সাগরিকা দত্তচৌধুরি: রাজ্যে যেভাবে করোনার চিকিৎসা চলছে, তাতে ভাল ফল পাওয়া যাচ্ছে। জানালেন রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্যের করোনা সংক্রান্ত তথ্য দিতে গিয়ে তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১৫ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,৫৭৬ জন। আরও ৬৩ জন করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮৯২ জন। রাজ্যে সুস্থতার হার বেড়ে অর্থাৎ ডিসচার্জ রেট ৩৪.‌‌‌৬৩ শতাংশ। অর্থাৎ সুস্থতার হার ক্রমশ বাড়ছে। জাতীয় গড় ৩৫.‌‌০৯ শতাংশ। করোনামুক্তি ও হাসপাতাল থেকে ছুটির হার জাতীয় হারের প্রায় সমানে আছে এই রাজ্য।
এদিন ৪৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে মোট চিকিৎসাধীন ১,৪৫২ জন। রাজ্যে ল্যাবরেটরির সংখ্যাও বেড়েছে। আরও ১টি ল্যাবরেটরির সংখ্যা বেড়ে ২১ থেকে ২২টি হল। মেডিকা হাসপাতালে শুরু হয়েছে করোনার পরীক্ষা। স্বরাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন, গত সাত দিনের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। ধীরে ধীরে ল্যাবরেটরির সংখ্যা বৃদ্ধি হওয়ায় নমুনা পরীক্ষাও বাড়ছে। একদিনেই নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৭,৭৪৫টি। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ৭৭,২৮৮। যেখানে ৮ মে ছিল ৩৫,৭৬৭টি। এই সাফল্য রাজ্য সরকার উল্লেখযোগ্য বলে মনে করছে। নতুন করে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৭ জনের। রাজ্যে এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১৬০।
রাজ্যে যত সংখ্যক নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, সেই তুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা কম। এ প্রসঙ্গে আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, বাংলায় পজিটিভিটি রেট কমেছে, যেটি ভাল খবর। সপ্তাহখানেক আগে যেখানে ৪.৬৯ শতাংশ ছিল, সেই তুলনায় এদিন পজিটিভিটি রেট নেমে ৩.‌‌‌‌৩৩ শতাংশ হয়েছে। জাতীয় গড়ের থেকে কমেছে। প্রতি ১০ লাখে টেস্টের সংখ্যাও বেড়েছে। প্রতি ১০ লাখে টেস্ট হয়েছে ৮৫৮টি, যা ভাল জায়গায় আছে। সরকারি কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রয়েছেন ৯,৬৬৭ জন। সরকারি কোয়ারেন্টিন থেকে ছাড়া পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত ২৫,৮০৪ জন। বর্তমানে হোম কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ৫০,২৫৮ জন। এখনও পর্যন্ত হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন ৭০,০৮৯ জন। এদিকে, কলকাতায় কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ২৮৬ থেকে কমে হয়েছে ২৬৯। ১১টি এলাকা গ্রিন জোনে ঢুকল। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য, বেলগাছিয়া অঞ্চল।  
স্বাস্থ্য দপ্তরের আশা, রাজ্যে আক্রান্তের সংখ্যা একটু একটু করে কমছে। ফলে অন্য রাজ্যের তুলনায় অনেকটাই ভাল পরিস্থিতিতে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। এ রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও সামগ্রিক পরিকাঠামো ভাল জায়গায় আছে বলেই এই সাফল্য আসছে বলে মনে করছে স্বাস্থ্য দপ্তর। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি রাজ্যে করোনা মোকাবিলায় সব দিক থেকে প্রস্তুতি নিয়েছেন বলেই এটি সম্ভব হচ্ছে বলে মত এক স্বাস্থ্যকর্তার।  
এদিন কলকাতায় সিআইএসএফের এক জওয়ান আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। করোনাকে জয় করে প্রগতি ময়দান থানার ওসি ও তাঁর স্ত্রী হাসপাতাল থেকে শুক্রবার বাড়ি ফিরেছেন। বৌবাজারে পুলিশ কোয়ার্টারে পৌঁছলে থানার কর্মীরা তাঁদের করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।
মুর্শিদাবাদে করোনায় আক্রান্তদের এদিন ছুটি দেওয়া হয়। এঁদের মধ্যে একজন জঙ্গিপুর মহকুমা হাসপাতালের নার্স। বাকি ৩ জনের বাড়ি সুতি থানা এলাকায়। ১০ মে তঁাদের করোনা ধরা পড়ে। বহরমপুরে করোনা হাসপাতালে তঁাদের চিকিৎসা চলছিল। ছুটির সময় ৪ জনের হাতে হাসপাতালের ডাক্তার, স্বাস্থ্যকর্মীরা ফুল ও মিষ্টির প্যাকেট তুলে দেন। করোনাজয়ীরা বলেন, ‘‌এখানে আমাদের চিকিৎসা খুব ভালভাবে হয়েছে। ডাক্তার, নার্স, সব কর্মীরা খেয়াল রাখতেন।’‌
অন্যদিকে, মুর্শিদাবাদে এদিন নতুন করে দু’‌জন আক্রান্ত হয়েছেন। তঁাদের একজনের বাড়ি নওদা গ্রামে। অন্যজনের বাড়ি খেসর গ্রামে। করোনামুক্ত হয়ে পাঁশকুড়ার বড়মা হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন হলদিয়ার বাড়বাজিতপুরের ৩ জন। এই নিয়ে আক্রান্ত ওই বৃদ্ধ–সহ পরিবারের বাকি ৬ সদস্যই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন। পূর্ব মেদিনীপুরের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক নিতাইচন্দ্র মণ্ডল বলেন, ‘এদিন হলদিয়ার করোনা–আক্রান্ত বৃদ্ধ ভূষিমাল দোকানির পরিবারের বাকি তিন সদস্যকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। তাঁদের ১৪ দিন হোম আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’‌ কাঁথির নয়াপুট পঞ্চায়েতের বলিয়ারপুর গ্রামের করোনা–আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা মোট ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছেন নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সুব্রত রায়। চিকিৎসক, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী মিলে হাসপাতালের মোট ২৫ জন আক্রান্তের সংস্পর্শে এসেছিলেন।‌

জনপ্রিয়

Back To Top