তাঁর গানে অভিভূত শ্রোতারা। কিন্তু রিয়েলিটি শোয়ের চ্যাম্পিয়ন অভিনয়টাও করতে পারেন। সুযোগ পেলে করবেনও। প্রশ্ন করে জানলেন লোপামুদ্রা ভৌমিক

 সফরটা তো ‘‌এলাম, দেখলাম আর জয় করলাম’‌? 
‌অঙ্কিতা ভট্টাচার্য: ব্যাপারটা কিন্তু একেবারেই তা নয়। সা রে গা মা পা–র এই সাফল্যের পেছনে অনেক ঘাম ঝরানোর ইতিহাস। সেই ছোট্টবেলায় মায়ের কাছে আমার নাড়া বাঁধা। মা নিজে অত্যন্ত ভাল গান করেন। তাই বাবা–মা আগাগোড়াই চেয়েছিলেন আমি যেন গান নিয়ে সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছতে পারি। আমি উত্তর ২৪ পরগনায় গোবরডাঙার মেয়ে। মফস্‌সল শহরে তো সেভাবে সব ইচ্ছেগুলোকে চালিয়ে নিয়ে যাওয়া সহজ হয় না। নানা প্রতিকূলতা থাকে। আমিও সেগুলোর মুখোমুখি হয়েছি। মায়ের কাছে শেখার পর বাড়ির কাছেই একজন স্যরের কাছে একবছর গান শিখেছি। এরপর দীর্ঘ সাত বছর শিখছি রথীজিৎ ভট্টাচার্যের কাছে। 
 রথীজিৎ তো সা রে গা মা পা–র মেন্টরও ছিলেন?‌ মূলত কী ধরনের গান শিখতেন ওঁর কাছে?
‌অঙ্কিতা: হ্যাঁ। স্যারের শেখানোর ধাঁচটাই একদম অন্যরকম। অনেক কিছু শিখেছি ওঁর কাছে। আমি কখনওই একধরনের গান নিয়ে পড়ে থাকিনি। বরাবর বিভিন্ন ধরনের গান গাইতেই আমার ভাল লাগে। তাই শিখেছিও সব ধরনের গান। 
 সা রে গা মা পা–য় যোগাযোগ হল কী করে?‌
‌অঙ্কিতা: ছোট থেকেই যেখানে গান সেখানেই আমি। বরাবরই বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতাম। মা–বাবাও চাইতেন আমি গানটা সিরিয়াসলি করি। সবথেকে বড় কথা— মা, বাবা এবং অবশ্যই আমারও স্বপ্ন ছিল, একদিন বাংলা সা রে গা মা পা–র মঞ্চে গাইব। তাই সা রে গা মা পা–এর কখন কোথায় অডিশন হচ্ছে খবরাখবর রাখতাম। একদিন হুট করে অডিশনে চলে গেলাম। সেরকম কোনও পরিকল্পনাই ছিল না। সামনে উচ্চমাধ্যমিক। তাই পড়াশুনো নিয়ে একটু ভাবতে তো হবেই। কিন্তু তারপর একটা স্বপ্নের মতো ঘটে গেল সবকিছু। বলতে পারেন, আমার স্বপ্নই আমাকে সা রে গা মা পা–র মঞ্চে ওঠার পথ করে দিয়েছিল। ‌
 এবারের পুজো তো খুব ব্যস্ততায় কাটবে?‌
‌অঙ্কিতা: হ্যাঁ। পুজোতে তো কলকাতায় থাকছিই না। অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি। দিল্লি, মুম্বই, হায়দরাবাদ.‌.‌.‌। একদম টাফ শিডিউল। তারপর কলকাতায় ফিরে এখানকার অনুষ্ঠান। 
 এই ‘‌টাফ শিডিউল’‌ উচ্চমাধ্যমিকে ছাপ ফেলবে না?‌
‌অঙ্কিতা: মনে তো হয় না। কারণ, আমার স্কুল ইছাপুর হাইস্কুলের স্যর–ম্যাডামরা আমায় ভীষণভাবে সাহায্য করেন। ওঁরা প্রত্যেকে চান, আমি যেন গানটা ভালভাবে গাইতে পারি। সেজন্য লেখাপড়ার যাবতীয় খুঁটিনাটি দিয়ে আমাকে সাহায্য করেন। আমিও চাই লেখাপড়া চালিয়েও আমার বাবা–মায়ের স্বপ্ন সফল করতে। 
 সা রে গা মা পা–র মঞ্চে বারবার আপনার মা–কেও গান গাইতে দেখা গেছে। এটা কীভাবে হল?‌
‌অঙ্কিতা: একদিন হঠাৎই আমাকে টিমের পক্ষ থেকে বলা হল যে, তোমার মাকে বলো তোমার সঙ্গে স্টেজে একটা গান গাইতে। আমি তো আকাশ থেকে পড়লাম!‌ মা–তো শুনে ভয়ে, টেনশনে একাকার। আমি জানতাম, মা ভালই গাইবে। তারপর যখন স্টেজে গাইল, তখন তো সবাই খুবই প্রশংসা করলেন। আমিও খুশি। 
 মাকে লাস্ট মিনিট তালিমটা কে দিয়েছিলেন?‌ তুমি?
