অদিতি রায়: • একজন দারুণ সুন্দরী বান্ধবী অথবা ফিল্মে একটা বিরাট ব্রেক, কোনটা বেছে নেবেন?‌
•• সবসময়ই একটা বিরাট ব্রেক। বান্ধবী তো আমার জীবনে প্রচুর আছে (‌হাসি)‌। তারা আমাকে খুব ভালবাসে, আমিও তাদের খুব ভালবাসি। তারা আমার কাজ পছন্দ করে। কাজ না থাকলে কিছুই থাকবে না।
• একটা বড় ব্রেক দরকার কেন মনে হচ্ছে?‌
•• আমার যে পেশা, সেখানে দৃশ্যমানতা সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। টেলিভিশনে ‘চ্যাম্পিয়ন‌’‌, ‘গানের ওপারে‌’‌, ‘‌অদ্বিতীয়া’‌র পর বড় পর্দায় ‘রঙ মিলান্তি‌’‌, এগুলো দিয়ে আমার যে পরিচিতি তৈরি হয়েছে, সেগুলো বাঁচিয়ে না রাখলে টিকে থাকা সম্ভব নয়। কাজেই সময়ে সময়ে একটা করে ভাল কাজ খুব জরুরি, এগিয়ে যাওয়ার জন্য।
• শুরুটা যে ভাবে হয়েছিল, প্রত্যাশামতো কেরিয়ার গ্রাফটা এগিয়েছে?‌
•• ওই পর্বটার পরও আমি ‘হৃদমাঝারে‌’‌ বা ‘‌চতুষ্কোণ’‌-‌এর মতো ছবিতে কাজের সুযোগ পেয়েছিলাম। আবার বোধহয় এমন একটা সময় এসেছে যখন আর একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ আমার দরকার। ভাল কাজের জন্য অপেক্ষাও করতে হয়। সব কিছু তো আমাদের হাতে থাকেনা। আমি খুব বেশি কাজ নিইনা। চেষ্টা করি অপেক্ষা করতে। আর এই অপেক্ষা করা মানে গ্রাফ নিচের দিকে যাচ্ছে, তাও না। আমি যে খুব গর্বিত নিজেকে নিয়ে তাও নয়, আমি যে কোনও পরিস্থিতিতেই জীবন এনজয় করি।
• মিমি চক্রবর্তী ‘চ্যাম্পিয়ন‌’‌ এবং ‘গানের ওপারে‌’‌, সোহিনী সরকার ‘‌অদ্বিতীয়া’‌-‌তে আপনাদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন। ওঁদের কেরিয়ার গ্রাফ আপনাকে বা অর্জুনকে ছাড়িয়ে তড়তড় করে এগিয়েছে। এর কারণ কী?‌
•• অবশ্যই ওরা দারুণ ভাবে এগিয়ে গেছে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আমি খুব খুশি ওদের এই সাফল্যে। একসঙ্গে কাজ শুরু করেছিলাম। কাজের বাইরে আমরা এখনও একই রকম বন্ধু। আমাদের মধ্যে কোনওদিন দ্বন্দ্ব হয়নি এ নিয়ে যে, ওরা কেন এত সফল হয়ে গেল। এটাই আমাদের প্রজন্মের বৈশিষ্ট্য। তবে কারণ কী, আমাকে যদি জিজ্ঞেস করেন সেটা বলা আমার পক্ষে কঠিন। ওদের যে সময় যেটা পাওয়া উচিত সেটা পেয়েছে, এটা তো খুব ভাল। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতে অভিনেতাদের সাফল্য একটু পরেই আসে বোধহয়। অভিনেত্রীরা বরং সাফল্যের স্বাদ অনেক আগেই পেয়ে যান। কারণ তাঁদের পেশাগত জীবনের থেকে অভিনেতাদের পেশাগত জীবন খানিকটা বেশিই দীর্ঘ হয়, বুম্বাদা (‌প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়)‌ তার সবথেকে বড় উদাহরণ। যিশুদাও (যিশু সেনগুপ্ত‌)‌ এখন কী ভাল ভাল কাজ করছে, কতদিনের অপেক্ষার পর। কাজেই আমার মধ্যে কোনও হীনমন্যতা নেই, আমিও অপেক্ষায় আছি (হাসি‌)‌।
• আপনি বলতে চাইছেন অল্পবয়সী নায়িকাদের চাহিদা বাচ্চা নায়কদের থেকে বেশি?‌
•• না না, তাহলে ঋতুদি (ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত‌)‌ এতদিন ধরে দাপটের সঙ্গে কাজ করতে পারত না। মিমি বা সোহিনীও সেই ফোকাসটা রেখেছিল কাজে, পরিশ্রম করেছে, তার ফল পেয়েছে।
• পরমব্রত, আবির, ঋত্বিক, রুদ্রনীল, এঁদের পরবর্তী প্রজন্ম আপনারা। সোহিনী, মিমি, প্রিয়াংকা, নুসরতের মতো আপনাদের প্রজন্মের অভিনেত্রীরা চুটিয়ে পরমব্রত-‌‌আবিরদের নায়িকার ভূমিকায় অভিনয় করে যাচ্ছেন, আপনাদের নায়ক করে ছবি বানানোর কথা পরিচালকরা ভাবছেন না কেন?‌
••  হয়ত আমাদের ওপর ভরসা করতে পারছেন না পরিচালক-‌প্রযোজকরা। এটাও ঠিক, আমি বা আমরা সত্যিই নিজেদের প্রমাণ করার সুযোগটা পাইনি এখনও। তবে কোনওদিনই পাবনা, এতটাও নেতিবাচক চিন্তা ভাবনা আমি করিনা। আমরা বিশ্বাস করি, একদিন না একদিন অপনা ভি টাইম আয়েগা (‌হাসি)‌। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিটাও তো ছোট, যে পাঁচ বা ছ’‌জন প্রথম সারির পরিচালক রয়েছেন তাঁরা আমাদের আগের প্রজন্মের ওপরই এখনও ভরসা রেখেছেন। সৃজিত মুখোপাধ্যায়, কৌশিক গাঙ্গুলি, অরিন্দম শীলদের মতো পরিচালকদের সঙ্গে আমার প্রায়ই সাক্ষাৎ হয়, তাঁদের বলি কাজের জন্য, তাঁরাও বলেন হবে। অতএব আমি জানি হবে। আমি পালিয়ে যাবনা। আর নতুন প্রজন্মের পরিচালকরাও এসে গেছেন। এটা ইন্ডাস্ট্রির জন্য খুবই ভাল। তাঁরাও একদিন আমাদের নিয়ে ভাবনা-‌চিন্তা করবেন, কাজেই হতাশ হওয়ার মতো কিছু হয়নি।
• এই অপেক্ষার মাঝখানে ‘‌ব্যোমকেশ গোত্র’‌ বা ‘নগর কীর্তন‌’‌-‌এর মতো কাজগুলো করা কি খুব জরুরি?
