আজকাল ওয়েবডেস্ক: করোনা আতঙ্কে দেশ জুড়ে লকডাউনে বন্দী মানুষজন। সারাদিন কাজকর্ম সেরে টেলিভিশনে যে বিনোদনটুকুতে বাড়ির মা মাসি কাকিমারা একটু অক্সিজেনের খোঁজ করেন, তাতেও আপাতত ভাঁটা। বাংলা টেলিজগতেও করোনার থাবা। যে সব সিরিয়ালে ক্লাইম্যাক্সে পৌঁছনোর কথা ছিল, তা গত ১০ ১২ দিন ধরে থমকে রয়েছে। তার বদলে ১০ ১২ বছর আগের সিরিয়ালগুলোই আপাতত ঝালিয়ে নিচ্ছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ। আর এ মুহূর্তে টেলিভিশন কাঁপত যাঁদের লেখনীতে ভরসা করে, তাঁদের আপাতত মাথায় হাত। লীনা গঙ্গোপাধ্যায়, একাধিক সিরিয়ালের গল্পকার তিনি, বলছেন ‘বর্তমান অবস্থাটা মেনে নেওয়া ছাড়া তো কোনও গতি নেই। ভারতের যে জনঘনত্ব, তাতে লকডাউন না থাকলে মুশকিল তো বাড়বেই। তাই এই অবস্থা আমাদের মেনে নিতেই হবে। সরকারি নিয়মগুলো মেনে চলতেই হবে।’ তাঁর গল্প ‘কোরাপাখি’ বেশ কিছুটা কাজ হয়ে আটকে আছে। ঋষি কৌশিক এবং পার্ণো মিত্র অভিনয় করছেন তাতে। এছাড়াও তাঁর জনপ্রিয় মেগা শ্রীময়ী, নক্সীকাঁথা, মোহর, জিয়নকাঠি সবই আটকে আছে মাঝপথে। অভিনেতারা বাড়ি বন্দী। তিনি বলছেন, ‘যে অবস্থা রয়েছে, তাতে আগামী জুলাই পর্যন্তও যদি এমন চলে তাতে কারও কিছুই বলার নেই। আগে তো সুস্থতা, তারপর বিনোদন। তাই পরিস্থিতি মেনে নিতেই হচ্ছে।’
আগামী ১৪ তারিখ পর্যন্ত লকডাউন সারাদেশে। তবে তা ১৪ তারিখ পর্যন্তই থাকবে, না তারপরেও চলবে, তা এখনই অনেকের মতোই বিশিষ্ট পরিচালক অরিন্দম শীলও বুঝতে পারছেন না। তিনি বলছেন ইন্ডাস্ট্রির ক্ষতি তো হচ্ছেই। তবে তাঁরা এ মুহূর্তে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাবনায় – ‘ঝড় থেমে যাবে একদিন’ নিয়ে কাজ শুরু করছেন।রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির ভাবনাতেই এবার স্ক্রিপ্ট লিখে ফেলছেন অরিন্দম শীল এবং পদ্মনাভ দাশগুপ্ত। ছবিতে গান রয়েছে, যা লিখেছেন স্বয়ং মমতা ব্যানার্জি, সুর দিয়েছেন কবীর সুমন। ‘আগামী সপ্তাহের মধ্যেই হয়তো সাধারণ মানুষের কাছে এই ছবি পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করব আমরা’ বলছেন বিশিষ্ট পরিচালক অরিন্দম শীল। ছবিতে অভিনয় করছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, কোয়েল, মিমি, নুসরত, শুভশ্রী, রুক্মিণী, পরাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুরো ছবিটাই শুট করা হবে যাঁর যাঁর বাড়ি থেকেই। জানিয়েছেন পরিচালক অরিন্দম শীল। ছবির প্রযোজনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্যামেলিয়া গ্রুপকে। এই ছবির পাশে দাঁড়িয়েছেন, এগিয়ে এসেছেন ফিল্ম ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট স্বরূপ বিশ্বাস। অরিন্দম শীল বলছেন এই মুহূর্তে টেকনিশিয়ান থেকে অভিনেতা সকলেই বিপাকে রয়েছেন, সকলের পাশে দাঁড়াতেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ভাবনা। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি থেকে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকা জোগাড় হতে পারে, যা টেকনিশিয়ানদের দেওয়া হবে।

