আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ১৯৫২ সাল। দেশ স্বাধীন হয়েছে মাত্র পাঁচ বছর আগে। সেই সময় আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়েছিলেন তিনি। সাবলীলভাবে বাকি বিদেশি তন্বীদের সঙ্গে হেঁটেছিলেন সুইম স্যুট পরে। তবে ভোলেননি নিজের ভারতীয় সত্ত্বা। কপালে ছিল টিপ। খোপায় ফুলের মালা।
সেই প্রতিযোগিতায় যদিও জিততে পারেননি। তবে দুনিয়ার দরবারে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছিলেন ইন্দ্রাণী রহমান। সুস্মিতা সেন, লারা দত্তদের পূর্বসূরি। ভারতীয় হিসেবে তিনিই প্রথম যোগ দেন মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায়। 
চমকের এখানেই শেষ নয়। ১৯৫২ সালে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ায় যখন সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে গেছিলেন ইন্দ্রাণী, সঙ্গে ছিলেন স্বামী আর ছেলে। সে সময় বিবাহিতরাও অংশ নিতে পারতেন এই প্রতিযোগিতায়। ইন্দ্রাণীর বয়স তখম মাত্র ২২।
সেবারের প্রতিযোগিতায় দয়ী হয়েছিলেন ফিনল্যান্ডের তরুণী। কিন্তু ইন্দ্রাণীর দৌড় সেখানে থামেনি। বলা যায়, সেখান থেকে শুরু তাঁর পথ চলা। জন্ম চেন্নাইতে। বাবা রামলাল বলরাম বাজপেয়ী ভারতীয়। মা আমেরিকান। নাচে অসম্ভব পারদর্শী ছিলেন। 
মায়ের গুনই পেয়েছিলেন মেয়ে। পাঁচ বছর বয়সে হাতেখড়ি। ওডিসি, ভারতনাট্যম, কুচিপুরী, কথাকলি— চার ধরনের নৃত্যেই ছিলেন পারদর্শী। ১৫ বছর বয়সে বিখ্যাত আর্কিটেক্ট হাবিব রহমানের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ে করেন। হাবিবের বয়স তখন ৩০। তবে নাচ বন্ধ করেননি। ১৯৬১ সালে এশিয়া সোসাইটি টুরে অংশ নেন। ভারতীয় নৃত্যশিল্পী হিসেবে তিনিই প্রথম। 
জওহরলাল নেহরুর আমেরিকা সফরেও নৃত্য পরিবেশন করেন তিনি। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিও দেখেন তাঁর নাচ। ১৯৬৯ সালে পদ্মশ্রী খেতাব পান। এর পর নিউ ইয়র্কেই থিতু হন শিল্পী। উদ্দেশ্য, সেখানে ভারতীয় নৃত্যের প্রচার। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়েও পড়িয়েছেন নৃত্যশিল্প। ১৯৯৯ সালে ম্যানহাটনেই মারা যান শিল্পী। 

জনপ্রিয়

Back To Top