সংবাদ সংস্থা, মুম্বই, ৪ জুন- সত্তরের দশক। দুর্নীতি, রাজনীতি, সমাজ–‌ব্যবস্থা, শ্রেণি বিভাজনের বিপক্ষে হিন্দি ছবিতে তখন দাপটে শাসন করছে অ্যাংরি ইয়ং ম্যান। এরই মধ্যে ফুরফুরে টাটকা বাতাস নিয়ে এসেছিল কমন ম্যান। সে অ্যাংরি ম্যানের মতো গুন্ডাদের পিটিয়ে ঢিট করতে পারে না। অনেক দোষের মধ্যেও মন কাড়ে তঁার সারল্যে। ঠিক যেন পাশের বাড়ির ছেলেটি। হিন্দি ছবিতে এই কমন ম্যানের আগমন যঁাদের হাত ধরে ঘটেছিল, তার অন্যতম ছিলেন বাসু চ্যাটার্জি। আর পর্দায় তঁার কমন ম্যান ছিলেন অমল পালেকর। ‘‌রজনীগন্ধা’‌, ‘‌চিতচোর’‌, ‘‌ছোটি সি বাত’‌, ‘‌বাতেঁা বাতেঁা মেঁ’‌, ‘‌খাট্টা মিঠা’‌র মতো মনকাড়া সব ছবি উপহার দিয়েছেন বাসু চ্যাটার্জি–‌ অমল পালেকর জুটি। 
স্রষ্টার প্রয়াণে এক আন্তরিক কলমে মন খুলেছেন কমন ম্যান। তুলে ধরেছেন পরিচালক বাসু চ্যাটার্জির অনেক অজানা কথা। জানিয়েছেন, বাসু ছিলেন তঁার ছবিগুলোর মতোই সহজ ও সুন্দর। তলিয়ে দেখলে, গভীর। তবে আলোকবৃত্তে ছেঁায়াচ–‌এড়ানো। ‘‌রজনীগন্ধা’‌ ছবির জন্য বাছাই হয়েছিলেন যখন, অমল তখন ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া‌র কর্মী। শখের থিয়েটার করতেন। তঁাকে এবং নায়িকা বিদ্যা সিন্‌হাকে বাড়িতে ডেকে নাটকের কিছু খেলা খেলতেন বাসু। অমলের কথায়, ‘‌আজকের দিনে একেই ওয়ার্কশপ বলে। কখনও চিত্রনাট্য পড়ে শোনাতেন না পরিচালক। বরং আমাদের পড়তে বলতেন। তাতে চিত্রনাট্য, চরিত্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ ঘটত।’‌ অমল লিখেছেন, ‘‌বাসুদার থেকে পাওয়া সবচেয়ে বড় শিক্ষা হল, ডায়লগবাজি দিয়ে দর্শকের মন ভুলিয়ে লাভ নেই। পর্দায় বরং বিশ্বাসযোগ্য ভাবে গল্পটা বলা দরকার।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top