অদিতি রায়: এবার পুজোয় আবার আসছে ব্যোমকেশ এবং অজিতের জুটি, একেবারে নতুন কলেবরে। ‌গ্রিনটাচ এনটারটেইনমেন্ট প্রযোজিত, শ্যামসুন্দর দে নিবেদিত শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায় এর কাহিনী 'মগ্নমৈনাক' অবলম্বনে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়কে দেখা যাবে ‘‌সত্যান্বেষী ব্যোমকেশ’‌-‌এ। অজিতের ভূমিকায় রুদ্রনীল ঘোষ। এখানে অবশ্য নতুন মোচড়, পরিচালক নন, চিত্রনাট্যকার এবং শিল্প উপদেষ্টা হিসাবে এই ছবির সঙ্গে যুক্ত থাকছেন অঞ্জন দত্ত। নির্দেশনায় সায়ন্তন ঘোষাল, ওয়েব সিরিজের ব্যোমকেশের প্রথমদিকের পর্বগুলো পরিচালনা করেছিলেন তিনি। 
ব্যোমকেশের সঙ্গে যে আবার নাম জড়িয়ে গেল?‌ অঞ্জন দত্ত জানালেন, ‘‌হ্যাঁ, বলেছিলাম তো ব্যোমকেশ আর করব না। আমি যখন শুরু করেছিলাম, তখন ব্যোমকেশ নিয়ে কেউ ভাবেননি, প্রযোজক পেতে সমস্যা হয়েছিল, আবিরকেও কেউ চিনতেন না সেভাবে। তারপর তো দেখলাম প্রচুর ব্যোমকেশ হচ্ছে। সিনেমা, টেলিভিশন, ওয়েব সিরিজ, কিছুই বাদ নেই। আমার ব্যোমকেশও বদলে গেল। তখন মনে হতে লাগল, আমারটা জাস্ট আর একটা হচ্ছে। কী হবে আর একটা ব্যোমকেশ বানিয়ে?‌ তবে এটাও ঠিক, সবারটাই কিন্তু মানুষ দেখেছেন, ভাল চলেছে। কিন্ত আমার কাছে তো চিত্রনাট্য, গবেষণার বিভিন্ন খসড়া প্রস্তুত ছিল, স্বত্ত্ব নেওয়া ছিল। তখন আমি শ্যামসুন্দরকে ‘এন ও সি‌’‌ দিয়ে দিই। তখন উনিই আমাকে বলেন, ছবিটা দাঁড় করাতে হবে, আমার সাহায্য প্রয়োজন। এরপর প্রজেক্টটা নিয়ে ভাবতে শুরু করি, কীভাবে এটাকে একটু অন্যরকম করা যায়। কাকে ব্যোমকেশের ভূমিকায় নেওয়া যায়। একটা ছবি কোনওমতে হয়ে যেতে পারে, কিন্তু ফ্র‌্যাঞ্চাইজি করতে গেলে আগাম পরিকল্পনা লাগে। বিষয়টা নিয়ে পরিষ্কার ধারণা থাকা খুব জরুরি। সেক্ষেত্রে একটা পথনির্দেশ থাকলে ক্ষতি কী?‌ আমার মনে হল, আমি তো কখনও এরকম গাইডেন্স পাইনি, তাহলে আমিই বা তরুণ কোনও পরিচালককে এটুকু সাহায্য করতে পারব না কেন এই বয়সে বা অভিজ্ঞতায় পৌঁছে? ফেলুদা, কাকাবাবু বা কোনও গ্যাংস্টার ফিল্ম হলে আমি করতে পারতাম না,  কিন্তু ব্যোমকেশের সঙ্গে তো আমি প্রায় ঘর করেছি, ব্যোমকেশের সঙ্গেই খেয়েছি, ঘুমিয়েছি!‌‌ ‌আমি জানি ব্যোমকেশকে। কোন গল্পে কী আছে, কী রেফারেন্স, ব্যাকগ্রাউন্ড হোমওয়ার্ক, স্ক্রিপ্ট, সব তো রেডি আমার!‌ এগুলোই বা বিফলে যায় কেন!‌ তাই এই সিদ্ধান্ত বলতে পারেন।’‌
পরমব্রতকে ব্যোমকেশের ভূমিকায় ভাবা হল কেন?‌ উত্তরটা অঞ্জনই দিলেন—  ‘‌ব্যোমকেশের ব্যক্তিত্বের অনেকগুলো দিক আছে। কয়েকটা দিক দর্শক দেখেও ফেলেছেন। তাহলে এই ব্যোমকেশ কোথায় আলাদা?‌ আমরা তখন ব্যোমকেশের এমন একটা দিক খুঁজি, যা এখনও কেউ দেখেননি। এই ব্যোমকেশকে হতে হবে অনেক ইন্টেলেকচুয়াল, রাজনৈতিকভাবে সচেতন, ইয়ং এবং একই সঙ্গে চঞ্চল। তখনই মনে আসে পরমব্রতর নাম। পরম তো চিত্রনাট্য শুনে খুব খুশি। তারপর পরিচালক হিসেবে সায়ন্তনের নাম মাথায় আসে, কারণ এর আগে ও ওয়েবের জন্য ব্যোমকেশ বানিয়েছে। এর পরের কাজটা ছিল, এমন একজন অজিত খুঁজতে হবে, যার সঙ্গে ব্যোমকেশের রসায়ন জমে যাবে। পরম আর রুদ্র শুধু সহকর্মী তো নয়, ওরা বন্ধুও। অতএব অজিতের চরিত্রে রুদ্রনীল ছিল অবভিয়াস চয়েস। ওদের পর্দার বাইরের খুনসুটি পর্দাতেও নতুন মাত্রা আনবে।’‌
পরিচালনা না করলেও এই ব্যোমকেশও ‘ব্র‌্যান্ড অঞ্জন‌’‌‌-‌এর সিগনেচার নিয়েই আসবে তাহলে?‌ ‘‌না, না’‌— প্রতিবাদ করে উঠলেন অঞ্জন। ‘‌আমি শুটিং শুরুর আগেই যা সাহায্য করছি। বাকি সব দায়িত্ব পরিচালকেরই। শুটিং-‌এর খুঁটিনাটি ঝামেলা সামলানোর দায়িত্ব একেবারেই আমার নয়। এবার আর ব্যোমকেশের সঙ্গে ঘর করছিনা। প্রাক্তন প্রেমিক বা প্রেমিকারা যেমন মাঝে মাঝে দেখা হলে আড্ডা দেয় তেমনই আর কী!‌’‌ হাসতে হাসতে বললেন অঞ্জন দত্ত। বাকি চরিত্র নির্বাচনেও চমক থাকবে, প্রতিশ্রুতি দিলেন ছবির শিল্প উপদেষ্টা। সত্যবতীর খোঁজও চালাতে হবে বলে জানালেন। ছবির সুরারোপের দায়িত্বে রয়েছেন অঞ্জন-‌পুত্র নীল দত্ত। একদম নতুন চেহারায়, নতুন স্বাদে ব্যোমকেশ এবারের পুজোর মেনুর তালিকায় এখন থেকেই ওপরের দিকে, বাকিটা শরতের অপেক্ষা!‌

জনপ্রিয়

Back To Top