আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ তিনি একজন বলিউডের বিশিষ্ট পরিচালক। অথচ কেবল সরকারের সমালোচনা করায় তাঁকেই কিনা হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। তাঁর মা–বাবার কাছে আসছে হুমকি ফোন। এমনকি সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে। আর তাই শেষপর্যন্ত এই কারণেই টুইটার থেকে নিজেকে সরিয়ে নিলেন অনুরাগ কাশ্যপ। শনিবার পরপর দু’‌টি টুইট করে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেন অনুরাগ। আর তাঁর সেই টুইটগুলোর ছবিই এবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। এদেশে সরকারের বিরোধিতা করলে কিংবা সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই কী এভাবে প্রাণে মারার হুমকি দেওয়া হবে?‌ সেই ছবি শেয়ার করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন নেটিজেনরা।
এর আগে বিভিন্ন বিষয়ে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে টুইট করেছিলেন অনুরাগ। এমনকি গণপিটুনির ঘটনা রুখতে প্রধানমন্ত্রীকে লেখা ৪৯ জন বিদ্বজনের লেখা চিঠিতে তাঁরও নাম ছিল। এরপর কাশ্মীরে ৩৭০ এবং ৩৫এ ধারা প্রত্যাহারের কেন্দ্রের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে টুইট করে অনুরাগ লিখেছিলেন, ‘একজন মানুষ বিশ্বাস করছেন, তিনি যেটা করছেন সেটাই ১২ লক্ষ সাধারণ মানুষের জন্য সঠিক পদক্ষেপ। আর তিনি সেটা শেষপর্যন্ত বাস্তবায়িত করেও দেখাচ্ছেন। আর এটাই হল আসল ভয়।’‌ এরপরই একের পর হুমকি ফোন আসতে শুরু করে অনুরাগের কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর মা–বাবাকেও ফোন করে প্রাণে মেরে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এরপরই সোশ্যাল মিডিয়া থেকে নিজেকে দূরে সরানোর সিদ্ধান্ত অনুরাগের। নিজের শেষ টুইটে অনুরাগ লেখেন, ‘‌‌যখন আপনি দেখছেন সরকার বিরোধী কথা বললে আপনার মা–বাবাকে ভয় দেখিয়ে ফোন করা হচ্ছে, মেয়েকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে তখন ধরে নেওয়াই ভালো যে খারাপ পরিস্থিতির বিষয়ে কেউ মুখ খুলতে নারাজ। সুতরাং আমি নিজেও চুপ থাকাই শ্রেয় মনে করলাম। তবে ভারতের শুভবোধের উদয় একদিন হবে এই কামনা করি।’ এরপরে অপর একটি টুইটে লেখেন, ‘‌সবার সাফল্য কামনা করি। সম্ভবত এটাই আমার শেষ টুইট। যখন আমাকে কিছু বলতে দেওয়া হবে না, বাধ্য করবে চুপ করে থাকতে তখন আমিও আর কিছু বলতে চাই না। আমার মনে হয় সবারই চুপ করে নিজের নিজের কাজ করা উচিত।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top