গাম্ভীর্যের উর্দিতে ফিট। রসিকের জোব্বাতেও। গালের টোলই তাঁর এক্স ফ্যাক্টর। অথচ সেই গালেই সপাটে চড়!‌ সহ্য হয়েছিল?‌ জানতে চাইলেন সুতপা ভৌমিক

 

 অনুভূতি, আবেগের উর্ধ্বে উঠলেই, তবে নাকি মানুষ সন্ন্যাসী হয়। সন্ন্যাসী বেশে অভিনয়ের সময়ও কি তাই?‌
যিশু সেনগুপ্ত:‌ আমি অভিনেতা। সন্ন্যাসী নই। অভিনয়ই করেছি। 
 মাইনাস ৫ ডিগ্রি আবার ৪২ ডিগ্রি, ‘‌এক যে ছিল রাজা’‌য় অভিনয় করেছেন দুই তাপমাত্রাতেই!‌
যিশু:‌ এটা লাইফটাইম রোল। শারীরিক, মানসিক ধকল হয়েছে। তবে কখনও মনে হয়নি, ভাল লাগছে না। পারব না। থাক। 
 ফার্স্ট লুকেই চমক!‌ ভাওয়াল রাজা সাজা চাট্টিখানি নয়‌! 
যিশু:‌ নয়ই তো। মেক আপ পর্বটা বেশ দীর্ঘ ছিল। ঘণ্টা দেড়েক সময় লাগত মেক আপ করতে। তুলতে মিনিট ৪৫। সোমনাথ কুন্ডু মেক আপ করেছেন। অ্যাসিস্ট করেছেন ভোলানাথ পাঠক। ‌
 এন ‌টি আর–এর বায়োপিকে ডাক পাওয়ার রোমাঞ্চ কি তেলেগু শিখতে গিয়ে ঘুচে গেছে?‌ এল ভি প্রসাদের চরিত্রে ক্যামিও। কতটুকু পার্ট?‌
যিশু:‌‌ নাহ্‌, তেমন নয়। তবে ভাষাটা কঠিন। টোন আলাদা। বুঝতে সময় লাগে। কিন্তু ওরা আমাকে ভীষণই সাহায্য করেছে। ভয়েস নোটস পাঠাত। ইংরেজিতে লিখে পাঠাত। মানেটা লেখা থাকত নিচে। সঙ্গে একটু চেষ্টা। নিজেকে একটু পুশ করা। তারপর পেরেছি। তবে তেলেগুতে অনর্গল কথা বলতে পারব না। আর রোলটা ক্যামিও নয়। মোটামুটি ভালই রোল আছে। পুরো সিনেমাটা ধরলে আধঘণ্টার মতো। 
 বড় ব্যানার? বায়োপিক? নাকি নায়িকা বিদ্যা বালান?‌ এই সিনেমাটা করার পেছনে আকর্ষণটা কী?‌ 
যিশু:‌‌ আমার কাছে একটা কাজ এসেছে। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খুব বড়মাপের। বড় অভিনেতার সঙ্গে কাজ যদি বলেন, ২০০৮–এ অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে করেছি। তার আগে সুস্মিতা সেন, তাব্বুর সঙ্গে কাজ করেছি। হিন্দির নায়িকা বা নায়কের সঙ্গে কাজ করব, এখন আর আকর্ষণ নেই। কাজটাই সবচেয়ে আগে দেখি। 
 এখন নেই। তার মানে আগে আকর্ষণটা ছিল?‌
যিশু:‌‌ নাহ্‌, ঠিক তা নয়। তবে তখন বয়সটা কম ছিল। বুঝতে পারতাম না। আমার কাছে কাজ করার আকর্ষণ বলতে ঋতুপর্ণ ঘোষ, অপর্ণা সেন, গৌতম ঘোষের সঙ্গে কাজ করা। 
 ‘‌মহাপ্রভু’‌–র ইমেজ ভাঙতে যিশু সেনগুপ্তর ঠিক কতদিন সময় লেগেছিল?‌
যিশু:‌‌ ‘মহাপ্রভু’ করতে করতেই ‘‌রূপকথা’‌ বলে একটা সিরিয়াল করতাম। ‘‌শেওলা’‌ বলে আরেকটা সিরিয়ালও করেছিলাম। ফলে সেই ইমেজটা ভাঙতে আদৌ কসরত করতে হয়নি। 
 মেয়ে ‘‌উমা’‌ হোক প্রথমে চাননি!‌ রক্ষণশীল বাবা?‌ নাকি সারা এখনই অভিনয় করুক, তেমন ইচ্ছে ছিল না?‌