•• জরুরি কিনা আমি বলতে পারব না। যে ছবি দুটোর নাম নিলেন, সেই ছবি দুটোর পরিচালকের সঙ্গে আমার অত্যন্ত ভাল সম্পর্ক। ওঁদের সঙ্গে কাজ করতে যেমন ভাল লাগে, তেমনই ওঁদের ওপর আমার আস্থা আছে। আমার প্রথম ছবি ‘রঙ মিলান্তি‌’‌ কৌশিকদা’‌র সঙ্গে, ‘‌দুর্গা সহায়’‌-‌এ আমাকে বেশ গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র দিয়েছিলেন অরিন্দম দা। আমি কোনও বাধ্যতা থেকে ওঁদের সঙ্গে কাজ করিনা। ‘‌ব্যোমকেশ গোত্র’‌-‌তে অঞ্জন দত্তর ছোটবেলার চরিত্রে কাজ করেছিলাম, আর ‘‌নগর কীর্তন’‌-‌এ ছোট হলেও আমার চরিত্রটা হারিয়ে যায়নি, তিনটি দৃশ্যে অভিনয় করে, কাগজে এক লাইন হলেও, আমার উল্লেখ ছিল। ওঁদের ‘না‌’‌ বলার কোনও কারণই আমার নেই।
• টেলিভিশনে আবার ফিরলেন কেন?‌
•• ‘প্রেমের কাহিনী‌’‌ করেছিলাম ২০১৭-‌তে। তারপর ১ বছর বাদে ‘বাজল তোমার আলোর বেণু‌’‌। এটা ঠিক ফেরা বা চলে যাওয়া আমি বলব না। আমার কাছে যখনই টেলিভিশনে কাজের প্রস্তাব আসে, আমি ভেবে দেখি। এখন ধারাবাহিকে যে সমস্ত বিষয় নিয়ে কাজ হচ্ছে, সেটা আমাদের কারোরই পছন্দ না, কারণ কনটেন্ট ক্রমাগত রিগ্রেসিভ হয়ে যাচ্ছে। তার মধ্যেও যেটা একটু সুস্থ মানসিকতার, সেই কাজ করতে আমি আপত্তি করিনা। আর তাছাড়া টেলিভিশনে কাজ করার প্রধান কারণ আমার ফ্যানরা। তাঁরা আমাকে দেখতে চান নিয়মিত। আমাদের জেনারেশনে এর সবথেকে ভাল উদাহরণ বিক্রম। ও জানে টেলিভিশনে বিপুল সংখ্যক দর্শক আছেন, তাঁদের কথাও ভাবতে হয়।
• ওয়েব সিরিজও তো করছেন প্রচুর.‌.‌.‌
•• হ্যাঁ, এটা করতে দারুণ লাগে। খুব সমসাময়িক কন্টেন্ট এবং প্রচুর বৈচিত্র কাজে। ‘আস্তে লেডিস‌’‌-‌এর দ্বিতীয় সিজনেও আসছি। আরও দুটো ওয়েব সিরিজের কাজ শুরু করব।
• আপনার একটা ‘বিন্দাস‌’‌ ইমেজ আছে.‌.‌.‌
•• হ্যাঁ, সবাই ভাবে আমি খুব পার্টি করি, বিন্দাস টাইপের। এই ইমেজটা আমারও মন্দ লাগেনা। কিন্তু কাজের ব্যাপারে আমি যদি সিরিয়াস না হতাম, তাহলে ১০ বছর ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে পারতাম না। রোজ কাজ করলেই পার্টি করতে ভাল লাগে। টেলিভিশন এই সুযোগটা অন্তত আমাকে দিয়েছে। আর এবার আমি বাবা-‌মায়ের দায়িত্ব নিতে চাই। ওঁরা আমাকে অনেক দিয়েছেন, এবার আমার পালা। আমি ওঁদের কাছে নিজেকে প্রমাণ করতে চাই।
• স্বপ্নের চরিত্র কী?‌
•• ‘চক দে‌’‌র কবীর খান। কিচ্ছু চাইনি আমি আজীবন খেলা ছাড়া !‌ (হো হো করে হেসে উঠলেন বাংলা ইন্ডাস্ট্রির একমাত্র টল-‌ডার্ক-‌হ্যান্ডসাম‌)‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top