সৌগত চক্রবর্তী: ‌• সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের পরিচালনায় ‘‌দ্বিতীয় পুরুষ’‌ মুক্তি পেল। এই ছবিতে আপনার অভিনীত চরিত্রের নাম ‘‌খোকা’‌। কেমন এই চরিত্রটি?‌
•• এ হচ্ছে ভিলেন। খারাপ লোক। কোনও গ্রে শেডের ব্যাপার নেই। গুণ্ডামী, মস্তানী, খুন কোনও কিছুতেই পিছ-‌পা নয়। এবং যেহেতু এই ছবির মুখ্য চরিত্র অভিজিৎ পাকড়াশী, যিনি একজন পুলিশ অফিসার, তাঁর টার্গেটে এই খোকা নতুন সংযোজন। এই হচ্ছে ক্যারেক্টর। এর বাইরে আমি আর কিছু বলতে পারব না। কারণ এটা থ্রিলার।
• এই ‘‌খোকা’‌ চরিত্রে এক নতুন লুকে আপনি। এই যে একজন অভিনেতার লুক পরিবর্তন, সেটা কতখানি গুরুত্বপূর্ণ?‌
•• এই গুরুত্বপূর্ণ হয় ওঠাটা আছে চরিত্রটার দাবিতেই। মানে সব চরিত্রই তো আমার মতো দেখতে নয়, এবং সব চরিত্রেরই একটা নিজস্ব দাবি থাকে যে এই চরিত্রটাকে বহিরঙ্গে এরকম দেখতে হবে। সেই হিসেবেই ‘‌নিখিলেশ’‌-‌এর চরিত্রে এসেছে একটা অন্যরকম বহিরঙ্গ বা ‘‌গুমনামী’‌তে চন্দ্রচূড়ের একটা অন্য বহিরঙ্গ। সেই বহিরঙ্গটাকেই পাল্টে পাল্টে নিতে হয়। এতে দুটো জিনিস হয়। এক, চরিত্রটার কাছাকাছি পৌঁছনো যায়, আর একটা হল মানুষ একই চেহারা দেখতে দেখতে বোর যাতে না হয়।
• বলা হচ্ছে ‘‌দ্বিতীয় পুরুষ’‌ হল ‘‌২২ শে শ্রাবণ’‌-‌এর ‘‌স্পিন অফ’‌। এই ‘‌স্পিন অফ’টা কী?‌
•• ‘‌স্পিন অফ’‌ জিনিসটাতে একটা টাইমের ব্যাপার আছে। আমি এখনও বলছি, আপনাকে একটা ছোট্ট উত্তরে বলে দিতে পারি ‘‌স্পিন অফ’টা কী। কিন্তু সেটা আমি বলতে চাই না। কারণ সেটা বললে সারপ্রাইজের মধ্যে যে মজাটা আছে সেটা নষ্ট হয়ে যায়।
• ক’‌দিন আগেই এক সংবাদিক সংস্থার তরফ থেকে সেরা প্লে-‌ব্যাক শিল্পীর পুরস্কার পেলেন আপনি। একজন অভিনেতার কাছে প্লে-‌ব্যাক শিল্পীর পুরস্কার কতখানি আনন্দদায়ক?‌
•• না, সেই অনুষ্ঠানে আমি একটা অভিনেতার পুরস্কারও পেয়েছি। সেটা হল বেস্ট অ্যাকটার ইন আ কমিক রোল। ‘‌বিবাহ অভিযান’‌ ছবির জন্য। (‌হাসতে হাসতে)‌ কাজেই ঝুলিতে যে কিছুই নেই, এমন নয়। সেটা বেশ আনন্দ দিয়েছে। বিশেষ করে কমিক রোলের পুরস্কার বলে। কারণ, এটা বলাই হয়, কমেডি নাকি সবথেকে শক্ত। আমি এতে অত্যন্ত আহ্লাদিত।
• এই মূহূর্তে নবীন প্রজন্মের সবচেয়ে আলোচিত নায়ক ও অভিনেতা আপনি।
•• অভিনেতা বলতে পারেন, কিন্তু হিরো আমি নই।
