দ্বৈপায়ন দেব: দৃশ্যান্তর। পরিচালনা:‌ রানা ব্যানার্জি। অভিনয়ে:‌ শ্রাবন্তী, দেবশংকর হালদার, ইন্দ্রানী হালদার, ভিকি দেব, দুলাল লাহিড়ী, কথাকলি দেব, পঙ্কজ মুন্সি।
মঞ্চের রহস্য। আর জীবনের রহস্য।
কখনও নাটক অভিনয়। আবার কখনও জীবনের ভেতরেই ঘটে যাওয়া নাটক।
এই নিয়েই তরুণ পরিচালক রানা ব্যানার্জি ছবি ‘‌দৃশ্যান্তর’‌। যেখানে এই দুই বাস্তবতার মধ্যে একটা কাটাকুটি খেলা তৈরির চেষ্টা আছে। আর সেই সূত্রেই কাহিনীতে রহস্যের নেমে আসা। ছবির শুরু অবশ্য খুবই সাদামাটা ঢংয়ে। এক নাট্য আসন্ন প্রযোজনার প্রস্তুতি আর তা ঘিরে উদ্ভূত কিছু সমস্যাকে কেন্দ্র করে। এই নাট্য পরিচালক অসিত (‌‌দেবশংকর হালদার‌)‌‌ চায় তার আগামী ব্যয়বহুল মঞ্চায়নটি প্রযোজনা করুন তাঁর এলাকার ধনাঢ্য ব্যবসায়ি ব্যানার্জিবাবু (‌‌দুলাল লাহিড়ি)‌‌। ব্যানার্জিবাবুর আগ্রহ অবশ্য নিজের নাতনিকে নাটকে জায়গা করে দিতে এবং অসিতের বাড়ি লাগোয়া একটি জমি কিনে নিতে। অনন্যোপায় অসিত জমিটি বিক্রিই করে দেয় এবং সেই টাকা লাগায় তার আসন্ন প্রযোজনায়। এই প্রযোজনায় তাঁর ১২ লাখ টাকা প্রযোজন (‌‌পরিমাণটা কিন্তু একটি ছোট নাট্যদলের পক্ষে বড়ই আকাশ কুসুম!‌)‌‌। এই প্রয়োজনের পারদটা চড়েছে একটাই কারণে। কারণ ওই নাটকের মুখ্য চরিত্রে অসিত চায় অভিনয় করুন নামী নায়িকা রূপসা (‌‌শ্রাবন্তী)‌‌। রূপসাকে তার দলে প্রয়োজন দলকে জনপ্রিয়তা এনে দিতে ও প্রথম সারির দল বানাতে!‌
ছবির প্রথমার্ধ খানিকটা যেন কমেডি কেন্দ্রিক। এই টাকাটা জোগাড় করতে একজন নাট্যকর্মীকে কতটা কষ্ট করতে হচ্ছে বা এটা নীতিগতভাবে একটা গ্রুপ থিয়েটারে সঠিক সিদ্ধান্ত কিনা –‌এসব নিয়ে টুকরো–‌টাকরা কথা চিত্রনাট্যে আছে ঠিকই, তবে তা ওই অস্পষ্ট টুকরো–‌টাকরাই। বরং কাহিনীকার–‌পরিচালক যেন ঠিক করেই রেখেছেন প্রথমার্ধকে খানিকটা ‘‌কমিক’‌ আদল দেবেন, নায়িকাকে নিতে গিয়ে কী কী অদ্ভূত পরিস্থিতিতে পড়তে হচ্ছে অসিতকে, তা বিস্তারিতভাবে দেখিয়ে। যেমন নায়িকার সেক্রেটারি বিপিনদার অদ্ভূত কথাবার্তা, বা মহলায় এসে নায়িকার এসি রুমের চাহিদা, বা মহলাতেও তাকে সারাক্ষণই বাউন্সারের ঘিরে থাকা ইত্যাদি। এগুলোতে ‘‌ড্রাই’‌ বা ‘‌ব্ল্যাক’‌ রসিকতার যে মাত্রাটা থাকা দরকার ছিল তা যেন আসেনি। আবার দলের পুরনো নায়িকার (‌‌কথাকলি দেব দারুণ করেছেন)‌‌ অভিমান হবার গল্পকেও তেমন স্পেস দেননি!‌
প্রথমার্ধের শেষদিক থেকেই গোটা ব্যাপারটা যেন আধা ভুতুড়ে আধা রহস্যে ঝাঁপ মেরেছে। সেখানে হঠাৎই থিয়েটার দলের সমস্যাগুলো উধাও হয়ে গেছে!‌ তবে রহস্যর আমেজটা মন্দ নয়। চিত্রনাট্যে একটা অচেনা স্বাদ আছে। শুধু এই রহস্য ব্যাপারটাতে আরও আগে থেকেই ঢুকে পড়া দরকার ছিল। তাহলে দর্শকের আর মনে হত না যে ছবির ফোকাসটা হঠাৎ নড়ে গেল!‌
থিয়েটারের জগৎকেই ফুটিয়ে তোলা, ফলে বেশ স্বচ্ছন্দ লেগেছে দেবশংকর হালদারকে। তবে তাঁর মুখভর্তি দাড়ি রহু জায়গাতেই মুখের অভিব্যক্তিকে যেন ঢেকে দিচ্ছে, এমনটা মনে হয়েছে। গোয়েন্দা পুলিস  অফিসারের চরিত্রে ইন্দ্রানী হালদার বুঝিয়ে দিয়েছেন এমন চরিত্রে তাঁর সপ্রতিভতা সহজাত। শ্রাবন্তী এধরণের চরিত্র প্রথম করলেন। কিন্তু বেশ সাবলীল থেকেছেন তিনি। কী থিয়েটারের ভেতরের চরিত্রে। কী ভয় পাওয়ার দৃশ্যে নবাগত ভিকি দেবও ভালো। একটি দৃশ্যে পঙ্কজ মুন্সী অনবদ্য। শুধু একজন যাত্রা অভিনেতা কেন যে, ‘‌বিসর্জন’‌–‌এর পার্ট বলবেন কে জানে!‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top