আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌নারীচরিত্র বোঝার ক্ষমতা স্বয়ং ভগবানেরও নেই’। এই একটি সংলাপেই বোঝা যাচ্ছে, ‘‌দময়ন্তী‌’‌–এর চরিত্রটি রহস্য ও মায়ায় ভরা। পেঁয়াজের খোসার মতো ধীরে ধীরে যা উন্মুক্ত হবে দর্শকের কাছে। টিজারের কয়েক ঝলকেই এটা স্পষ্ট, তুহিনা দাস ছাড়া এই চরিত্রে অন্য কাউকে মানাত না। ইতিহাসের অধ্যাপক। কিন্তু সে সত্যসন্ধানী। সে ভুল করে। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই। আর এখানেই ফেলুদা বা কাকাবাবুর থেকে সে এক্কেবারে আলাদা। তবে টিজারে যতটাই রহস্যময়ী হয়ে উঠেছে দময়ন্তী, ততটাই ছন্দ কেটে গিয়েছে টাইটেল ট্র‌্যাকটি মুক্তি পাওয়ার পর। শার্মিন সুলতানা সুমির গলায় গানটি নারী শক্তির আমেজ এনে দিলেও গানটির কথা ও সুর কানে বেমানান লাগছে। এবং গানের কথাগুলিকে বাংলা ভাষার মতো শোনাচ্ছে না। 

 

চরিত্রের খুঁটিনাটি নিয়ে ‘‌আজকাল ডিজিটাল’–কে কী বললেন অভিনেতা তুহিনা দাস?‌
● ট্রেলারে দেখা যাচ্ছে, ক্রাইম স্পটে শাড়ি গয়না পরে দময়ন্তী তদন্ত করতে যাচ্ছে, এটা একটু চোখে লাগছে। সবক্ষেত্রে এরকম কাস্টিউমের কারণ কী?‌
তুহিনা:‌ এটার উত্তর সবথেকে ভাল দিতে পারবেন আমার পরিচালকেরা। তবে যদি আমার মতামত চাও, আমার মনে হয়, যেহেতু আর পঁাচজন গোয়েন্দার সঙ্গে দময়ন্তীর মিল নেই। যেহেতু সে একজন অধ্যাপক। যেহেতু তার পেশা গোয়েন্দাগিরি নয়। শখ এবং ভালবাসা। তাই ওরকমভাবে ড্রেস কোড নিয়ে ভাবা হয়নি। আমার ধারণা, এটা খানিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতই। এই মহিলা রোজকার দিনে যেরকম, আচমকা একটি ক্রাইম স্পটে যেতে গেলেও সে নিজেকে বদলাবে না। সে নিজের মতোই থাকবে।  
● সহ অভিনেতাদের ভূমিকা কতটা সাহায্য করেছে তোমার অভিনয়ে? যেহেতু অভিনয় করার সময়ে উল্টোদিকের মানুষটার অভিনয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তুহিনা:‌ হ্যাঁ, এটা ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটি জিনিস। আমি একা ফাটিয়ে বেরিয়ে গেলাম, বা আমার সহ অভিনেতা একা ফাটিয়ে বেরিয়ে গেলাম, তাহলে কিন্তু আসল প্রডাক্টটা নিঁখুত হয় না। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। তাই প্রত্যেকের সঙ্গে প্রত্যেককে সহযোগিতা করে চলতে হয়। আর আমি বলব, এই সিরিজটিতে কাজ করতে গিয়ে আমার সবথেকে ভাল অভিজ্ঞতা হয়েছে। আমার অভিনেতা, পরিচালক, বাকি শিল্পীরা প্রত্যেকেই গোটা পরিবেশটিকে ঘরোয়া করে তুলেছিল। ইন্দ্রাশিস আমার স্বামীর চরিত্রে অভিনয় করেছে। প্রায় ১০ থেকে ১১ বছর সে এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছে।

