আজকাল ওয়েবডেস্ক: উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য!‌ দিশা সালিয়েন মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে একটি ভিডিও করেছিলেন। সেটি পোস্ট করেছিলেন বন্ধুদের হোয়াটস্যাপ গ্রুপে। সেই ভিডিওটি সামনে আসায় অনেক জল্পনা ভেঙে গেল আপনাআপনি। 
সুশান্তের প্রাক্তন ম্যানেজার দিশা স্যালিয়েনের মৃত্যু হয় সুশান্তের মৃত্যুর দিন কয়েক আগেই। মুম্বই পুলিশ দু’‌টি ঘটনাকেই প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা বলেছিল। কিন্তু সুশান্তের মৃত্যুর ঘটনায় বেশ কয়েকটি ফাঁকফোকড় নজরে আসতেই উত্তাল হয় দেশ। দাবি ওঠে, সুশান্তের মৃত্যু আত্মহত্যা নয়, খুন। অনেকদিন ধরে গোটা দেশ আর্জি জানানোর পরে কেন্দ্র এই তদন্তের দায়ভার তুলে দেয় সিবিআইয়ের হাতে। তার মধ্যে বহুদিন ধরেই দিশার রহস্য মৃত্যুর সঙ্গে সুশান্তের মৃত্যুর যোগসূত্রের সন্ধান করছে পুলিশ। অনেকেরই ধারণা, দিশা আত্মহত্যা করেননি। ১৪ তলার ফ্ল্যাট থেকে ধাক্কা মারা হয়েছে। তার আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত বড় বড় বলিউড তারকারা এবং শিব সেনা দলের রাজনীতিবিদেরা। বিজেপি সাংসদ নারায়ণ রানে পর্যন্ত টুইটারে এই দাবি দিয়েই ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু এই ভিডিওটি সেইসমস্ত ধারণায় আপাতত দাঁড়ি টানল। ৮ জুনের এই ভিডিওয়ে দেখা যাচ্ছে, সেল্ফি ভিডিওটি তুলছিলেন দিশা। তাঁর মুম্বইয়ের মালাডের বাড়িতে পাঁচজন বন্ধু রয়েছেন। নাচানাচি করছেন। তাঁদের মধ্যে একজন দিশার বাগদত্ত রোহন রায়। বাকিদের মধ্যে দিশার ছোটবেলার বন্ধুরাও রয়েছেন। কিন্তু আর কাউকে সেই বাড়িতে দেখা যাচ্ছে না। তাঁদের মধ্যে এক বন্ধু জানিয়েছেন, এই ভিডিওর পরে সেদিন দিশা অত্যধিক মদ্যপান করে ফেলেছিলেন। যার ফলে তিনি আবেগপ্রবণ হয়ে কান্নাকাটিও করতে শুরু করেন। বেশি রাতের দিকে নিজেকে ঘরে আটকে নিয়েছিলেন তিনি। অনেকক্ষণ সাড়া না পাওয়ার পর বন্ধুরা দরজা ধাক্কাধাক্কি করতে শুরু করেন। তার খানিক পরেই দিশা ১৪ তলার বারান্দা থেকে নীচে ঝাঁপ দেন। 
শনিবার দিশার বাবা মা ‘‌ইন্ডিয়া টুডে’–এর সঙ্গে‌ বিশেষ সাক্ষাৎকারে জানালেন, তাঁদের মেয়ের ব্যাপারে ভুয়ো তথ্য ছড়ানো বন্ধ হোক। এসব কিছুই ঘটেনি যা বলা হচ্ছে। দেশবাসীকে তাঁদের আবেদন, ‘‌আমার মেয়ের বদনাম করে নিজেদের উদ্দেশ্য সফল করার চেষ্টা করবেন না দয়া করে। আমাদের একটি মেয়ে ছিল। তাকে আমরা হারিয়েছি। এবারে আমাদের হেনস্থা করে আমাদের মেরে ফেলবেন না। পুলিশ আমাদের সমস্ত রিপোর্ট ও প্রমাণ দেখিয়েছে। আমাদের মেয়ে কখনওই গর্ভবতী ছিল না। আমরা মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখেছি। আমাদের বিষয়ে দয়া করে আর কেউ নাক গলাবেন না। মিডিয়ার বাকস্বাধীনতা রয়েছে ঠিকই। কিন্তু আমাদেরও গোপনীয়তা রক্ষা করার অধিকার রয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top