌ দিতিপ্রিয়ার সঙ্গে অভিনয় করে কেমন লাগছে?‌
•• একজন গুণী অভিনেত্রী হতে গেলে যা যা গুণ দরকার তার সবই দিতিপ্রিয়ার মধ্যে আছে। ওর যা বয়স তার চেয়ে তিনগুণ বেশি বয়সের চরিত্রে অভিনয় করছে এবং তা দর্শকের পছন্দও হচ্ছে। আমি ওর অভিনয়ের ভক্ত।
• বড়পর্দায় কাজের ইচ্ছা নেই?‌
•• হ্যঁা, বড়পর্দায় তো কাজ করেছি। বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব সেলিম আলদিনের নাটক ‘‌যৈবতী কন্যার মন’‌ নিয়ে ছবি করছেন নার্গিস আখতার। ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছি। হয়ত নভেম্বরে মুক্তি পাবে। এপার বাংলার ছবিতে অভিনয়েরও প্রস্তাব এসেছে। দুই বাংলার যৌথ প্রযোজনায় হবে সেই ছবি। এর বেশি কিছু এখনই বলতে পারব না।
• অভিনেতা নূর-‌এর স্বপ্ন কি?‌
•• পথশিশুদের নিয়ে ভাল থিয়েটার করতে চাই। যখন রবীন্দ্রভারতীতে পড়তাম তখনই পাশের একটা পথশিশুদের স্কুলে গিয়ে পড়তাম, আবৃত্তি শেখাতাম। ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের নিয়েও কাজ করেছি। কাজ করতে চাই থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শিশুদের নিয়েও।‌   

নূর যেমন, রাজচন্দ্র-‌র বেশে নূর‌

জনপ্রিয়

Back To Top