দক্ষ অভিনেতা। এই আকালের বাজারেও প্রশংসার নুড়ি কুড়িয়েছেন। সেই তিনি কি গ্রহরত্নেও বিশ্বাস করেন?‌ ভাঙা মোহের চাকে ঢিল ছুঁড়লেন সুতপা ভৌমিক

 গ্রহরত্নের বিজ্ঞাপনে আপনি মডেল!‌ গ্রহের ফের আর রত্নে দোষমুক্তি। নিজে এসবে বিশ্বাস করেন নাকি?‌
অনির্বাণ ভট্টাচার্য:‌ নাহ্‌, আমি নিজে বিশ্বাস করি না। 
 বিশ্বাস নেই তো কাজটা করলেন কেন?‌ আপনার কেরিয়ারে গ্রহরত্নের কোনও ভূমিকা নেই?
অনির্বাণ:‌ বিজ্ঞাপনে এটা আমার প্রথম কাজ। গ্রহরত্ন নিয়ে সমাজে দু’‌তিন রকমের ধারনা আছে। একদল বলেন জ্যোতিষ হল বিজ্ঞান। অন্যদল বলেন বুজরুকি। যুক্তিবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যাঁরা জড়িয়ে, তাঁরা এটা নিয়ে কাজ করেন। যিনি জ্যোতিষ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন, তিনি অন্যভাবে দেখেন। দুর্ভাগ্যবশত আমি কোনওটাই নই। আমি একটা মুখ। একটা শরীর। যা ব্যবহার্য হবে বলে নির্দিষ্ট হয়েছে। পেশাদার অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছি। শুনেছি, কিছু মানুষ আমি এই বিজ্ঞাপন করায় ব্যথিত হয়েছেন। কেউ কেউ রেগে গেছেন। মোহভঙ্গ ঘটেছে কারও কারও। গ্রহরত্নের বিজ্ঞাপনে আমাকে দেখবেন বলে ভাবেননি। আমি ভুল–ঠিক বিচার করার কেউ নই। বলছি না, যা করেছি ঠিক করেছি। আবার এ–ও বলছি না, আমার ভুল হয়ে গেছে। আমার ব্যক্তিগত বিশ্বাস, গ্রহরত্ন পরি কি পরি না, সেটা জানাতে আগ্রহী নই। আমি ধনঞ্জয়ের রোল করি, আরএসএস অধ্যুষিত মহীতোষ শূরের রোল করি ‘ঊমা’তে, ‘ওথেলো’ নাটকে ইয়াগোর চরিত্র করি, আবার আমিই গ্রহরত্নের বিজ্ঞাপন করি। এবার মানুষ বিচার করবেন, কোন আমিটাকে নেবেন। আমার কাউকে কোনও নোটেশন দেওয়ার নেই। ‌আর আমার কেরিয়ারে গ্রহরত্নের ভূমিকা নেই। কোনওদিনই নেই। 
 ‌ছাপোষা স্বভাব পছন্দ?‌ নাকি স্টার হওয়ার আকর্ষণ আছে?‌
অনির্বাণ:‌ আমার কোনও স্টারিজম নেই। নাম্বার গেমেও আমি নেই। অভিনেতা হিসেবে সবচেয়ে বেশি নির্ভর করি মনের ভেতরের সন্তুষ্টির ওপর। আমি সবার আগে বুঝি, কাজটা সৎ হচ্ছে, নাকি ফাঁকিবাজি আছে। 
 পরিচিতরা মন রাখতে বলেন ‘‌ভাল হয়েছে।’‌ কেউ আবার ভেতর থেকে বলেন। তফাতটা ধরতে পারেন?‌ 
অনির্বাণ:‌ আমার বন্ধুর সংখ্যা খুব কম। যারা বন্ধু, তারা মুখের ওপর বলে, ‘‌জঘন্য হয়েছে’‌। বন্ধু বলেই তাদের সঙ্গে তর্ক করি। পরিচালকের সঙ্গে ভুল–ঠিক নিয়ে আলোচনায় থাকতেও রাজি। কিন্তু কাজ করেছি অথচ কে তা নিয়ে ভাঁওতা দিয়ে বলছে, এই ঘেরাটোপে আমি নেই। ওটা মনে হয় সময় নষ্ট। 
 কখনও অভিনয় করার পর মনে হয়েছে ফাঁকি দিয়েছেন?‌
