‌বিনোদনের প্রতিবেদন:‌ না বিদ্যা বালান নয়। নয় দীপিকা পাড়ুকোনও। শেষ পর্যন্ত বাংলা থিয়েটারের কিংবদন্তী অভিনেত্রী বিনোদিনী দাসীর চরিত্রে অভিনয় করছেন ঐশ্বর্য রাই। এই ছবির পরিচালনায় আছেন প্রদীপ সরকার। ছবির বিষয় বিনোদিনী দাসীর জীবন কাহিনি।
আপাতত ছবির চিত্রনাট্য পড়তে দেওয়া হয়েছে ঐশ্বর্য রাইকে। তিনি জানিয়েছেন, ‘‌এখনও চূড়ান্ত কোনও সিদ্ধান্তে আসিনি। তবে প্রদীপদা আমাকে চিত্রনাট্য পড়তে দিয়েছেন। বেশ কিছুটা পড়েও ফেলেছি। বেশ ভালই লাগছে। সম্পূর্ণ পড়া হলে মতামত জানাবো।’‌
এই বিনোদিনী দাসী ছিলেন বাংলা থিয়েটার জগতের কিংবদন্তী অভিনেত্রী। যৌনপল্লীর অন্ধকার জীবন থেকে ১২ বছর বয়সে তিনি নাট্যমঞ্চে পা রাখেন। টানা প্রায় ১০ বছর ধরে তিনি ৮০টিরও বেশি চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। নাট্যাচার্য গিরিশচন্দ্র ঘোষের শিক্ষায় আন্ধকার জীবন থেকে আশা বিনোদিনী আলোকিত করছিলেন বাংলা মঞ্চকে। তাঁর অভিনয় দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন শ্রীরামকৃষ্ণদেব। গিরিশ ঘোষের শিষ্যা তিনি ঠিকই, কিন্তু বিনোদিনীর আত্মত্যাগেই যখন তৈরি হল স্টার থিয়েটার, তখন বঞ্চিত হলেন তিনি। গিরিশবাবুও বিনোদিনীকে যথার্থ মর্যাদা দিলেন না। বিনোদিনীর নামে হল না থিয়েটার হল। পরবর্তীকালে আত্মজীবনী লেখেন তিনি। সেই আত্মজীবনীই প্রদীপ সরকারর মূল আকর। 
২০০৬-‌তে প্রদীপ সরকার তাঁর প্রথম ছবি ‘‌পরিনীতা’‌ তৈরি করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ে উপন্যাস নিয়ে। ছবির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন বিদ্যা বালান। আবার বিনোদিনী দাসীকে নিয়ে তিনি ফিরতে চলেছেন বাংলা সাহিত্যে। এর আগেও বাংলা ছবিতে এসেছে বিনোদিনী দাসী। ১৯৯৪ তে মুক্তি পায় ‘‌নটী বিনোদিনী’‌। এই ছবিতে বিনোদিনীর ভূমিকায় অভিনয় করেন দেবশ্রী রায়। এছাড়াও বাংলার যাত্রা মঞ্চেও এসেছে ‘‌নটী বিনোদিনী’‌। ব্রজেন্দ্রকুমার দে-‌র এই অবিস্মরণীয় পালায় অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছেন যাত্রাসম্রাজ্ঞী বীণা দাশগুপ্ত।
২০১৮-‌তে ঐশ্বর্য রাইয়ের শেষ ছবি মুক্তি পায়। সেই ছবির নাম ছিল ‘‌ফ্যানি খান’‌। প্রায় দুবছর পর আবার রূপোলি পর্দার দুনিয়ায় প্রবেশ করছেন অভিনেত্রী ঐশ্বর্য রাই এক কিংবদন্তী অভিনেত্রীর চরিত্রে। এবার সেই চরিত্রে কেমন অভিনয় করেন ঐশ্বর্য রাই তাই নিয়ে আগ্রহ সকলেরই। জানা গেছে ঐশ্বর্যর চূড়ান্ত অনুমতি মিললেই শুটিং শুরু হবে এই ছবির।‌

জনপ্রিয়

Back To Top