আজকালের প্রতিবেদন: ফের বাংলা ছেড়ে চলে গেলেন ভিনরাজ্যের আরও ১৬৯ জন নার্স। তার মধ্যে মণিপুর ৯২, ত্রিপুরা ৪৩, ওডিশা ৩২ এবং ঝাড়খণ্ডের ২ জন নার্স রয়েছেন। শুক্রবার মণিপুরে ১৮৫ জন নার্স চলে যাওয়ার পর এদিন এই নার্সরা চলে যাওয়ায় রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষেবা চালানোয় সমস্যা তৈরি হল। শহরের বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস অফ ইস্টার্ন (‌এএইচইআই)‌–এর তরফে এ বিষয়ে শনিবার রাজ্য সরকারের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন জানানো হয়েছে।
রাজ্য ছেড়ে যাওয়া নার্সরা কলকাতার বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত। মণিপুরের ৯২ জনের মধ্যে ৪৪ জন ইইডিএফ, আমরি ৪৪ এবং ডিসানের ৪ জন। ওডিশার ৩২ জনের মধ্যে পিয়ারলেস ৬, ভাগীরথী নেওটিয়া ৯, ডিসান ১০ এবং আমরির ৭ জন। ত্রিপুরার ৪৩ জনের মধ্যে আইএলএস দমদম ১০, চার্নক ১৩, আমরি ১৮ ও ফর্টিসের ২ জন। ডিসান থেকে ২ জন নার্স ঝাড়খণ্ড চলে গেছেন। এখনও পর্যন্ত শুধু আমরি থেকেই ৮০ জনের কাছাকাছি নার্স রাজ্য ছেড়ে চলে গেছেন।  মুকুন্দপুরের আর এন টেগোর হাসপাতাল থেকে ৯ জন মণিপুরের এবং ২ জন ত্রিপুরার নার্স ডিউটিতে যোগ দিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। ওডিশার নার্সরা কাজ করছেন। নারায়না হেলথ গোষ্ঠীর পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা আর ভেঙ্কটেশ বলেন, ‘‌খুবই কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে আছি। রোগী পরিষেবা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কোভিড–১৯ পরিস্থিতিতে রাজ্যে নার্সদের খুবই প্রয়োজন রয়েছে।’‌ মেডিকা সুপারস্পেশ্যালিটি হাসপাতাল থেকে প্রায় ৭৫ জনের মতো ভিনরাজ্যের নার্স চলে গেছেন বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ অলোক রায়।
শহরের বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ হসপিটালস অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়ার ভাইস প্রেসিডেন্ট ও আমরি হাসপাতাল গোষ্ঠীর সিইও রূপক বড়ুয়া জানিয়েছেন, ‘এভাবে পরপর সব নার্সরা চলে গেলে রোগী পরিষেবায় বড়সড় সঙ্কট আসবে। চিকিৎসকের পরেই একজন নার্সের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা রাজ্য সরকারের সাহায্য চাইছি।’
তামিলনাড়ু থেকে ২০টির বেশি বাস আসছে রাজ্যের মানুষদের ফেরাতে। সেই বাস বালাসোর, কটক হয়ে ভাইজাগ ফিরবে। কেউ ফিরতে চাইলে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, এতে ওডিশার নার্সরা চলে যেতে পারেন।

জনপ্রিয়

Back To Top