সৌগত চক্রবর্তী: ‌মিতিন মাসি নারী স্বনির্ভরতার প্রতীক। বাংলা সাহিত্যের প্রথম গোয়েন্দা চরিত্র। এরকম একটা চরিত্রে কাজ করতে গিয়ে খুবই ভাল লাগছে, বললেন কোয়েল। সুচিত্রা ভট্টাচার্য্যর সৃষ্টি এই ‘‌মিতিন মাসি’‌ ওরফে প্রজ্ঞাপারমিতা মুখোপাধ্যায়। যে এমনিতে গৃহবধূ কিন্তু তার পাশাপাশি বিভিন্ন রহস্যের সমাধান করে। এই ‘‌মিতিন মাসি’‌কে নিয়ে সুচিত্রা ভট্টাচার্যর উপন্যাস ‘‌হাতে আর মাত্র তিনটি দিন’‌ কে এবার সিনেমায় আনছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। সম্প্রতি এই সিনেমার কিছু দৃশ্যের শুটিং হয়ে গেল বেলতলার মোটর ভেহিকেলসের অফিসে। সেখানে দেখা গেল মিতিন মাসি সঙ্গে বোনঝি টুপুর ও স্বামী পার্থকে নিয়ে বেরিয়ে আসছেন মোটর ভেহিকেলসের অফিস থেকে। আসলে কলকাতার অন্যতম ধনী পার্সী ব্যবসায়ী রুস্তমজির ছেলেকে কেউ কিডন্যাপ করেছে। তিনদিনের মধ্যেই মুক্তিপণ হিসেবে বেশ ভারী অঙ্কের টাকা দাবি করেছে তারা। এই অবস্থায় এই মিতিন মাসি ওরফে প্রজ্ঞাপারমিতাই একমাত্র ভরসা রুস্তমজির। আর সেই তদন্তেই মিতিন মাসির দলবল সহ এই মোটর ভেহিকেলসের অফিসে আসা একটি রহস্যময় গাড়ির খোঁজে।
কোয়েল বললেন, ‘‌অসাধারণ একটা চরিত্র। যেহেতু সাহিত্য থেকে উঠে আসা চরিত্র, তাই পাঠকদের মনে মিতিন মাসির একটা ছবি আঁকা হয়ে গেছে। এখন সেই ছবিকে সরিয়ে সিনেমায় এই চরিত্রকে জীবন্ত করে দর্শকদের কাছে প্রিয় করাটাই আমার চ্যালেঞ্জ।’‌
কেমন চরিত্র এই মিতিন মাসি?‌ কোয়েলের উত্তর, ‘‌এক কথায় স্বাস্থ্য সচেতন। আর খুব আত্মবিশ্বাসী একটা চরিত্র। ওকে দেখে বোঝাই যায় না ও একজন গোয়েন্দা। আর এটাই মিতিন মাসির একটা প্রধান অস্ত্র। এই ছবিতে মিতিন মাসির চরিত্রের বিভিন্ন লেয়ার উঠে আসবে। যেমন বাড়িতে রান্না করছে, নানা রেসিপির মিশেল ঘটিয়ে নতুন পদ কীভাবে রান্না করা যায় সেই চেষ্টা করছে। আবার গোয়েন্দাগিরির কাজ এলেই সেই মিতিন মাসি একেবারেই আলাদা।’‌
এর আগে ঋতুপর্ণ ঘোষের ‘‌শুভ মহরৎ’‌ ছবিতে মহিলা গোয়েন্দা হিসেবে দেখা গিয়েছিল ‘‌রাঙা পিসিমা’‌র চরিত্রটি। অরিন্দম শীল জানালেন, ‘‌তা সত্ত্বেও আমি বলব বাংলা সিনেমায় সম্পূর্ণ মহিলা গোয়েন্দা চরিত্র হিসেবে আমি এই মিতিন মাসিকেই রাখব। কারণ, রাঙা পিসিমাকে তদন্ত করতে কখনওই বাইরে বেরোতে হয়নি। আর গোয়েন্দারা সাধারণত রহস্যের তদন্ত করতে গিয়ে যেরকম বিপদের মুখে পড়েন বা চটজলদি তাঁদের সিদ্ধান্ত বদল করে অন্যভাবে আবার এগোতে হয়, সেই দিক থেকে মহিলা গোয়েন্দা হিসেবে এই মিতিন মাসিই প্রথম।’