প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, হাওড়া: করোনায় আক্রান্ত হয়ে হাওড়ায় এক গৃহবধূর সোমবার রাতে হাওড়া জেলা হাসপাতালে মৃত্যু হল। সালকিয়ার উত্তম ঘোষ লেনের বাসিন্দা ৪৮ বছরের ওই মহিলা হাওড়া জেলা হাসপাতালের ফিমেল মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। 
৬ মার্চ তিনি পরিবারের সঙ্গে ডুয়ার্স বেড়াতে গিয়েছিলেন। সালকিয়ার তিনটি ও দমদম এয়ারপোর্টের ১ নম্বর গেট এলাকার একটি পরিবার–সহ তঁারা মোট ১৪ জন গিয়েছিলেন। তঁাদের মধ্যে ২ শিশুও ছিল। ১৩ তারিখ ডুয়ার্স থেকে সবাই ফিরে আসেন। ওই গৃহবধূ বাড়িতেই ছিলেন। ২৬ তারিখ  হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন। জ্বর, সর্দি–কাশি ও সামান্য শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়। সেদিনই স্থানীয় চিকিৎসককে দেখান। দু’‌দিন ওষুধ খেয়েও কোনও কাজ না হওয়ায় তঁার বাড়ির লোকেরা ২৯ মার্চ তঁাকে নিয়ে সত্যবালা আইডি হাসপাতালে যান। ভেন্টিলেটর না থাকায় তঁাকে জয়সওয়াল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানেও ভেন্টিলেটর না থাকায় তঁাকে ফের সত্যবালা আইডি হাসপাতালে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। সেখান থেকে তঁাকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে পাঠানো হয়। রবিবার বিকেলে সেখানেই  ওই বধূকে ভর্তি করা হয়। রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তঁাকে হাসপাতালের সিসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়। সোমবার রাত ১০টা নাগাদ তঁার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার কিছুক্ষণ পরে তঁার লালারসের পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত হন মহিলা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন। তাতেই মারা গেছেন। এরপরই ওই গৃহবধুর চিকিৎসায় যুক্ত চিকিৎসক, নার্স–সহ সমস্ত স্বাস্থ্যকর্মীকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। প্রথমে যে চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিলেন তাঁকেও আইসোলেশনে রাখা হয়। যঁারা তঁার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলেন তঁাদের প্রত্যেককে এবং ওই গৃহবধূর বাড়ির সবাইকে আইসোলেশনে রাখা হয়। উত্তম ঘোষ লেন এবং তঁার সঙ্গে ডুয়ার্স যাওয়া সালকিয়ার অন্য পরিবার দু’‌টির পুরো পাড়াও এদিন জীবাণুমুক্ত করা হয়। ওই এলাকার প্রত্যেককে হোম কোয়ারেন্টিনেও থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। জয়সওয়াল ও সত্যবালা আইডি হাসপাতালের যে সব চিকিৎসক তঁার চিকিৎসা করেছিলেন তঁাদেরও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। হাওড়া জেলা হাসপাতাল, সত্যবালা আইডি ও জয়সওয়াল হাসপাতাল জীবাণুমুক্ত করা হয়। 
এদিকে, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তম ঘোষ লেন ও সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে। হাওড়া হাসপাতালের রোগী ও তঁাদের বাড়ির লোকেরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। হাসপাতালে ওই মহিলার সঙ্গে ভর্তি থাকা রোগীদেরও আইসোলেশনে রাখা হয়। এক রোগীর আত্মীয় প্রশ্ন তোলেন, ‘‌ওই মহিলাকে কেন অন্য রোগীদের সঙ্গে জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল?’ হাসপাতালে কর্মরত নার্সরা জানান, জ্বর, সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে আসা অনেক রোগীকেই জেনারেল ওয়ার্ডে ভর্তি করা হচ্ছে। ফলে দ্রুত সংক্রমণের আশঙ্কা থাকছে। 
জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিশীথবরণ মণ্ডল জানান, ‘সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী সবকিছু করা হচ্ছে। বিদেশ থেকে কেউ এলে কিংবা কোনও করোনা রোগীর সংস্পর্শে এলে তবেই তাঁকে সরাসারি আইসোলেশনে রাখা হয়। কিন্তু জ্বর, সর্দি–কাশির সমস্যা নিয়ে কেউ এলেই আইসোলেশনে পাঠানো হয় না। ওই মহিলার ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। ভর্তি হওয়ার পরের দিন পরীক্ষার রিপোর্ট আসার আগেই তিনি মারা যান।’ হাওড়া পুরনিগম শিবপুর শ্মশানঘাটে ওই গৃহবধূর দেহ সৎকার করে।‌‌‌
ডুয়ার্স যাওয়ার সময় তাঁরা শিয়ালদহ থেকে কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেসে উঠেছিলেন। মালবাজার জংশন স্টেশনে নামেন। ফেরার সময় ১২ তারিখ নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে দার্জিলিং মেল ধরেন। ট্রেনের সংরক্ষিত এস–টু ও এস‌–নাইন কোচে ছিলেন। রেল কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে ট্রেনে ওই গৃহবধূর সহযাত্রীদের চিহ্নিত করে আইসোলেশনে পাঠানোর কাজও শুরু হয়েছে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top