আজকালের প্রতিবেদন: বলিউডে নতুন ঝড়ের নাম রানাঘাটের রাণু মণ্ডল। বুধবারই মুক্তি পেল হিমেশ রেশমিয়ার সঙ্গে রাণুর গাওয়া বহু আলোচিত গান ‘‌তেরি মেরি কহানি’‌র অফিসিয়াল ভিডিও। নরম, ধীর লয়ে জ্বলে ওঠা সুরের এই গানে ফুটে উঠেছে রাণুর গলার জাদু। হ্যাপি, হার্ডি অ্যান্ড হীর ছবির জন্য গানটি গেয়েছেন রাণু ও হিমেশ। রাণুর সুরেলা গলা, রেশমিয়ার নীচু কণ্ঠস্বর, মিউজিকের মাঝে মাঝে গিটার ও তালবাদ্যের ব্যবহার— সব মিলিয়ে গানের এফেক্ট রীতিমতো জমজমাট। ছবিতে নায়কের ভূমিকায় হিমেশ নিজে। বিপরীতে নায়িকা সোনিয়া মান। দু’জনের মধ্যেকার সুন্দর সম্পর্ক কীভাবে মাধুর্য হারাল, সেটাই ছবির গল্প। ভিডিওয় দেখা যাচ্ছে রাণু গান রেকর্ড করছেন। তারই মাঝে মাঝে ভেসে উঠছে মূল ছবির দৃশ্য। গানের ভাষার সঙ্গে ছবির দৃশ্যের তালমিল। এ যেন শুধু সিনেমার নায়ক–নায়িকার ‌কাহিনি নয়, এ যেন রাণুর জীবনের কাহিনিও। 
রাণুর জীবনের সেই সত্যি কাহিনি আসলে রূপকথাই। থাকতেন রানাঘাট স্টেশনে। সেখানেই একদিন তিনি গাইছিলেন ‘‌এক প্যার কা নগমা হ্যায়’‌। তাঁর গলা শুনে থমকে দাঁড়ান অতীন্দ্র চক্রবর্তী নামে এক যুবক। মোবাইল ক্যামেরায় রাণুর গানের ভিডিও তুলে পোস্ট করেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল হয় সেই ভিডিও। রাণু নজরে পড়েন এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার। তাদের চেষ্টায় গানের এক রিয়েলিটি শোয়ে অংশ নেন রাণু। গলার জাদুর জন্যে নজরে পড়ে যান বিচারক হিমেশ রেশমিয়ার। সেখান থেকে সোজা বলিউড। শুধু গান গেয়েই থেমে নেই রাণু। রূপান্তর হচ্ছে তাঁর ব্যক্তিত্বেরও। এখন রীতিমতো সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন মিডিয়াকে। রাণু বলেছেন, ‘‌গলা আমার ছিল। কিন্তু এই প্রথম কেউ আমাকে তালিম দিলেন। গানের প্রযুক্তির কারিকুরি কিছুই বুঝতাম না। হিমেশজি আমাকে একেবারে ঘরের লোকের মতো করে নিয়েছেন। জীবনের সবচেয়ে বড় সুযোগটা দিয়েছেন। এভাবে স্বপ্নের মতো বেঁচে থাকার সুযোগ দেওয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দিয়ে আমি শেষ করতে পারব না। হাল ভাঙা পরিবার থেকে আমি এসেছি। কখনও তেমন ভালবাসা পাইনি। এখন মানুষ আমাকে ভালবাসা উজাড় করে দিচ্ছেন। এর চেয়ে বেশি সুখের আর কী হতে পারে। জীবনে কখনও ভাবতেও পারিনি যে এতবড় একটা মঞ্চে গান গাওয়ার সুযোগ পাব, কিংবা বলিউডের ছবিতে গান গাইতে পারব।’‌ ইতিমধ্যেই ‘‌আদত’‌ ও ‘‌আশিকি মে তেরি’ ছবির জন্য রাণুর সঙ্গে গান রেকর্ড করেছেন হিমেশ।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top