তার প্রতিফলন তার কাজে স্পষ্ট। আর যেটা আমাকে খুব সাহায্য করেছে। গল্পের ত্রয়ী অর্থাৎ আমি, ইন্দ্রাশিস এবং সৌম্য, এই তিনজনেই সবথেকে বেশি স্ক্রিন শেয়ার করেছি। সৌম্যও অনেকদিন ধরে অভিনয় করছে। এছাড়া রয়েছেন চান্দ্রেয়ীদির মতো একজন অভিজ্ঞ অভিনেতা, অমৃতার মতো একজন যোগ্য অভিনেতা এবং আরও অনেকে। সবাই মিলে সিরিজটিকে সেই উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে বলে আমার ধারণা। আমার একার কাজ নয় এটা। 
● কোনও সিনেমা বা বইয়ের চরিত্রের সাহায্য নিতে হয়েছিল‌, নাকি সম্পূর্ণ নিজে হাতে তৈরি করেছ দময়ন্তীকে?‌
তুহিনা:‌ না, এক্ষেত্রে আমি ক্রেডিট দেব আমার দুই পরিচালককে। তারা যেভাবে আমার সামনে দময়ন্তীর ছবিটা মেলে ধরেছিল, তার পর আর কোনও ফিকশনাল চরিত্রের সাহায্য আমার লাগেনি। বাকিটা আমি নিজেই ভেবেছি। একজন এরকম উচ্চশিক্ষিতা মেয়ে। রহস্যের সন্ধান করে বেড়ায়। মেয়েটি কীভাবে ভাববে, কীভাবে কথা বলবে, সব খুঁটিনাটি আমি অরিত্র ও রোহনের সঙ্গে আলোচনা করে করে তৈরি করেছি। কখনও অভিনয় করে দেখায়নি ওরা আমায়। শুধু আলোচনাতেই দময়ন্তীর জন্ম হয়েছে। জানি না কেমন হয়েছে, কিন্তু আমি এভাবেই চেষ্টা করেছি, একজন নতুন সত্যসন্ধানীকে দর্শকের সামনে নিয়ে আসতে।   
● ‘‌নারীচরিত্র বোঝার ক্ষমতা ভগবানেরও নেই’‌, এর থেকেই বোঝা যাচ্ছে, এটা কেবল একজন অধ্যাপক রহস্যের সন্ধান করছেন, তার গল্প নয়। কোথাও গিয়ে কি দময়ন্তীও ঘটনাগুলির একজন হয়ে উঠছেন? 
তুহিনা:‌ এক্কেবারে ঠিক। ইতিহাসের অধ্যাপক। কিন্তু সে সত্যসন্ধানী। সে ভুল করে। আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতোই। আর এখানেই ফেলুদা বা কাকাবাবুর থেকে সে এক্কেবারে আলাদা। বাকি গোয়েন্দাদের থেকে আলাআদদা হওয়ার আরও কিছু কারণ রয়েছে। প্রত্যেকটি কেসকে দেখার ও চিন্তাভাবনা করার ক্ষেত্রে দময়ন্তীর একটা আবেগ কাজ করে। সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, একজন মহিলার চোখ দিয়ে রহস্য ও অপরাধকে দেখাটা সম্পূর্ণ আলাদা। প্রযুক্তিগতভাবেও খুব দক্ষ সে। ঘটনাগুলির একজন হয়ে ওঠার পেছনে তার এই মানবিক গুণগুলোই কাজ করেছে। নারী ক্ষমতায়নের একটি দৃঢ় বার্তা রয়েছে।
অরিত্র সেন ও রোহন ঘোষ পরিচালিত নতুন ওয়েবসিরিজ ‘‌দময়ন্তী‌’‌। ‘‌রোডশো ফিল্মস’–এর প্রযোজনায়‌ ‘‌হইচই’–‌তে পুজোর সময়ে সিরিজটি মুক্তি পাচ্ছে। অভিনয়ে, তুহিনা দাস, অমৃতা চ্যাটার্জি, ইন্দ্রাশিস রায়, সৌম্য ব্যানার্জি, চান্দ্রেয়ী ঘোষ, প্রমুখ।

জনপ্রিয়

Back To Top