• কেন আপনি তো অনেক ছবিতেই নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
•• না, ঠিক সরাসরি নায়ক চরিত্রে আমি অভিনয় করিনি। আমি মূলত পার্শ্ব চরিত্র, নেগেটিভ চরিত্র, ‘‌বিবাহ অভিযান’‌ ধরলে কমেডি রোলে করেছি। আসলে নিজেকে একজন চরিত্রাভিনেতাই বলতে ভালবাসি। বেটার লাগে আমার শুনতে।
• অভিনেতা হিসেবে কাউকে প্রতিযোগী বলে মনে হয়?‌
•• না কাউকেই প্রতিযোগী হিসেবে মনে করি না। কোনওদিনই সিনেমায়, থিয়েটারে, অভিনয়কে প্রতিযোগিতার মতো করে দেখিনি। অনেকেই হয়ত দেখেন। আসলে সিনেমা বা থিয়েটার একটা কোলাবোরেশনের কাজ তো, তার মধ্যে একটা আনন্দ আছে। আপনি এখন একটা ডিজিট্যাল মেজারমেন্টের মধ্যে আছেন। ধরুন আপনার ছবি কতটা চলল, কতটা বক্স অফিস হিট হল, এটা আর তিন বছর, চার বছর থাকবে তারপর এই প্যারামিটারটাও চলে যাবে। এখন আপনার বিখ্যাত হওয়ার মাপকাঠি হল আপনার ভিডিওতে লাইকস কত। আপনার টিকটকে ভিউজ কত?‌ আপনি হয়তো অনেক কষ্ট করে আপনার ভেতরের বোধবুদ্ধি দিয়ে একটা অভিনয় করলেন তাতে লাইকস এল দেড়শ। আবার কেউ একটা টিকটক ভিডিও করল। সেখানে ভিউজ হল দু লাখ। আর আপনি যদি এরকম কম্পিটিশনে একবার চলা শুরু করেন, তাহলে তো আপনাকে টিকটক ভিডিও আর্টিস্টদের সঙ্গে কম্পিটিশন করতে হবে। কম্পিটিশন করা মানেই তো নিজেকে একটা মাপে ফেলা। এর কোনও শেষ নেই। কখনও কখনও যে মনে হয়নি তা নয়, কিন্তু আমি কম্পিটিশন করতে কখনও শিখিনি। আমি আসলে নিজের মতো থেকে আনন্দ পাই।
• আপনি তো ইদানীং কালে বেশ কিছু ডার্ক রোলে অভিনয় করেছেন ও করছেন। এটা কি ভেবেচিন্তেই?‌
•• না, না, যেরকম চরিত্র আসে আর কি। এটা ঘটনাক্রমে ঘটে গেছে যে ইদানীংকালে বেশিরভাগই ডার্ক রোলে অভিনয় করেছি।
• আপনার নতুন ছবি ‘‌ড্রাকুলা স্যর’‌-‌এও কি আপনার ডার্ক রোল?‌
•• একদম। সবকিছুকে ছাপিয়ে যাওয়া ডার্ক রোল। ওই ডার্কনেসের ধাক্কায় আমি অসুস্থ হয়ে পড়ছি। এমন চরিত্রে অভিনয় করা মাথা ও শরীরের পক্ষে খুবই চাপের।
• মাঝখানে থিয়েটারটা একটু ব্যাক ফুটে চলে গিয়েছিল।
•• হ্যাঁ, প্রায় তিন বছর।
• এখনকি আবার নিয়মিত থিয়েটারের বৃত্তে চলে এলেন?‌
•• আবার নতুন করে শুরু করলাম। দেখলাম সিনেমায় সামান্য হলেও একটা প্রতিষ্ঠা পাওয়া গেছে, লোকজন চিনেছেন, তাই নিজের মতো করে সময় বাঁচিয়ে আবার থিয়েটারে ফিরলাম। এই সময়টা এখন দিতে পারব। এই ২০১৯-‌এ তো ‘‌তিতুমীর’‌ আর ‘‌পন্তুলাহা ২.‌০’ করেছি। এবার থেকে প্রতি বছরই দুটো বা তিনটে করে থিয়েটার করব। 
