সাগরিকা দত্তচৌধুরি: ‘‌এম আর বাঙুরের চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখে মুগ্ধ। অবিশ্বাস্য, এত ভাল পরিষেবা যা বলে বা লিখে প্রকাশ করতে পারব না। আমেরিকাতেও পাব না।’‌— বক্তব্য করোনা থেকে সুস্থ হয়ে ওঠা এক রোগীর। তিনি আরও বলেন, ‘‌করোনা ধরা পড়ার পর বাঙুরে আসছি শুনে অনেক বন্ধুরা বলেছিল ওখানে যেও না। আর ফিরে আসবে না। আমার মনে ভয় ধরে গিয়েছিল। ‌আজ আমি সুস্থ। আমার ভাগনি, ভাগনে আমেরিকা থেকে আমার খোঁজ নিচ্ছে। আমি ওদের বলব এইরকম পরিষেবা আমেরিকাতেও পাওয়া যাবে না।’‌ ‌ দ্রুত একের পর এক করোনা রোগীকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠিয়ে নজির তৈরি করেছে রাজ্যের অন্যতম কোভিড হাসপাতাল এম আর বাঙুর।
দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ সোমনাথ মুখার্জি বলেন, ‘‌সব রকম প্রয়োজনে পাশে রয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। হাসপাতালের সুপার, চিকিৎসক, নার্স, গ্রুপ ডি থেকে সব স্বাস্থ্য কর্মী ও প্রশাসনের সবার সহযোগিতায় সম্ভব হচ্ছে। চেষ্টা চালাচ্ছি আরও ভাল জায়গায় নিয়ে যাওয়ার।’‌ হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান ও রাজ্যের পূর্ত এবং ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সৈনিকের মতো সর্বক্ষণ পাশে আছেন।  
এখানে কোভিড ও নন–কোভিড রোগীদের চিকিৎসা চলে পৃথক বিল্ডিংয়ে। এতে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও কম। দু‌টি জায়গাতেই চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, স্বাস্থ্যকর্মী ভাগ করা আছে। ঠিক কী পদ্ধতি মেনে চলছে চিকিৎসা? এম আর বাঙুরের সুপার ডাঃ শিশির নস্কর জানিয়েছেন, ‌কোভিড পজিটিভ কেউ এলে বা অন্য জায়গা থেকে রেফার হয়ে আসা রোগীদের সরাসরি ভর্তি নেওয়া হয়। ইমার্জেন্সিতে আসা সব রোগীরই সোয়াবের নমুনা সংগ্রহ করে নেওয়া হয়।  উপসর্গ দেখে আইসোলেশনে রেখে চলে প্রাথমিক চিকিৎসা। যাঁদের ভর্তির প্রয়োজন নেই তাঁদের হোম আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। ভর্তি হওয়াদের সোয়াব নেওয়ার পাশাপাশি তখনই ইসিজি, এক্স–রে করিয়ে নিয়ে রক্তও নেওয়া হচ্ছে পরীক্ষার জন্য। এতে সময় বাঁচার সঙ্গে রোগী হাইপারটেনশন, শুগার, কিডনির অসুখে ভুগছেন কিনা তা–‌ও দ্রুত জানা সম্ভব।
এখন সকাল ৭টা থেকে সন্ধে ৭টা পর্যন্ত নেওয়া হয় সোয়াব। বাকি পরীক্ষা ২৪ ঘণ্টাই হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রিপোর্টও চলে আসছে। যাঁদের কোভিড পজিটিভ তাঁদের সরকারি প্রোটোকল মেনে চলে চিকিৎসা। আর যাঁদের নেগেটিভ দ্রুত তাঁদের ছুটি দেওয়া বা প্রয়োজনে অন্য হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। এতে রোগীকে অহেতুক ওয়ার্ডে থাকার প্রয়োজন পড়ছে না। বাড়িতে পাঠানো রোগীদের কারও পজিটিভ এলে সেটা স্বাস্থ্য দপ্তর সরাসরি দেখে। হাসপাতালের প্রশাসনিক কাজ ভাগ করে নেওয়ার জন্য বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ পার্থপ্রতিম গুহকে পাঠিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ডেড বডি ম্যানেজমেন্টও দ্রুত হচ্ছে। সুপার বলেন, ‘‌কারও মৃত্যু হলেও অনেক কাজ থাকে। মৃতের বাড়ির লোককে জানানো, স্বাস্থ্য দপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, পুরসভাকে জানিয়ে সৎকারও দ্রুত গতিতে করার প্রক্রিয়া চলে।’‌  
১১০০ শয্যার এম আর বাঙুরের চিকিৎসা মডেল অন্য কোভিড হাসপাতালে অনুসরণ করার পরিকল্পনা চলছে।
রোগীর পরিজনদের কথা বলার জন্য রয়েছে ভিডিও কলিংয়ের ব্যবস্থা। রোগীরাও কোনও সমস্যায় সরাসরি হেল্পডেস্কে ফোন করেন। ওয়ার্ডে টিভি বসানোর পরিকল্পনাও করা হচ্ছে। চিকিৎসক, কর্মীদের সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়। কর্মী ও রোগীদের মনোবল যাতে ভেঙে না পড়ে সেদিকে সুপার নিজে নজর রাখছেন। শিশিরবাবু বলেন, মার্চের শেষে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে ঘোষণার পর কোভিড পজিটিভ ও সারি (‌সিভিয়র অ্যাকিউট রেসপিরেটরি ইলনেস)‌ কেস মিলিয়ে এখনও অবধি ১৫০০–‌এর ওপর রোগীকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top