‌অঙ্কিতা: আমি মাকে তালিম দেব?‌ আমি নিজেই তো মায়ের থেকে শিখি। মা নিজেই নিজেকে তৈরি করেছে। 
 তোমার গলায় কিশোরকুমারের গান শ্রোতারা বেশ পছন্দ করেছেন। মেয়ে হয়ে পুরুষ শিল্পীর গান গাইবার সাহস পেলে?‌
‌অঙ্কিতা: আমি পুরুষকণ্ঠ ও মহিলাকণ্ঠ—উভয়ের গানই গেয়েছি। আমার কিশোরকুমারের গান শ্রোতাদের ভাল লেগেছে এটা ঠিক। এটা আমার পছন্দ তো বটেই। সেইসঙ্গে গ্রুমারদেরও সাহায্য আর অনুপ্রেরণা। আমার নিজের প্রতি বিশ্বাস ছিল, যদি এসব গানের পেছনে নিজেকে নিংড়ে দিতে পারি, তাহলে নিশ্চয় ফল পাব। ‌
 অতীতে দেখা গেছে, রিয়্যালিটি শো–গুলো থেকে যাঁরা উঠে আসেন, কিছুদিন পর তাঁরা এই জগৎ থেকে হারিয়ে যান। নিজেকে টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে আপনার পরিকল্পনা কী?‌
‌অঙ্কিতা: চেষ্টা, টিকে থাকার ইচ্ছে আর লড়াই—এই ত্রিবেণী সঙ্গমে নিজেকে এই জগতে প্রতিষ্ঠা দিতে চাই। এই তিনটে জিনিস যদি নিজের মধ্যে ধরে রাখতে পারি, তবে অতীতের উদাহরণ ভুল প্রমাণিত হলেও হতে পারে। 
 এই জগতে টিকে থাকতে গেলে নিজের গান জরুরি। আপনি তো শুধু অন্যের গানই গেয়ে যাচ্ছেন‌!
‌অঙ্কিতা: আমার নিজের গান খুব শিগগিরি শুনতে পাওয়া যাবে। বেশ কয়েকটা গান আমার ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়াও হয়েছে। ‘‌তিতলি’‌ নামের একটা ছবিতে প্লেব্যাকও করলাম। পুজোতেও একটা নতুন গান বেরচ্ছে ইউটিউব চ্যানেলে। মুম্বই থেকেও গান গাইবার ডাক পেয়েছি। 
 আগামীতে নিজেকে কীভাবে দেখতে চান?‌
‌অঙ্কিতা: আমি চাই মানুষ আমার গান ভালবেসে শুনুন। বিশাল নাম হোক, খ্যাতির বন্যায় ভাসিয়ে নিয়ে যাক— এমনটা সত্যিই আমার আকাঙ্খা নেই। সবদিক থেকে ভাল গায়িকা হতে চাই। তাছাড়া আমি একটা সময় নাটক করেছি। যাত্রাও করেছি। অভিনয় করারও খুব ইচ্ছে আমার। যদি সিনেমায় অভিনয়ের ডাক কখনও পাই, নিশ্চয়ই যাব। গান আমার প্রথম ভালবাসা। তারপর একে একে থিয়েটার, যাত্রা, সিনেমা.‌.‌.‌।
 আর লেখাপড়া?‌
‌অঙ্কিতা: একদম লাস্ট! লেখাপড়াটা আমার একদম পছন্দ নয়। মোটেই ভাল্লাগে না। তবে অনিচ্ছা সত্বেও গ্র‌্যাজুয়েশনটা করতেই হবে। নইলে বাবা–মা প্রচুর পেটাবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top