অভিনেতা পরিচালক পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় নিজের কাজে ব্যস্ত, তাও ফোনে তিনি বলছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের যে বায়োপিক ‘অভিযান’-এ হাত দিয়েছিলেন, তার কাজ মাঝপথে আটকে। অভিনেতা যীশু সেনগুপ্ত, রুদ্রনীল ঘোষ, পায়েল সরকার, পাওলি দাম রয়েছেন ছবিতে। স্বাভাবিকভাবেই শুটিং থমকে রয়েছে। রাজ চক্রবর্তীর ‘হাব্জি গাব্জি’ ছবিতে কাজ করছেন পরম, সেই ছবির কাজও এখনআটকে গেছে। তাঁর ‘মাফিয়া’, ‘কালি সিজন-২’ ও এই করোনার বেড়াজালে বেশ বিপাকে। বেশ কিছু ছবির কাজ অনেকটা এগিয়ে রইলেও ডাবিং রয়েছে থমকে। কী করবেন তাঁরা কেউই বিশেষ পরিষ্কার নন। আগামী ১৪ তারিখের দিকে চেয়ে রয়েছেন সকলেই।

অভিনেতা রুদ্রনীল ঘোষ টলিউডের সঙ্গে বলিউডেও কাজ করছেন ইদানীং। তাঁর আগামী ডিসেম্বরে মুম্বইতে ছবি মুক্তি পাওয়ার কথা। ছবির পরিচালক অমিত শর্মা। ‘বাধাই হো’ ছবির এই পরিচলকের সঙ্গে কাজ করতে পেরে স্বাভাবিকভাবেই খুশি রুদ্রনীল। তিনি বলছেন ফুটবলের উপর যে ছবি হচ্ছে, তাতে রহিম সাহেবের চরিত্রে রয়েছেন অজয় দেবগণ। সঙ্গে রয়েছেন রুদ্রনীল সহ বাকি অভিনেতারা। মুম্বইতে কাজ করার ক্ষেত্রে সবসময় তিনি চেষ্টা করেছেন বাংলার সিনেদুনিয়ার নাম যাতে সেখানে উঁচু থাকে। সবকিছুই ঠিকমতো চলছিল, কিন্তু এই করোনা আতঙ্কে অনেকটাই ধাক্কা খেয়েছে গোটা বিষয়টা। ডিসেম্বরের মধ্যে সব হয়তো সামলে উঠবেন মানুষ, এতটুকুই আশা রুদ্রনীলের। তবে তিনি এও বলছেন, পুজোর প্যান্ডেলের বাঁশ পড়ার আগে অবধি মানুষ কতটা ভিড় করে হলমুখী হবেন, তা নিয়ে তিনি সন্দিহান। কারণ লকডাউন ওঠার পড়েও সিনেমা হল মানেই যেহেতু অনেক লোকের ভিড় একসঙ্গে তাই অনেকেই সেই জায়গাটা হয়তো এড়িয়ে চলবেন। তাই সবটা নিয়ে বিনোদুনিয়ার সঙ্গে যুক্ত যাঁরা তাঁদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বেশ গাঢ় ।

এখানে সকলেরই বক্তব্য গোটা বিনোদুনিয়াই আপাতত এই করোনায় থমকে, তাই পরিস্থিতি যতদিন না স্বাভাবিক হচ্ছে সকলেরই অপেক্ষা করা ছাড়া গতি নেই।

জনপ্রিয়

Back To Top