বিভাস ভট্টাচার্য: আধখানা নয়, খেতে হচ্ছে একটা গোটা পাতিলেবু। শরীরে ভিটামিন সি–র জোগান বাড়াতে রাজ্য জুড়ে সমস্ত সংশোধনাগারে আবাসিকদের পাতে প্রতিদিন একটি করে আস্ত পাতিলেবু তুলে দিচ্ছেন কারা–‌কর্তৃপক্ষ। নজর রাখা হচ্ছে আবাসিক সেটি খাচ্ছেন কি না। সেই সঙ্গে ব্যবহার করতে হচ্ছে মাস্ক। খাওয়া আর শোওয়ার সময়টা বাদ দিয়ে দিনের পুরো সময়টা তাদের থাকতে হচ্ছে মাস্ক পরে।
রাজ্য কারা দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, করোনার এই পরিস্থিতিতে শরীরে প্রতিরোধ বাড়ানোটা খুব জরুরি। সর্দি, কাশি বা ঠান্ডা লাগা ঠেকাতে ভিটামিন সি–র জুড়ি নেই। সেজন্যই সংশোধনাগারের চিকিৎসকদের পরামর্শে এখন রোজ একটি করে গোটা পাতিলেবু আবাসিকদের দেওয়া হচ্ছে। অন্য সময় আধখানা করে দেওয়া হত। কলকাতা–সহ দক্ষিণবঙ্গ ও উত্তরবঙ্গের সব সংশোধনাগারেই এই ব্যবস্থা চালু হয়েছে।
সংশোধনাগারে আবাসিকদের সপ্তাহে একদিন মাছ, একদিন ডিম, একদিন পঁাঠা বা খাসির মাংস, একদিন সয়াবিন এবং বাকি তিন দিন নানা সবজি দেওয়া হয়। এখন যেহেতু খাসি বা পঁাঠার মাংসের জোগান কম, তাই বহু সংশোধনাগারে সপ্তাহে দু’‌দিন করে ডিম দেওয়া হচ্ছে।
একদিকে যেমন খাবারের মাধ্যমে শরীরে প্রতিরোধ–‌ক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে, সেই সঙ্গে ওয়ার্ডের ভেতরেও যাতে দূরত্ব বজায় রাখা হয়, সেই বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। বড় ঘরে থাকার বন্দোবস্ত করা হয়েছে আবাসিকদের। উদাহরণ দিয়ে ওই কারা–‌কর্তা জানিয়েছেন, যে–‌ঘরে ১০০ জনকে রাখা যায়, সেখানে এখন ৫০ জনকে রাখা হচ্ছে। এমনকী খাওয়ার সময় বা রাতে শোওয়ার সময়েও যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হয়, সে–‌বিষয়টি নিশ্চিত করা হচ্ছে। সকালেও এক সঙ্গে আবাসিকদের বের করা হচ্ছে না। আলাদা করে ওয়ার্ড থেকে বের করে এনে বাইরে কিছুক্ষণ রাখার পর, ফের তাদের ঢুকিয়ে আরেকটি ওয়ার্ডের দরজা খোলা হচ্ছে। নতুন কোনও আবাসিক এলে তাকে ১৪ দিন আলাদা করে রেখে তার পর বাকিদের সঙ্গে রাখা হচ্ছে। আবাসিক বা কাজে যোগ দিতে আসা জেল–‌কর্মী, যিনিই আসুন না কেন, সংশোধনাগারে ঢোকার আগে তিনি আগে জীবাণুনাশক–‌মেশানো জলে জুতো–সহ পা ধুচ্ছেন এবং হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে তার পরেই সংশোধনাগারে ঢুকছেন। ভেতরে ঢোকার পরেও তঁাকে ঘন ঘন সাবান দিয়ে হাত ধুতে হচ্ছে।
করোনার প্রকোপ শুরু হওয়ার পর সংশোধনাগারে ভিড় কমাতে ইতিমধ্যেই প্যারোল এবং আদালত থেকে জামিনের মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে বেশ কিছু আবাসিককে। ওই কারা–‌কর্তা জানিয়েছেন, গোটা রাজ্য জুড়ে ৩ হাজার আবাসিককে ধাপে ধাপে ছাড়া হয়েছে। যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত যে–সমস্ত আবাসিক ১০ বছর বা তার বেশি সময় ধরে সংশোধনাগারে আছে, তাদের এবং ৬০ বা ষাটোর্ধ্ব আবাসিকদের ৩ মাসের জন্য প্যারোলে ছাড়া হয়েছে। অন্য দিকে, যে–‌সব অপরাধে সাজা ১০ বছরের কম, সেই মামলায় অভিযুক্তদেরও আদালত থেকে জামিন দেওয়া হয়েছে। তবে এই তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে খুন, ধর্ষণ, জাল নোট, মাদক পাচার, দেশদ্রোহিতা ও শিশুদের ওপর অত্যাচারের মামলায় অভিযুক্তদের।‌

জনপ্রিয়

Back To Top