আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ সমকামিতা শব্দটি ২০১৯–এও অনেকের কাছে হাস্যকর, অস্বাভাবিক এবং অস্তিত্বহীন। ভুলে যান, প্রেমে লিঙ্গ কখনও অন্তরায় হতে পারে না। কিন্তু হায়!‌ মানুষই মানুষের বড় শত্রু। আর সমাজের ভয়ে সমকামী বা উভকামীরা নিজেদের পরিচয় গোপনে বাধ্য হন। কিন্তু মৃত্যু উপত্যকায় ফুল তো ফুটবেই। এটা ধর্ম। সেভাবেই সাহস দেখিয়ে একজন একজন করে পৃথিবীর কাছে নিজেদের প্রেমের কথা জানাচ্ছেন অনেকে।
এঁদেরই মধ্যে রয়েছেন ‘‌বিশ্ব সুন্দরী মায়ানমার ২০১৯’‌ সা জিন টেট। ডিসেম্বর ৯ তারিখে আটলান্টার জর্জিয়াতে ছিল ‘‌বিশ্ব সুন্দরী’‌ প্রতিযোগিতার বিচারের চূড়ান্ত দিন। নভেম্বর ২৯–এ মিসোসোলজি পোর্টালের সাংবাদিকের কাছে প্রথম নিজের সমকামিতার কথা জানান তিনি। ‘‌বহুদিন পরে আমি নিজের পরিচয় সম্পর্কে নিজের কাছে খোলসা করেছি। আমি মনে করি, এই কথাটি প্রকাশ করার মতো এর থেকে বড় মঞ্চ হতে পারে না। আমি খুশি, আমার যেই ফ্যানেরা এই কথা জানেন, তাঁরা আমাকে ভালবাসেন, তাঁরা আমাকে বুঝতে পেরেছেন।’‌ বললেন টেট। প্রকাশ্যে স্বীকার করার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি এই কথা আবার করে জানিয়ে নিজের চারটি ছবি আপলোড করেন। সঙ্গে  প্রাইড পতাকা। মায়ানমারের পরিস্থিতি এখনও এই স্বাভাবিক প্রবণতাকে স্বীকার করার মতো জায়গায় আসেনি। তবে তাঁর এই স্বীকারোক্তি সে দেশে ভাল প্রভাব ফেলতে পারে বলে উনি বিশ্বাস করেন। কিন্তু অনেকেই বলছেন, এখন স্বীকার করলেও মায়ানমারের এক বিখ্যাত গায়িকার সঙ্গে টেটের প্রায় তিন বছরের সম্পর্ক।
পলা শুগার্ট, মিস ইউনিভার্সের কর্তৃপক্ষের সভাপতি অত্যন্ত সাদরে গ্রহণ করলেন টেটের এই স্বীকারোক্তিকে। একজন সাহসী, স্বনির্ভর মহিলা হিসেবে তাঁর প্রশংসা করলেন। এর আগে ২০১৩ সালে মিস স্পেন পেট্রিসিয়া রোড্রিগেজ তাঁর সমকামিতা সম্পর্কে কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা ‘‌বিশ্ব সুন্দরী’‌ প্রতিযোগিতা শেষ হওয়ার পর। কিন্তু সা জিন টেটই প্রথম ‘‌বিশ্ব সুন্দরী’‌ প্রতিযোগী যিনি এই প্রতিযোগিতাকে বাধা হিসেবে না দেখে বরং তাকেই মঞ্চ করলেন নিজের পরিচয় প্রকাশ করার। বিশ্ববাসীকে প্রকৃতির এক ‘‌স্বাভাবিক’ সত্যের সন্ধান দেওয়ার চেষ্টা করলেন তিনি।        ‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top