অদিতি রায়:  • খুব ব্যস্ত বুঝি?‌
•• (‌হেসে)‌ মেগা সিরিয়াল করছি, ব্যস্ততা তো থাকবেই। তার ওপর ‘ত্রিনয়নী‌’‌ তো সবে শুরু হয়েছে। এখন তাই চাপটা অনেক বেশি।
• ‘‌ত্রিনয়নী’‌-‌তে তো সম্পূর্ণ খল চরিত্রে। ভাল লাগছে?‌
•• টেলিভিশনের ফর্ম্যাট তো দিনে দিনে বদলাচ্ছে। আমি যখন শুরু করেছিলাম ১৬/‌১৭ বছর আগে, তখন টেলিভিশনের চরিত্ররা অন্যরকম ছিল। এখন গ্ল্যামারাস, আকর্ষণীয় ভিলেনের যুগ। এটাই নতুন ফর্মুলা। এখানে পুরোটাই সাদা অথবা কালো। হিরোইন সাদা, ভিলেন কালো। সেই ভিলেন শাশুড়ি, ননদ, কাকিমা, জেঠিমা যে কেউ হতে পারে!‌ ধারাবাহিকের গল্প এই সাদা-‌কালোকে ঘিরেই এগোয়। ‘জড়োয়ার ঝুমকো‌’‌-‌তেও আমার এরকম গ্ল্যামারাস ভিলেনের চরিত্র ছিল। সেটাও খুব জনপ্রিয় হয়েছিল। আমার যা বয়স তাতে তো আর হিরোইন করতে পারব না। কাজেই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র করতে হলে নেগেটিভ চরিত্রই একমাত্র অপশন, কারণ পজেটিভ চরিত্রগুলো ভীষণ বাঁধা গতের এবং টেলিভিশনের কন্টেন্টও নতুন কিছু দিতে পারছেনা, বরং নেগেটিভ চরিত্রের শেড অনেক বেশি, যেটা অভিনেত্রী হিসেবে অনেক বেশি উপভোগ্য। আর সবার ওপরে অর্থকরী দিকটাও তো ভাবতে হবে (‌হাসি)‌।
• বাংলা ছবিতে কাজ করলে বোধহয় অর্থকরী দিকটার সেভাবে সুরাহা হয়না, তাই না?‌
•• একেবারেই হয়না। থিয়েটার বা সিনেমায় কাজ করি শুধুমাত্র ক্রিয়েটিভ খিদে থেকে। আর সত্যি কথা বলতে কী, আমার কাছে তো সেরকম ছবির প্রস্তাবও আসেনা। সুতরাং আমাকে তো কাজটা করে যেতেই হবে। টেলিভিশন ছাড়া আমার আর বিকল্প কোথায়?‌
• ‘‌দুর্গা সহায়’‌-‌এ তো বেশ ভাল একটা চরিত্রই পেয়েছিলেন?
•• অবশ্যই। খুব স্বাভাবিক, আমাদের আশেপাশে দেখা, সাধারণ মধ্যবিত্ত বাঙালি ঘরের এক মহিলার চরিত্র।
• এরকম বাস্তবসম্মত চরিত্র তো আরও করতে পারেন.‌.‌.‌
•• অফার না এলে কী করব?‌ (‌হাসতে হাসতে)‌ আমি তো আর কারুর কাছে গিয়ে কাজ চাইতে পারব না!‌ আমাদের ইন্ডাস্ট্রির ধারণা অনুযায়ী যেটাকে ‘পি আর‌’‌ করা বলে, সেখানে আমি জিরো!‌ এতদিন ধরে কাজ করছি, সবাই আমাকে জানেন, আমি হঠাৎ কেন একটা ‘‌পিঠ চাপড়ানো ক্লাব’‌-‌এর অংশ হতে যাব বলুন তো?‌ সত্যি কথা বলতে কী, বাংলা ছবির হাল হকিকৎ যদি দেখেন, তাহলে দেখতে পাবেন সব ছবিতে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে একই শিল্পীরা কাজ করে চলেছেন। পরিচালকের সংখ্যাও ওই হাতে গোনা ৪/‌৫ জন, তাঁরা তাঁদের নিজস্ব গোষ্ঠীভুক্ত অভিনেতাদের সঙ্গে ছাড়া কাজও করেন না, আত্মবিশ্বাসের অভাব কিনা কে জানে!‌ ওই হাতে গোনা পরিচালক আর তাঁদের হাতে গোনা শিল্পীরা নিজেদের মধ্যেই একে অপরের পিঠ চাপড়াচ্ছেন। আমি এই পিঠ চাপড়ানির মধ্যে নেই বাবা!‌ (হাসি‌)‌ তার মধ্যেও টুকটাক কাজ করছি, এই তো মে-‌তেই মুক্তি পাবে ‘দুর্গেশগড়ের সন্ধানে‌’‌। ওখানে খুব বড় কিছু নয়, ছোট একটা চরিত্রে অভিনয় করেছি।
