অদিতি রায়: নামটা জয়ী?‌ সাধারণত ছেলেদের নাম তো ‘‌জয়ী’‌ হয়না?‌ আমেরিকান নাম অবশ্যই ‘‌জোয়ি’‌ হয়। এটা কি সেরকম কিছু?‌ হ্যাঁ, হাসতে হাসতে জানালেন জোয়ি। আসলে একজন আমেরিকান ড্রামারের নামে তাঁর এই নামকরণ করেছিলেন জোয়ির কাকু। তাহলে মিউজিশিয়ান না হয়ে অভিনেতা বনে গেলেন কীভাবে?‌ জোয়ি তখন মুম্বইতে চাকরি করছেন রেডিও মির্চিতে, সেই সময় এক বন্ধুর অনুরোধে চ্যানেল ভি’‌র একটি রিয়েলিটি শো-‌তে প্রতিযোগী হিসেবে যোগ দেন এবং জয়ী হন!‌ সেই প্রথম ক্যামেরার মুখোমুখি হওয়া।
তারপর রেডিও মির্চি ছেড়ে বালাজি মোশন পিকচারসে। সেই ব্যানারেই ‘মুম্বই ১২৫ কিলেমিটার‌’‌ ছবিতে বীণা মালিক, করণবীর ভোরার মতো প্রতিষ্ঠিত টেলি-‌স্টারদের সঙ্গে অভিনয় করেন অন্যতম মুখ্য চরিত্রে। ব্যাস তারপরই প্রেমে পড়ে যান ক্যামেরার। লাইট-‌ক্যামেরা-‌অ্যাকশনই হয়ে ওঠে জোয়ির ধ্যানজ্ঞান। ২০১৪-‌তে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপরই অফার আসে একটি বাংলা ছবির। মূল চরিত্রে স্বয়ং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়। বিদেশে ছবির শুটিংও হয়। কিন্তু সে ছবি আজও মুক্তির আলো দেখেনি। ‘পরিচয়‌’‌-‌এর সঙ্গে পরিচয় আর ঘটেনি দর্শকদের।
‘পরিচয়‌’‌ মুক্তি না পাওয়ায় মানসিক ভাবে ভেঙে পড়লেও মচকালেন না জোয়ি। বাবা-‌মায়ের ইচ্ছের বিরুদ্ধে গিয়েও, খালি পকেটের তোয়াক্কা না করে দাঁতে দাঁত চেপে লেগে রইলেন। অঙ্কুশ অভিনীত ‘‌রোমিও জুলিয়েট’‌ ছবিতে বিশেষ চরিত্রে বা জি-অরিজিন্যালসের ‘‌হাসিতে হাসিও না’‌-‌তে দেখা গেল তাঁকে। এর মধ্যেই বেশ কিছু স্বল্পদৈর্ঘের ছবি, মূলত ফেস্টিভ্যালের ছবিতে কাজ করে অভিনয়ে শান দিতে লাগলেন। হিন্দি ছবি ‘‌তাবির’‌-‌এও অভিনয় করলেন। জোয়ি অভিনীত ভারত-‌বাংলাদেশ যৌথ প্রযোজনায় ‘‌মনে রেখো’‌ সদ্য মুক্তি পেয়েছে বাংলাদেশে। ব্যবসাও করছে দারুণ। একটা বৃটিশ ছবিতেও অভিনয় করে ফেলেছেন তিনি। অবশেষে ‘হৃদয়হরণ বি এ পাস‌’‌-‌এর প্রস্তাবে সাড়া দিলেন, আর পৌঁছে গেলেন বাঙালি দর্শকের অন্দরমহলে।
কিন্তু বাংলা উচ্চারণে হিন্দি বা ইংরেজি টানের প্রতিবন্ধকতাকে সামলাচ্ছেন কী করে?‌ হৃদয়হরণ তো একটি সাধারণ ঘরের বাঙালি ছেলে?‌ অনেক অধ্যাবসায়ে উচ্চারণের ওই টানকে ঝেড়ে ফেলেছেন।