• থিয়েটার নিয়ে আর কী কী প্ল্যান আছে?‌
•• ব্রাত্য বসু সলিলকি লিখেছেন তিনটে। সেটাতে কাজ করার ইচ্ছে আছে। তবে কাজটা করতে সময় লাগবে। এটা খুবই কঠিন কাজ। টেক্সটা খুবই ইন্টারেসটিং, খুবই ভাল। তাই এটাতে একটু সময় লাগবে। তবে এই বছরের মধ্যেই সেটা করব। আর এবছর শেষের দিকে ইবসেনের ‘‌এনিমি অফ দ্য পিপল’‌ করব। বঙ্গীকরন করেছেন অরিন্দম মুখোপাধ্যায়। পরিচালনাও তাঁর। এই নাটকে আমি স্টকম্যানের চরিত্রে অভিনয় করব।
• ব্রাত্য বসুর নাটকটা কেমন বা আর কে কে অভিনয় করছেন?‌
••  নাটকটার নাম ‘‌তিন আততায়ী’‌। তিনটে সলিলকি। এক নম্বর আততায়ী, দুনম্বর আততায়ী আর তিন নম্বর আততায়ী। দুটি পুরুষ আর একজন মহিলা। তিনটে চরিত্র কোনও কিছুর মধ্যে দিয়ে যুক্ত নয়। তিনটের কোনও সম্পর্ক নেই। একটি শুরু হয়, শেষ হয়, অন্য আর একটি শুরু হয়।  আমরা এখনও কিছু পরিকল্পনা করিনি। শুধু জাস্ট একদিন আমরা বসেছিলাম। নাটকটা পাঠ করা হয়েছে। ব্রাত্যদার সঙ্গে বসতে হবে, প্ল্যান করতে হবে কীভাবে নাটকটা আনা যায়। আর এটা আমাদের দল সংঘারামের প্রযোজনায় হবে।
• এস ভি এফের বাইরে বেরিয়ে কাজ করার আগ্রহ আছে?‌
•• এই মূহূর্তে নেই। কারণ, এসভিএফ আমার কাজের পসরা এখনও পর্যন্ত এমনভাবে সাজিয়েছে, আমাকে যা যা চরিত্র দিয়েছে, তাতে আমি খুশি। যে হাউজ আমাকে নার্চার করছে, হঠাৎ করে তার থেকে বেরিয়ে আসা যায়?‌ হয়ত ভবিষষতে করব কিন্তু এখনই এত আগ্রহী হয়ে পড়ছি না।
• আপনার প্রথম ছবি অপর্ণা সেনের সঙ্গে। তারপর আপনার বড় ব্রেক অরিন্দম শীলের ছবিতে। অরিন্দম শীলের ছবির জন্যে আর প্রস্তাব আসেনি?‌
•• হ্যাঁ, অরিন্দমদা একটা কাজ করছেন। কথা বলেছেন কিন্তু .‌.‌.‌ দেখা যাক আমি সেটা করতে পারি কি না। ডেটস বা প্রাসঙ্গিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক থাকলেই করব। না করার তো কিছু নেই।
• ‘‌ড্রাকুলা স্যর’‌-‌এর পর কী ছবি?‌
•• কিচ্ছু এখনও ঠিক নেই। আমি আসলে এক রান ছাড়া খেলতে পারি না। ওই ব্যাটে ঠুকে এক রান নিলাম, তারপর আবার ক্রিজে দাঁড়িয়ে গেলাম। পরের রানের জন্যে অপেক্ষা করলাম।‌

ছবি:‌ বিপ্লব মৈত্র ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top