• থিয়েটার করছেন না?‌
•• এখন করছি না। আসল কারণটা হল, আমি অন্য একটা কাজে খুব ব্যস্ত হয়ে আছি। আমার একটা প্রোডাকশন হাউস হয়েছে বছর খানেক হল, নাম দিয়েছি ‘আবোল তাবোল প্রযোজনা‌’‌। সেই ব্যানারে বেশ কয়েকটা জি-‌অরিজিনাল ছবি বানালাম। আরও কিছু হচ্ছে। কাজেই ‘‌অদ্য শেষ রজনী’‌ যেমন চলছে চলুক, নতুন কোনও থিয়েটারের কাজ শুরু করছি না, তেমন আহামরি কোনও অফারও আসেনি।
• থিয়েটার দিয়েই কি অভিনয় জীবন শুরু?‌
•• হ্যাঁ। আমরা বন্ধুরা মিলে একটা থিয়েটারের দল করতাম। তখন আমাদের থিয়েটার দেখতে বেশ কিছু টেলিভিশনের মানুষজন এসেছিলেন। তাঁদের হাত ধরেই টেলিভিশনে কাজের শুরু।
• অভিনয় ছাড়া আর কোনও প্যাশন আছে?‌
•• (‌হাসতে হাসতে)‌ আমি অনেক কিছু করতে ভালবাসি। আমার একটা ছোট বুটিক আছে। ওখানে যাই ক্লান্তি দূর করতে। এছাড়াও প্রোডাকশন হাউসটাকেও ভাল করে দাঁড় করাতে চাই। স্বাধীন ভাবে কাজ করতে হবে তো!‌
• এখনও অবধি যা কাজ করেছেন, কোন কাজটা সবথেকে বেশি তৃপ্তি দিয়েছে?‌
•• ‘‌গানের ওপারে’‌, টেলিভিশনে তো সচারচর তৃপ্ত হওয়ার মতো কাজ জোটেনা (‌হাসি)‌। তবে ‘জড়োয়ার ঝুমকো‌’‌র চরিত্রটা করতেও মজাই পেয়েছিলাম। ‘ত্রিনয়নী‌’‌-‌তে আমার চরিত্রটা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে সেটা এখনই বলা যাচ্ছেনা, সবে তো শুরু। আর অবশ্যই থিয়েটারে ‘অদ্য শেষ রজনী‌’‌। খুব ভাল লাগে এই চরিত্রটা করতে।
• অন্য কারুর অভিনীত চরিত্র দেখে মনে হয়, আপনি করলে অনেক ভাল করতে পারতেন?‌
•• আমি করলে বেশি ভাল করতে পারতাম, এটা বলার মতো ঔদ্ধত্য আমার নেই।
• অন্য কারুর অভিনীত চরিত্র দেখে মনে হয়, ইশ আমি কেন চরিত্রটায় সুযোগ পেলাম না?‌
•• এটা মনে হয় অনেক ক্ষেত্রে। সুচিত্রা সেনের পুরনো ছবিগুলো দেখলে তো মনে হয়ই (‌হাসি)‌। সাম্প্রতিক কালে নেটফ্লিক্সে শেফালি শাহ’‌র চরিত্রগুলো দেখে মনে হয়, আমিও তো করতে পারতাম (‌হাসি)‌!‌ এত ভাল ভাল বিষয় নিয়ে ওরা কাজ করছে, যেটা আমাদের বাংলাতে হয়ইনা। বিষয়-‌ভাবনার বড় দৈন্য এখানে। দিনে দিনে এখানকার বিষয়গুলো ভীষণ রিগ্রেসিভ হয়ে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক কালে কোনও বাংলা ছবি দেখে আমার কাজের ইচ্ছে জাগেনি। যে-‌কটা দেখেছি একটাও ভাল লাগেনি। কাজেই আমার আফশোসও হয়নি। ‌‌

ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top