রীতিমতো চ্যালেঞ্জ জানালেন জোয়ি। দেখলেই বুঝবেন হৃদয়হরণের কথায় এক ফোঁটাও অ্যাকসেন্ট নেই, বেশ আত্মবিশ্বাসী শোনালো তাঁকে। বারবার ঘষামাজা করে সঠিক উচ্চারণে সংলাপ বলছেন। দরকার হলে শট কাটতেও দ্বিধা করছেন না। এত সময় পাওয়া যায় টেলিভিশনে?‌আরে বাপরে বাপ!‌ গত তিন বছরে এত কাজ করিনি, এই তিনমাসে যা করে ফেলেছি!‌ বলছেন জোয়ি।
এত কাজের চাপে নিজের ফিটনেসের দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন কীভাবে?‌ এখানে জানিয়ে রাখা ভাল, ফিটনেস জোয়ির প্যাশন। মিক্স মার্শাল আর্টে পারদর্শী জোয়ি অনায়াসে হয়ে যেতে পারেন ‘হিউম্যান ফ্ল্যাগ‌’‌। ‘হাসিতে হাসিও না‌’‌-‌তে একটা দড়ির সাহায্যে তরতর করে উঠে গিয়েছিলেন উত্তর কলকাতার পুরনো বাড়ির তিনতলায়, কোনওরকম বডি ডাবল বা ন্যুনতম সুরক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া!‌  যোগা, মার্শাল আর্ট করতে না পেরে প্রথমদিকে তো ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলাম!‌ বলছেন জোয়ি। সারাদিন ধরে শুট করলে ওয়র্ক আউট করার সময় পাব কখন?‌ যাই হোক ধীরে ধীরে এতেও অভ্যস্ত হয়ে উঠছেন, সময় করে শরীর চর্চাও করে ফেলছেন হৃদয়হরণ।
মার্শাল আর্টের প্রতি আকৃষ্ট হলেন কবে থেকে?‌ বাবা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে থাকার সূত্রে জোয়ির ছোটবেলা কেটেছে বিভিন্ন বোর্ডিং স্কুলে। চণ্ডীগড়, কন্যাকুমারী, দার্জিলিং, আসাম, পুনে, কোথায় নয়?‌ বোর্ডিংয়ে থাকাকালীনই বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে কিক বক্সিংয়ে আকৃষ্ট হন। একসময় তো প্রফেশনাল ফাইটার হিসেবেও নিজের ভবিষ্যৎ দেখতে শুরু করেছিলেন। কিন্তু টিকোলো নাকটা ভেঙে যাবে, তাই কিক বক্সিংকে আর পেশা হিসেবে নেননি। এভাবেই লাঠি ঘোরানো, তলোয়ার চালনায় পারদর্শী ছেলেটা হয়ে গেল হিরো!‌
হৃদয়হরণ হয়ে কত তরুণীর কাছ থেকে প্রেমের প্রস্তাব পাচ্ছেন?‌ স্বভাব-‌লাজুক জোয়ি মাথা নাড়িয়ে জানালেন, না না, এরকম কিছু হচ্ছেনা!‌ মায়ের আদরের জোয়ি আপাতত সিঙ্গল। কাজে মনোযোগী, কেরিয়ারেই তাঁর যাবতীয় ফোকাস। হৃদয়হরণ চরিত্রটির মতোই ঘরের যে কোনও কাজেও তো জোয়ি পারদর্শী। এই না হলে হৃদয়হরণ?‌ বাংলার ঘরে ঘরে মায়েরা তাঁকে ইতিমধ্যেই স্নেহ করতে শুরু করেছেন, আর বাংলার তরুণীরা বোধহয় ভাবছেন, এরকম একটা বয়ফ্রেন্ড পেলে মন্দ হয়না!‌  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top