সৌগত চক্রবর্তী:  • অনেকদিন পরে আবার দেব ফর্মুলা ছবিতে?‌
•• আসলে অনেকদিন ধরেই, প্রায় একবছর ধেরেই সুরিন্দার আঙ্কলের (‌‌সুরিন্দার ফিল্মসের কর্ণধার)‌‌ সঙ্গে কথা চলছিল যাতে আবার একসঙ্গে আবার আমরা কাজ করতে পারি। আমরা একটা জায়গায় আসতে চাইছিলাম। তবে এটা যে শুধুই ফর্মুলা ছবি, তা কিন্তু নয়। এটা একটা অত্যন্ত বাস্তববাদী ছবি। এই ছবি রিলিজ করবে ইদ আর জামাইষষ্ঠীর সময়। তাই সেই সময়ের উপযোগী করার জন্য, মানুষকে একটু বিনোদনের স্বাদ দেবার জন্য ছবিতে একটু মশলা মেশাতে হয়েছে।
• ছবিটা কি কোনও রিমেক?‌
•• না, আসলে এই ছবির অনুপ্রেরণা হল একটা দেওয়াল লিখন। অনেক দেওয়ালে দেখবেন চারকোল দিয়ে একটা মেয়ের এবয়ব আঁকা থাকে আর তার পাশে লেখা থাকে ‘‌মিসিং’‌। আসলে এটা একটা এনজিও। ‘‌কিডন্যাপ’‌ ছবির ‘‌আই’টা সেই আদলেই লেখা হয়ছে। রাজাকে (‌‌রাজা চন্দ্র‌)‌‌ এই মিসিংটা দেখেই এই গল্পের আইডিয়াটা দিই। ‌আমাদের দেশে প্রতিদিন কত মেয়ে হারিয়ে যাচ্ছে তা শুনলে অবাক হতে হয়। কেন মেয়েরা হারিয়ে যায়?‌ তার পেছনে কোন কারণ থাকে?‌ তাই নিয়েই এই ছবি।
• গল্পটা কি পুরোটাই কল্পিত?‌ না কি কোনও সত্যি ঘটনা আছে এই গল্পের সূত্র হয়ে?‌
•• অনেক দিন আগে পুরুলিয়ার একটা গ্রামে হঠাৎ করেই একটি মেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। প্রায় ২৩ দিন নিরুদ্দেশ থাকার পর মেয়েটির বাবা মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চিঠি দেন। মুখ্যমন্ত্রীও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রশাসনকে। আবার গোয়া থেকেও একইরকম ভাবে একটি মেয়ে নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। এই দুটো ঘটনাকে একসঙ্গে নিয়ে গল্প ও চিত্রনাট্য তৈরি করেছেন এন কে সলিল।
• এই ছবিতে আপনার অভিনীত চরিত্রটা কী?‌
•• ছবিতে আমার চরিত্রের নামও দেব। আসলে গোয়া থেকে যেই মেয়েটি হারিয়ে যায় তার বন্ধুর ভূমিকায় আছি আমি। সে যখন ওই মেয়েটিকে খুঁজছে তখন পুরুলিয়া থেকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির বাবাও মেয়েকে খুঁজছেন। দুজনের দেখা হয়ে যায়। তারপর গল্প এগিয়েছে।
• এই প্রথম চন্দন সেনের সঙ্গে অভিনয় করেছেন এই ছবিতে।
•• হ্যাঁ। পুরুলিয়া থেকে হারিয়ে যাওয়া মেয়েটির বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন চন্দনদা। দারুণ অভিনয় করেছেন বললে কম বলা হয়। আসলে চন্দনদার অভিনয় দক্ষতা নিয়ে কিছু বলার ক্ষমতা আমার নেই। ওঁর সঙ্গে কাজ করে আমরা সবাই লাভবান হয়েছি। অনেক কিছু শিখেছি। এই ছবির বড় সম্পদ ওঁর অভিনয়।
