আজকাল ওয়েবডেস্ক: ‌বৃহস্পতিবার নৈহাটি ঐকতানে অভিনীত হলো নৈহাটি অ্যাস্থেটিকস–এর নবতম নাট্য ‘‌যে কথা বলোনি আগে’‌। এই নাটক সাম্প্রদায়িকতা ও মৌলবাদের বিরুদ্ধে এক তীব্র ও সোচ্চার প্রতিবাদ। 
নাটকের বিষয়বস্ত প্রসঙ্গে যদি বলতে হয়, তবে বলব, যেভাবে গোটা দেশ তথা বিশ্বে শিল্প–সংস্কৃতির ওপর রাষ্ট্রশক্তির আঘাত নেমে আসছে, তার বিরুদ্ধে বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে এই নাটক অত্যন্ত জরুরি। নাট্যের কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচী, জঙ্গলমহলের একজন শিক্ষক। যিনি জঙ্গলের আদিবাসীদের নিয়ে নাটক করেন। সংবাদপত্রে লেখা সব্যসাচীর ‘‌পোস্ট-এডিটোরিয়াল’‌ ,ফেসবুকের পোস্ট, সবটাই রাষ্ট্রশক্তি সন্দেহের চোখে দেখে। তাই তিনি এখন রাষ্ট্রের কারাগারে বন্দি। দেশদ্রোহিতা ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র সহ একাধিক মামলায় সব্যসাচীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়েছে। সব্যসাচীর কলমের ধার থেকে বাদ যায়নি ধান্দাবাজ' সমাজকর্মীরাও। স্বাভাবিকভাবেই এক শ্রেণীর সমাজকর্মীও তাঁর বিরুদ্ধে একই ইস্যুতে মামলা করে। একটা সরকারি ডার্কসেলের একরাতের ঘটনা উঠে আসে এসেছে নাটকে। সেই গভীর রাতে সরকারি আধিকারিকের নির্দেশে সেই সেলে হাজির হয় হিন্দুত্ববাদী নেতা পবন সিং, ইসলামিক সংগঠনের নেতা শাকিল খান এবং সমাজকর্মী অরুনোদয় রায়। এঁদের প্রত্যেকের সঙ্গেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে যুক্তি–পাল্টা যুক্তি চলতে থাকে সব্যসাচীর। শেষে, সরকারী সেলের ভিতরেই রাষ্ট্রের নির্দেশে খুন হন সব্যসাচী। 
এই নাটকে সব্যসাচী চরিত্রটিকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন নাট্যকার। গোটা পৃথিবী জুড়ে যেভাবে শিল্পী–সাহিত্যিক–বুদ্ধিজীবি–সংস্কৃতিকর্মীদের ওপর রাষ্ট্রের কুঠারাঘাত নেমে আসছে তাদেরই যেন প্রতিনিধি সব্যসাচী। কেন্দ্রীয় চরিত্র সব্যসাচীর ভূমিকায় ছিলেন পার্থ বন্দ্যোপাধ্যায়। এছাড়াও বিভিন্ন চরিত্রে ছিলেন গৌরব, শুভ্রজ্যোতি, ধ্রুপদ, রাজা। নাটক- মঞ্চ ভাবনা ও সামগ্রিক পরিকল্পনা ও একটি বিশেষ ভূমিকায় শমিত ঘোষ‌। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top