সৌগত চক্রবর্তী: আবার এক ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’‌। তবে এবার নতুন মোড়কে, নতুন ভাবনায়। পরিচালক প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য জানালেন, আমার এই শ্রীকান্তকে দর্শকদের অচেনা লাগবে। কারও হয়ত খারাপ লাগবে, আবার কারও হয়ত ভাল লাগবে। তাই একটু টেনশনে আছি।’‌
প্রদীপ্ত ভট্টাচার্যর পরিচালনায় এর আগে মুক্তি পেয়েছিল ‘‌বাকিটা ব্যক্তিগত’‌। সমালোচক মহলে ছবিটা প্রশংসা পেলেও দর্শক তেমন ভাবে হলে এই ছবি দেখার সুযোগ পাননি। যদিও প্রদীপ্ত এই ছবিটা তিনবার রিলিজ করিয়েছিলেন। এবার প্রদীপ্ত আশাবাদি, তাঁর ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ দর্শক হলে গিয়েই দেখতে পাবেন।
দ্বিতীয় ছবি তৈরি করতে এত বিলম্ব হল কেন?‌ প্রদীপ্ত জানালেন, আসলে আমার একটা ডায়রিতে অনেক স্টোরি আইডিয়া লেখা থাকে। সব প্রযোজকের কাছেই আমি সেই গল্পগুলো নিয়ে যাই। অনেক প্রযোজক আমাকে গল্প পরিবর্তন করতে বলেন। কিন্তু আমার চিত্রনাট্য বা গল্প চেঞ্জ করতে আমি রাজি নই। সেই আপোষটা করি না বলেই এতদিন কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্যের কোনও ছবির কাজ করিনি। তবে শর্ট ফিল্ম করেছি। একটু আপোষ না করলে তো সংসার চলে না!‌
১৯৫৮-‌তে হরিদাস ভট্টাচার্যর পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘‌শ্রীকান্ত প্রথম পর্ব‌’‌ উপন্যাস অবলম্বনে ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’‌। যেখানে মুখ্য দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার ও সুচিত্রা সেন। এছাড়াও অঞ্জন দাশের পরিচালনায় মুক্তি পেয়েছিল ‘‌ইতি শ্রীকান্ত’‌। সেই ছবিতে শ্রীকান্তর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন আদিল হুসেন আর কমললতার ভূমিকায় ছিলেন সোহা আলি খান এবং রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় ছিলেন রীমা সেন। তবে সেই ছবিতে তুলে আনা হয়েছিল ‘‌শ্রীকান্ত’ উপন্যাসকেই। তবে আবার ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’‌ কেন?‌ এটা কি আগের ছবির রিমেক?‌ ‘‌না, রিমেকের কোনও প্রশ্নই নেই। ‘‌শ্রীকান্ত’ আমার প্রিয় উপন্যাস। অনেকদিন ধরেই শ্রীকান্ত-‌কে সিনেমায় আনার ইচ্ছে ছিল।’‌ বললেন, ‘‌তবে আমার এই উপন্যাস একদম এই সময়ের। শরৎচন্দ্র একটা সময়ে এই উপন্যাস নিখেছিলেন। তবে তা যুগোপযোগী নয়। সেই উপন্যাসকে যুগোপযোগী করতেই উপন্যাসের কিছু অংশ পাল্টেছি। এখন যদি শ্রীকান্ত বলে কেউ থাকতেন তবে তিনি কীরকম আচরণ করতেন, সেটাই আমার সিনেমার বিষয়। প্রসঙ্গত বলে রাখি, আমার এই ছবির গল্পের সঙ্গে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাসের মিল নেই। অনেক জায়গা আমি নিজে লিখেছি। এমনকি ‘‌হুকুমচাঁদ’‌ বলে‌ একটা নতুন চরিত্রও তৈরি করেছি। ফলে এই ছবিতে এক নতুন শ্রীকান্তর সঙ্গে পরিচয় হবে দর্শকের। তাই আমার এই ছবি ‘‌শ্রীকান্ত’‌ উপন্যাস অবলম্বনে নয়, সেই উপন্যাসের অনুপ্রেরণায়।’‌
ছবিতে শ্রীকান্তর ভূমিকায় অভিনয় করছেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। জানালেন, ‘‌আমার এই শ্রীকান্ত যেমন দর্শকের কাছে কিছুটা চেনা তেমনই আবার কিছুটা অচেনাও। বেশ তৃপ্তি পেয়েছি অভিনয় করে।’‌ কিন্তু এই চরিত্রতে তো একসময় অভিনয় করেছিলেন উত্তমকুমার। আবার সেই চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে কোনও চাপের মুখোমুখি হয়েছেন কি ঋত্বিক?‌ ‘‌না, কোনও চাপ ছিল না,’‌ বলেই হেসে ফেললেন ঋত্বিক। বললেন, ‘‌ আসলে ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’‌ যে সিনেমায় এসেছে, এবং শ্রীকান্তর চরিত্রে যে উত্তমকুমার অভিনয় করেছেন, সেটা মনে করলেই চাপ হয়ে যেত। তাই সেটা আমি একদমই মনে আনিনি।’‌
ঋত্বিকের সঙ্গে এই ছবিতে রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন বাংলাদেশের অভিনেত্রী জ্যোতিকা জ্যোতি। বললেন, ‘‌এপার বাংলার ছবিতে এটাই আমার প্রথম অভিনয়। প্রথম থেকেই চাপে ছিলাম। প্রথমত আমার উচ্চারন নিয়ে, দ্বিতীয়ত, ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’ আমার পড়া হলেও ছবির গল্পটা আমি কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। শুটিং-‌এর সময় অপরাজিতাদি (‌অপরাজিতা ঘোষ দাস)‌ আর পরিচালক প্রদীপদা খুব সাহায্য করেছেন।’‌ পাশাপাশি জানালেন, ‘‌এপার বাংলার পাশাপাশি ওপার বাংলাতেও ‘‌রাজলক্ষ্মী ও শ্রীকান্ত’‌ সিনেমা হয়েছিল। সেখানে রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন বাংলাদেশের নামী অভিনেত্রী শাবানা। তাই বাংলাদেশের কাগজেও হেডলাইন হয়েছিল—শাবানার পরে রাজলক্ষ্মীর ভূমিকায় জ্যোতিকা। সেটাও একটা চাপের কারণ হয়েছিল।’‌
ছবিতে হুকুমচাঁদের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাহুল ব্যানার্জি ও অন্নদার ভূমিকায় আছেন অপরাজিতা ঘোষ দাস। রিলিস্টিক নিবেদিত এই ছবি মুক্তি পাবে নভেম্বরের শেষে।‌ ‌

জনপ্রিয়

Back To Top