‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: রাজ্যে আরও একটি কোভিড হাসপাতাল হল। মঙ্গলবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি টুইট করে জানিয়েছেন, কেপিসি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালকে কোভিড হাসপাতাল করা হল। এই নিয়ে রাজ্যে ৬৯টি কোভিড হাসপাতাল হল। এখানে ২০০টি শয্যা রয়েছে। এদিন থেকেই তা চালু হল। এদিন স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিনে জানানো হয়, রাজ্যে নতুন করে আরও ৬৮ জন করোনা মুক্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭৪ জন। সুস্থতার হার বেড়ে ৩৬.‌‌২৭ শতাংশ। এদিন  আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চার জন কলকাতার। এখনও পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা ১৭৮। নতুন করে ১৩৬ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট আক্রান্ত ২ ,৯৬১ জন। আরও ৬২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন ১,৬৩৭ জন। গত চব্বিশ ঘন্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮,৭১২টি। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১,০২, ২৮২টি। পজিটিভিটি রেট কমে হল ২.‌‌‌‌৮৯ শতাংশ। সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রয়েছেন ১২,৪৮২ জন। এখনও পর্যন্ত ছাড়া পেয়েছেন ৩২,১১২ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে ৮৬, ৯৫২ জন। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন এখনও অবধি ৭১,৮৮৯ জন।
বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের এক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হন। বাড়ি বিজয়গড়ে। বাঙুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ৭২ বছরের এক বৃদ্ধের করোনা পজিটিভ এসেছে। তিনি সল্টলেক আমরিতে চিকিৎসাধীন। ১২ নম্বর ওয়ার্ডের আটঘরার এক বাসিন্দা করোনার উপসর্গ নিয়ে আর জি করে ভর্তি ছিলেন। মঙ্গলবার তিনি মারা যান। তিনি কিডনির সমস্যায় ভুগছিলেন। ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডে বাসন্তী দেবী কলোনির এক মহিলার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ এসেছে। ওই ওয়ার্ডেই ত্রিনাথ পল্লীতে এক মহিলার করোনা পজিটিভ পাওয়া গেছে। তিনি বাইপাসের ধারে এক বেসরকারি হাসপাতালে আয়ার কাজে যুক্ত। নিউ টাউনের একটি আবাসনের এক বৃদ্ধ অসুস্থ হয়ে ভর্তি বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে। তাঁর পজিটিভ আসায় আবাসনের চারপাশ ঘিরে দিয়েছে পুলিশ। নিউ টাউনের অন্য এক আবাসনের বাসিন্দা মুকুন্দপুর থানার এক এসআইয়ের করোনা ধরা পড়েছে। ফের এসএসকেএম হাসপাতালের এক মহিলা জুনিয়র ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা হলে রিপোর্ট পজিটিভ আসে।  ডিসান হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অন্যদিকে শিশুমঙ্গল হাসপাতালের এক চিকিৎসকও করোনা আক্রান্ত হয়ে ডিসান হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার ও মঙ্গলকোটের দুই বাসিন্দা করোনায় আক্রান্ত। তাঁরা অন্য রাজ্য থেকে ফিরেছিলেন। তাঁদের কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রাখা হয়েছিল। সেখানেই তাঁদের নমুনা সংগ্রহ করে পাঠনো হলে পজিটিভ এসেছে। তাঁদের দু’‌জনকেই দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলকোটের নতুনহাটের এক যুবক অন্যদের সঙ্গে চেন্নাই থেকে গাড়ি ভাড়া করে ফেরেন ১৫ মে।  তাঁকে রাখা হয় বর্ধমানের এক কোয়ারেন্টিন সেন্টারে। সোমবার রাতে রিপোর্ট পজিটিভ আসার পর তাঁকে দুর্গাপুর কোভিড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সংস্পর্শে আসা ৪০ জনকে কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। 

জনপ্রিয়

Back To Top