• এই যে মেয়েরা হারিয়ে যায়, কোন পরিস্থিতিতে, কীভাবে সে বিষয়টা কি ছবিতে এসেছে?‌
•• আমরা যখন এই বিষয়টা নিয়ে রিসার্চ করতে আরম্ভ করলাম তখন দেখলাম যেটুকু আমরা দেখতে পাচ্ছি তা হিমশৈলের চুড়া মাত্র। ভারত থেকে শুরু করে বাংলাদেশ, নেপাল বা সাউথ ইস্ট এশিয়া হয়ে একদম আবুধাবি পর্যন্ত ছড়ানো আছে ওমেন ট্রাফিকিং এর এই চেন। আমাদের গল্পও সেই চেন ধরে এগিয়েছে। সবকয়টা রিয়্যাল লেকেশনে এই ছবির শুটিং হয়েছে।
• ছবিতে আবার আপনার বিপরীতে রুক্মিনী মৈত্র।
•• হ্যঁা। কিন্তু ‘‌চ্যাম্প’‌, ‘‌ককপিট’ বা ‘‌কবির’ ছবিতে যে রুক্মিনীকে দেখেছেন এই ছবিতে একদম অন্যরকম রুক্মিনীকে দেখবেন। এই প্রথম এরকম একটা চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুক্মিনী। ছবিতে যে কমার্শিয়াল এলিমেন্টগুলো এসেছে তার সঙ্গে একদম ম্যাচ করে গেছে রুক্মিনী। এই প্রথম কমার্শিয়াল মুভি করছে তা একদমই বোঝা যায় না।‌‌ 
• একই সঙ্গে সিনেমার কাজ সামলাচ্ছেন আবার জনপ্রতিনিধি হিসাবে ঘাটাল লোকসভার দায়িত্বও সামলাচ্ছেন। সময় পাচ্ছেন কি করে?‌
•• আমি কোনও দায়িত্ব থেকে পালিয়ে যাই না। আমার ওপর যদি কেউ কোনও কাজের দায়িত্ব দেন বা আমি নিজে যদি কোনও কাজের দায়িত্ব নিই—তাহলে দুটোই সমান গুরুত্ব দিয়ে পালন করার চেষ্টা করি। কয়েক রাত ঘুম নেই। সারাদিন প্রচার করার পর ছবির কাজ নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। আমার জন্যে আমার টিমমেটদেরও রাতের ঘুম নষ্ট। 
• ঘাটালের এম পি হিসেবে আপনার কাজে কি আপনি খুশি?‌
•• খুশি শব্দটা আপেক্ষিক। কেউ কোনওদিন খুশি হতে পারে নাকি?‌ আমার এলাকার মানুষের এখনও অনেক সমস্যা। চেষ্টা করেছি, এটুকু জোর দিয়ে বলতে পারি। গত পাঁচ বছরে আমার কাজের হিসাব করুন না। দেখবেন আমার লোকসভা কেন্দ্রে উন্নয়নের যে টাকা বরাদ্দ হয়েছিল তার নব্বই শতাংশ আমি খরচ করতে পেরেছি। ঘাটালে যখন বন্যা হল তখন প্রতিটা দিন-‌রাত এক করে এলাকার মানুষের পাশে থেকেছি। ত্রানের ব্যবস্থ নিজে দোখাশোনা করেছি।
• কিন্তু ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান তো কার্যকর হল না। মানুষের মধ্যে ক্ষোভ আছে?‌
•• ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান ঘাটালের মানুষের একটা বড় সমস্যা। অনেক টাকার প্রয়োজন। তবে আমি হাল ছাড়িনি। স্থানীয় মানুষ আমার পাশে আছেন, আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। দেখা যাক কবে সেই সমস্যার সমাধান করতে পারি। ‌‌‌‌‌‌‌

‘‌কিডন্যাপ’‌-‌এর প্রচারে দেব ও রুক্মিণী মৈত্র। ছবি:‌ সুপ্রিয় নাগ

জনপ্রিয়

Back To Top