যিশু:‌‌ আসলে সারার বোঝার বয়সটা এখনও হয়নি। বুঝে করা আর না বুঝে করায় তফাত আছে। কিন্তু ও ইচ্ছে প্রকাশ করায় আমি আর কোনও বাধা দিইনি। ও এখন নিজেই বুঝেছে, পড়াশোনা একটা স্তর পর্যন্ত করে তবে সিদ্ধান্ত নেবে। 
 ‘‌সব চরিত্র কাল্পনিক’‌ করেছেন, ‘‌আবহমান’‌ করেছেন। আবার ‘‌চোরে চোরে মাসতুতো ভাই’‌ও করেছেন!‌ 
যিশু:‌‌ চরিত্র ভাল হলে না করার কিছু নেই। কমার্শিয়াল, নন কমার্শিয়াল, প্যারালাল ছবি বুঝি না। বুঝি ভাল ছবি, খারাপ ছবি। জিৎ, দেব, অঙ্কুশের যে ছবি, সেগুলোকে কমার্শিয়াল বলে ব্র‌্যাকেট করলেও অভিনয় করা কঠিনই বলব। চরিত্রে বিশ্বাস করে অভিনয় করা, নাচা, অ্যাকশন করা নট আ ম্যাটার অফ জোক। ‌
 ‌ঋতুপর্ণ ঘোষই কি যিশুকে অভিনেতা হতে শিখিয়েছেন?‌
যিশু:‌‌ একদম! ওঁর সঙ্গে ৬টা ছবি করেছি। বকেছেন, বুঝিয়েছেন। চড়ও খেয়েছি ঋতুদার কাছে। ঋতুদার একটা কথা মাথায় গেঁথে আছে। ‘সব চরিত্র কাল্পনিক’–এ অভিনয় করছি। হঠাৎ ঋতুদা বললেন, ‘‌তুই যেটা করছিস, ভেবে করছিস?‌’‌ আমি বলেছিলাম, নাহ্‌, আমার স্ক্রিপ্ট পড়ে যেটা মনে হয়, করি। পাল্টা প্রশ্ন করলাম, ভুল কিছু করছি?‌ ঋতুদা বলল, ‘‌ভুল না। তুই যেটা করছিস, খুব ভাল। তবে ভেবে করলে আরও ভাল হবে।’‌ 
 ঋতুপর্ণর কাছে চড় খেয়েছিলেন কেন?‌
যিশু:‌‌ পড়তে গিয়ে স্ক্যানিংয়ে ভুল করেছিলাম। মনোযোগ দিচ্ছিলাম না। তবে একবার না। অনেকবার চাঁটি, চড় খেয়েছি। 
 ব্যোমকেশ করেছেন। ফেলুদা হওয়ার প্রস্তাব পাননি?‌
যিশু:‌‌ নাহ্‌, এখনও পাইনি। যদি কখনও আসে?‌ আগে তো সেই সময়টা আসুক। এখন হাতে একেবারে সময় নেই। 
 রিয়েলিটি শো–এর ভূত মঞ্চে দাঁড়িয়ে মজার ছলে, যা নয় তাই বলে। তার মানে কি যিশু সেনগুপ্ত রাগেন না?‌ 
যিশু:‌‌ নাহ্‌, ওটা তো বিশুদ্ধ মজা। (‌‌হেসে)‌‌ রাগার সময় হলে অবশ্যই রাগ করি। তবে সেই রাগ কন্ট্রোল করতেও জানি। 
 নীলাঞ্জনা স্বার্থত্যাগ না করলে যিশু এগোতে পারতেন?‌
যিশু:‌‌ নীলাঞ্জনা স্বার্থত্যাগ হিসেবে দেখে না। ও বিয়ের পর সিনেমা করতে চায়নি। আমার শাশুড়িও (‌‌অঞ্জনা ভৌমিক)‌‌ তাই। নীলাঞ্জনা সংসার করতে চেয়েছে। তারপর প্রোডিউসার হয়েছে। তবে এখন ও কাজ বন্ধ রেখেছে। বাড়ি বদলেছি। বাড়ি সাজাতে সময় লাগছে। সংসারে আমার অবদান ১০ শতাংশ। ৯০ ওর। 
 হঠাৎ সিনেমা ছাড়তে হলে গ্ল্যামার ফুরনোর ভয় করবে?‌
যিশু:‌‌ শুধু পা কেটে বাদ গেলেই অভিনয় ছাড়তে পারি। আরেকটা হতে পারে, অভিনয়ের খিদের থেকে বড় খিদে খুঁজে পেলাম। সেরকম হলে গ্ল্যামার হারানোর আফশোস হবে না।

জনপ্রিয়

Back To Top