আজকালের প্রতিবেদন

রাজ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। সক্রিয় করোনা আক্রান্তের সংখ্যাও ক্রমশ কমছে। বুধবার স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়, গত চব্বিশ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন ৫৩৪ জন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ৬ হাজার ২৮ জন। সুস্থতার হার ৫০.‌‌৬১ শতাংশ। করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকার প্রথম থেকে যেভাবে ব্যবস্থা নিয়েছে তার ফলেই দ্রুত এই সাফল্যে পৌঁছনো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন স্বাস্থ্যকর্তারা। রাজ্যে ৫০ শতাংশের বেশি সুস্থতার হারকে বড়সড় সাফল্য বলে জানিয়েছে তৃণমূলের মিডিয়া সেল। 
বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৫ হাজার ৩৮৬ জন।  রাজ্যে নতুন করে ৪১৫ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১১ হাজার ৯০৯ জন। আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে রাজ্যে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪৯৫ জন। গত চব্বিশ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮ হাজার ৫১২টি।  রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৩ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৫৪টি। পজিটিভিটি রেট ৩.‌‌৩৯ শতাংশ। প্রতি দশ লাখে টেস্ট হচ্ছে ৩ হাজার ৯০৮ জনের। যা সোমবারের তুলনায় বেড়েছে।
উডল্যান্ডস হাসপাতালেও শুরু হয়েছে করোনা পরীক্ষা। রাজ্যের ৪৫টি ল্যাবরেটরিতে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে। রাজ্যে কোভিড হাসপাতালের সংখ্যা বেড়ে ৬৯ থেকে ৭৭টি হয়েছে। অন্যান্য জেলার তুলনায় কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশই বাড়ছে। নতুন আক্রান্তের মধ্যে এদিন কলকাতারই ১৭০ জন।
করোনা আক্রান্ত হওয়ায় হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে শুনেই স্ত্রী–‌পুত্রকে নিয়ে বিহারে গ্রামের বাড়িতে পালিয়ে যান এক রোগী। হাওড়ার সাঁকরাইলের পাঁচপাড়ার এক ব্যক্তির সর্দি, কাশি ও জ্বর থাকায় কিছুদিন আগে তাঁর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট পজিটিভ আসায় স্বাস্থ্য দপ্তরের পক্ষ থেকে তাঁকে ফোন করে হাসপাতালে ভর্তির জন্য বলা হয়।  এই কথা শুনেই হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার বদলে রাতে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি বিহারে পালিয়ে যান। স্বাস্থ্যকর্মীরা বাড়িতে গিয়ে দেখেন দরজায় তালা। পরে মোবাইলে ওই ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানতে পারেন। বিহারে প্রতিবেশীদের উদ্যোগে ওই করোনা রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
মুর্শিদাবাদের বাসিন্দা এক সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যু হয়েছে বাহরিনে। তাঁর বাড়ি সামশেরগঞ্জ থানার হোগলাবাড়ি কাকুরিয়া গ্রামে। ওই যুবক বাহরিনে ইলেক্ট্রনিক্স টেকনোলজি স্পেশ্যালিস্ট পদে কর্মরত ছিলেন। সপ্তাহখানেক আগে করোনার উপসর্গ নিয়ে সেখানকার হাসপাতালে ভর্তি করা হয় আক্রান্ত যুবককে। রিপোর্ট পজিটিভ আসে। সোমবার ভোরে তাঁর মৃত্যু হয়।
এদিন বর্ধমানের ছোটনীলপুরে আশ্রমের এক সন্ন্যাসীর করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তিনি কিছুদিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। জানা গেছে, বেশ কয়েকদিন আগে উত্তরপ্রদেশ থেকে দু’‌জন সন্ন্যাসী তাঁর কাছে এসেছিলেন। পাশাপাশি, দুর্গাপুরের স্টেশন চত্বরে একই পরিবারের ছ’‌জনের করোনা সংক্রমণ ধরা পড়েছে। কোকওভেন থানার করঙ্গপাড়া এলাকায় তাঁদের বাড়ি। দুর্গাপুর পশ্চিমের বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়াল এলাকায় গিয়ে খোঁজখবর নেন। ওই পরিবারের ছোট ছেলের প্রথমে সোমবার করোনা ধরা পড়ে। পেশায় তিনি কাপড় ব্যবসায়ী। সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top