‌ কিন্তু এই চরিত্রে কোয়েলকে নিলেন কেন?‌ ‘‌প্রথমত, একটা জনপ্রিয় মুখ দরকার। পুজোর সময় একা ছবিটা টেনে নিয়ে যাওয়ার ক্ষমতাও থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, কোয়েল যেমন মারপিটের দৃশ্যও করে ফেলতে পারবে অনায়াসে, তেমনই বাঙালি মধ্যবিত্ত পরিবারের গৃহিণীর চরিত্রেও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠবে, বললেন অরিন্দম শীল, যিনি এর আগে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘‌ব্যোমকেশ বক্সি’‌, বা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের গোয়েন্দা চরিত্র ‘‌শবর দাশগুপ্ত’‌কে এনেছেন পর্দায়। 
মিতিন মাসির চরিত্রে যেমন অভিনয় করছেন কোয়েল, তেমনি তাঁর স্বামী পার্থর চরিত্রে অভিনয় করছেন শুভ্রজিৎ দত্ত। বললেন, ‘ এখানে মিতিন এসেছে পার্থরই বন্ধু মেটর ভেহিকেলসের ডিরেক্টরের সঙ্গে দেখা করতে। উদ্দেশ্য একটা গাড়ির খোঁজ পাওয়া। ‌অরিন্দমদার সঙ্গে এর আগে তিনটে ‘‌শবর’‌ ছবি করেছি। সেই ছবির ‘‌নন্দ’‌ চরিত্রের সঙ্গে ‘‌পার্থ’‌র চরিত্রের পার্থক্য অনেকটাই। এখানে শুধু মিতিন মাসির স্বামীই নয় সে, তার সঙ্গে তদন্তের সময় সে বিভিন্ন ক্লু দেওয়ারও চেষ্টা করে। আর সব তদন্তেই সে মিতিন মাসির সঙ্গে থাকে।’‌ বললেন, ‘‌সেই ১৪ বছর আগে কোয়েলের সঙ্গে ‘‌শুধু তুমি’‌ ছবিতে অভিনয় করেছি। আর সেই থেকেই আমাদের আলাপ। আজ পর্যন্ত তার মধ্যে একটুও ছেদ আসেনি। এই ছবিতে অভিনয়ের সময় আমার আর কোয়েলের সেই বন্ধুত্ব অনেকটাই সাহায্য করেছে।’‌
মিতিন মাসির আর এক স্যাটেলাইট তার বোনঝি টুপুর ওরফে ঐন্দ্রিলা। সেই ভূমিকায় অভিনয় করছেন রিয়া বণিক। প্রথম সিনেমায় অভিনয় অরিন্দম শীলেরই ‘‌ঈগলের চোখ’‌-‌এ। অভিনয় করেছেন অতনু ঘোষের ‘‌৭২ ঘণ্টা’‌ ছবিতেও। তবে এখনও মুক্তি পায়নি সেই ছবি। বললেন, ‘‌কোয়েলদি একেবারে বন্ধুর মতো মিশে গেছেন আমার সঙ্গে। অরিন্দমদাও সুন্দর করে চরিত্রের স্কেচটা তৈরি করে দিয়েছিলেন। ফলে অভিনয় করতে কোনও অসুবিধে হয়নি।’‌ এঁরা তিনজন ছাড়াও এই ছবিতে রুস্তমজির চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘‌ভেজা ফ্রাই’‌ বা ‘‌খোসলা কা ঘোসলা’ ছবির অভিনেতা বিনয় পাঠক। এই ছবির শুটিং আপাতত শেষ। এই ছবি মুক্তি পাবে পুজোর সময়।‌

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ
 

জনপ্রিয়

Back To Top