অনির্বাণ:‌ ফাঁকি দিইনি। তবে অভিনয়ে সত্যকে মূর্ত করতে হয়। কিন্তু সত্য হল উড়ো মেঘের বৃষ্টির মতো। আপনার মাথার ওপর দিয়ে মেঘ উড়ে যাচ্ছে। কিন্তু নিশ্চিত করে বলতে পারবেন না যে, এই মেঘ থেকে জলকণা পড়বেই। অভিনেতার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, তাকে সত্য প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু সে সত্যকে অধিকার করতে পারে না। 
 সইশিকারীর ভিড়, সেল্‌ফি তোলার আবদার ভাল লাগে?‌
অনির্বাণ:‌ মন খারাপ হয় না। বরং খুশি হই। আমি খুব সাধারণ জীবন কাটাই। এখন টুকটাক সেল্‌ফি নেওয়ার ভিড় হয় ঠিকই। তবে এটুকুও না হলে ভাল হত। 
 ‘এক যে ছিল রাজা’য় আপনি কোন চরিত্রে?‌ শুটিং শুরুর আগে ভাওয়াল সন্ন্যাসী নিয়ে কি খুব পড়াশোনা করতে হল?‌
অনির্বাণ:‌ আমি ভাওয়াল রাজার শ্যালক। আর অভিনয়টা প্রচুর পড়াশোনার ওপর নির্ভর করে না। ভাওয়াল সন্ন্যাসীর প্রামাণ্য দলিল এই ছবি। সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেও বলছি, উত্তমবাবুর ‘‌সন্ন্যাসী রাজা’‌ প্রামাণ্য দলিল নয়। অনেকটাই কাল্পনিক চিত্রনাট্য। পার্থ চ্যাটার্জির একটা বই আছে— ‘‌প্রিন্সলি ইমপস্টার’‌। সৃজিতদা আসল কোর্ট কেসটা স্টাডি করে ওই বইটা থেকে রূপরেখা তৈরি করে চিত্রনাট্য বানিয়েছেন। সেটাই যথেষ্ট বোঝার জন্য। 
 সৃজিত মুখার্জির কাছ থেকে প্রস্তাবটা এল কীভাবে?‌
অনির্বাণ:‌ সৃজিতদা একই সঙ্গে ‘‌ঊমা’‌ আর ‘‌এক যে ছিল রাজা’‌র প্রস্তাব দিয়েছিলেন। ‘‌এক যে ছিল রাজায়’‌ প্রথমে আমার চরিত্র অন্য ছিল। তবে চরিত্র বদল নিয়ে কোনও আক্ষেপ নেই। 
 হঠাৎ ভাড়াবাড়ির দিনে ফিরতে হলে অস্বস্তি হবে?‌ 
অনির্বাণ:‌ ভাড়াবাড়িতে আর ফিরতে হবে না। বাড়ি কিনেছি। ইএমআই চলছে। দিতে না পারলে ব্যাঙ্ক থেকে লোক এসে বের করে দিতে পারে। তবে পুরনো দিনে ফিরতে অসুবিধে হবে না। কারণ, কাজ থামবে না। সাতটা সিরিয়ালে চান্স না–ই পেতে পারি। কিন্তু অন্য কাজ চলবে। আমি তো স্টার হতে আসিনি।
 তা হলে কী হতে এসেছেন?‌
অনির্বাণ:‌ কাজ ভালবাসি। কর্ম আনন্দযজ্ঞ টাইপের ব্যাপার। সেটা করতে করতেই এই জায়গায় এসেছি। 
 অরিন্দম শীল আপনার কাছে?‌
অনির্বাণ:‌ ফাদার ফিগার। প্রথম ‌এনেছিলেন অপর্ণা সেন। তবে নামের ব্যাপ্তি ঘটেছে অরিন্দম শীলের জন্য। অরিন্দম শীল, অপর্ণা সেন এবং সৃজিত মুখার্জি— এই তিনজনের কাছে আমি বিভিন্ন কারণে কৃতজ্ঞ। 
 নিজেকে কখনও টার্গেটে বাঁধেন?‌
অনির্বাণ:‌ নাহ্‌। তবে থিয়েটারে লক্ষ্য আছে। বড় স্কেলে প্রযোজনার ইচ্ছে আছে। পরিচালনা করব। তবে তার জন্য মঞ্চের বাইরের থিয়েটার গোটা বিশ্বে কেমন হচ্ছে, সেই বিষয়ে সত্যিকারের জ্ঞানার্জন করতে হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top