সৌগত চক্রবর্তী: ‌• প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়ের ছোটগল্প ‘‌আদরিনী’‌ কে এবার সিনেমায় আনছেন আপনি। নাম ‘‌আদর’‌। আজকের এই সময়ে ‘‌আদরিনী’‌কে বেছে নেওয়ার কারণ?‌‌
•• এটা আসলে একজন মধ্যবিত্ত মানুষের সমাজের ওপরতলার মানুষগুলোর ঔদ্ধত্যের জবাব দেওয়ার গল্প। ত্রিপুরার একটি গ্রামের আইনজীবী জয়রাম মুখোপাধ্যায়। যিনি গ্রামের জমিদারকে বিভিন্নভাবে সাহায্য করেছেন। কিন্তু সেই জয়রামই যখন একটি কারণে জমিদারকে অনুরোধ করে একদিনের জন্য তাঁর পোষা হাতিটিকে জয়রামের কাছে পাঠাবার জন্যে তখন সেই সামান্য অনুরোধ আত্মগর্বী জমিদার রাখতে পারলেন না। জয়রাম কীভাবে সেই ঔদ্ধত্যের জবাব দিলেন সেটাই দেখা যাবে সিনেমায়।
• সাধারণত সিনেমায় একজন মানুষকে নিয়েই গল্প এগোয়। কিন্তু আপনার ছবিতে সেই জায়গায় এসেছে একটা ‘‌হস্তিনী’। হাতিকে কেন্দ্র করে সিনেমার গল্প বলতে চাইলেন কেন?‌
•• কারণ, এই পৃথিবীটা যতখানি মানুষের ততখানিই পশুপাখির। আমরা সেই কথাটা ভুলে যাচ্ছি। আমাদের কাজে বারবার বিপন্ন হচ্ছে এরা। মনে রাখতে হবে এরা যদি বিপন্ন হয় তাহলে কিন্তু মানুষের অস্তিত্বও বিপন্ন হবে। সেই বার্তা দেওয়ার জন্য এই ছবি।
• হাতি নিয়ে কাজ করতে অসুবিধে হয়নি?‌
•• খুব অসুবিধে হয়েছিল। আমি তেমন গাধা পরিচালক নই যে পশুপাখি নিয়ে কাজ করার নিয়মকানুন জানব না। এর আগে ‘‌ভল্লু সর্দার’‌ ছবি করেছিলাম একটা কুকুরকে নিয়ে। সেবার কিন্তু সমস্যা হয়নি। সেই থেকেই এই নিয়মকানুনগুলো আমি জানি। কিন্তু, এই ছবির ক্ষেত্রেই দেখলাম বিভিন্ন প্রশ্ন তুলে আমাকে ‘‌হ্যারাস’ করেছেন কর্তৃপক্ষ। যাক সেই সমস্যা মিটে গেছে।
• কোথায়‌‌ এই ছবির শুটিং হল?‌
•• প্রথমে ঠিক ছিল ঝাড়গ্রাম রাজবাড়ি ও তার আশেপাশের অঞ্চলে ছবির শুটিং করব। কিন্তু পরে সমস্যা হল। কারণ, হাতি নিয়ে আসা। আর আমার তো একটা হাতিতে চলবে না। অনেকগুলো হাতি লাগবে সেই সময়ের জমিদারের হাতিশালা বোঝাবার জন্যে। তাই পুরো শুটিংটাই করেছি ত্রিপুরায়। ছবিতে অন্যতম মুখ্য চরিত্রে আছেন রজতাভ দত্ত। তিনিই এই ছবির জয়রাম। এছাড়াও আছেন সব্যসাচী চক্রবর্তী ও বাসবদত্তা চট্টোপাধ্যায়। ছবির প্রযোজক ইমনকল্যাণ ব্যানার্জি ও বর্ণালী ব্যানার্জি। আশা করি শ্রেয়সী প্রোডাকশনের এই ছবি ডিসেম্বরেই মুক্তি পাবে।
• এর আগে ‘‌ভল্লু সর্দার’‌ করেছেন। এবার করছেন ‘‌আদর’‌। ছবির জন্য বারবার ছোট গল্পকে বেছে নিচ্ছেন কেন?‌
•• সিনেমা তো শুধু গল্প বলা নয়, তার সঙ্গে থাকে দৃশ্যও। এটা একধরনের দৃশ্যকাব্য। ছোট গল্পের একটা সুবিধে হল এতে একটা সিনেম্যাটিক স্পেস পাওয়া যায়। এই ছবিতে একটা বেশ বড় দৃশ্য আছে যেখানে প্রচন্ড ঝড়-‌বৃষ্টি আর বিদ্যুত চমকের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছেন রজতাভদা। একটা গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য। ছোট গল্প বলেই এই দৃশ্য রাখার স্পেসটা পেয়েছি। উপন্যাস হলে অতিরিক্ত সংলাপের ভিড়ে এই স্পেসটা পেতাম না।
• এই যে ব্যতিক্রমী বিষয় নিয়ে ছবি করছেন, প্রযোজক পেতে অসুবিধে হয়?‌
•• সে তো হয়ই। কিন্তু ওই যে বলে না মানুষের ওপর বিশ্বাস হারানো পাপ। (‌হেসে)‌ এখনও তো কোনও কোনও মানুষ আছেন যাঁরা এই ধরনের কাজে এগিয়ে আসছেন।
• একজন অভিনেতা হিসেবে আপনি কি কম ব্যবহৃত হচ্ছেন সিনেমায়?‌
•• না, আমি সেটা মনে করি না। পরিচালকরা যেভাবে ভেবেছেন আমাকে সেভাবেই ব্যবহার করেছেন। আমি তাতেই সন্তুষ্ট। আপনারা সাংবাদিকরাও আমার কাজের প্রশংসা করেছেন। এই তো একটা পত্রিকায় আমার একটা ছবির রিভিউতে এক সাংবাদিক লিখেছিলেন অসাধারণ অভিনয় করেছেন দেবদূত। যদিও অন্য অভিনেতাদের সম্পর্কে একটা করে প্যারাগ্রাফ ছিল। কিন্তু আমার সম্পর্কে ওই ‘‌অসাধারণ অভিনয়’‌টা তো লিখেছিলেন তিনি!‌
• ধারাবাহিকে আপনার আগামী কাজ কী?‌
•• এখন তো স্টার জলসার ‘‌নজর’‌ ধারাবাহিকে কাজ করছি। আকাশ আটে একটা নতুন ধারাবাহিক আসছে। তাছাড়া স্টার জলসাতেও একটা নতুন ধারাবাহিক আসছে।
• আর নতুন ছবির কাজ কী?‌
•• কুকুর হল, হাতি হল এবার হয়তো পাখি নিয়ে কাজ করব। তবে তার আগে বিদ্যাসাগরকে নিয়ে একটা কাজ পরিকল্পনায় আছে। এখন তার চিত্রনাট্য লেখা চলছে। আসলে এই মহান মানুষটাকে নিয়ে মানুষ এত কম জানে যে সেটাই আমাকে উৎসাহিত করেছে এই ছবি করতে। এই ছবি কিন্তু এই সময়ের পরিপ্রেক্ষিতেই তৈরি হবে। কিন্তু তাতে একটা চরিত্র হয়ে আসবেন বিদ্যাসাগর। খুব তাড়াতাড়িই হয়তো ছবির শুটিং শুরু করতে পারব।  ‌

জনপ্রিয়

Back To Top