সাগরিকা দত্তচৌধুরি: রাজ্যে করোনা সংক্রমণ থেকে মুক্ত হয়েছেন আরও ৬০ জন। তার মধ্যে শুধু কলকাতারই ৩২ জন রয়েছেন। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে করোনা থেকে মোট সুস্থ হয়েছেন ১,২৮১ জন। সুস্থতার হার বেড়ে হল ৩৭.‌‌০৩ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এখনও পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৩,৪৫৯ জন। এদিন আরও ৬৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ১,৯০৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৪ জনের করোনায় মৃত্যু হয়েছে। রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৯৭ জন। এদিন নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৯,০০৯টি। যত দিন যাচ্ছে টেস্টের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এখনও পর্যন্ত রাজ্যে মোট নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা ১,২৯,৬০৮টি। পজিটিভিটি রেট ২.‌‌৬৭ শতাংশ। আরও তিনটি ল্যাবরেটরির সংখ্যা বেড়ে ৩০ থেকে ৩৩টি হল। সিউড়ি হাসপাতাল, বাঁকুড়া মেডিক্যাল কলেজ এবং বালুরঘাট জেলা হাসপাতালে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে করোনা পরীক্ষা। সরকারি কোয়ারেন্টিনে রয়েছেন ১৫,১৯৩ জন। কোয়ারেন্টিন সেন্টার থেকে ছাড়া পেয়েছেন এখনও পর্যন্ত ৩৮,০৮৯ জন। হোম কোয়ারেন্টিনে বর্তমানে রয়েছেন ১,০২,২৬৮ জন। হোম কোয়ারেন্টিন থেকে মুক্ত হয়েছেন এখনও অবধি ৭৪,০৮৮ জন। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে শুধু কলকাতার ৪৩ জন, হাওড়া ১৯ জন, হুগলি থেকে ২১ জন রয়েছেন। বাকি আরও বিভিন্ন জেলার বাসিন্দা রয়েছেন।  
তবে স্বাস্থ্য দপ্তরের আশঙ্কা, প্রাকৃতিক এই দুর্যোগে করোনা পজিটিভের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বিভিন্ন জায়গায়  ঘরবাড়ি ও প্রাণ বাঁচানোর জন্য মানুষের সামাজিক দূরত্ব বজায় ও মাস্ক ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। ফলে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।  
বঁাকুড়ার পাত্রসায়রে এক করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। কলকাতায় আমহার্স্ট স্ট্রিট এলাকায় রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন আক্রান্ত ব্যক্তি। 
‌‌‌‌পরিযায়ী শ্রমিক যত ঢুকছেন, তত আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এদিন একসঙ্গে ৪৪ জনের লালারসের নমুনায় করোনা ভাইরাসের উপস্থিতি মিলেছে মালদা ভাইরোলজি বিভাগে। যার মধ্যে ৩১ জনই মালদা জেলার, বাকি ১৩ জন উত্তর দিনাজপুর জেলার।  উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের পরীক্ষায় আরও ২ ‌জনের নমুনায় কোভিড–‌‌১৯ পজিটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একজন শিলিগুড়ির ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, আরেকজন কোচবিহারের। আক্রান্তদের অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক।
্ফরাক্কায় ৪ জন করোনা আক্রান্ত হওয়ায় অর্জুনপুর ও মহেশপুরকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হল। তাঁরা সকলেই পরিযায়ী শ্রমিক। মহারাষ্ট্র থেকে ১৭ মে লরি করে বেনিয়াগ্রাম গ্রাম পঞ্চায়েতের বিন্দুগ্রামে নিজেদের বাড়ি ফেরেন। ৩ জন আক্রান্ত একই পরিবারের সদস্য। বাড়ি মহেশপুরের পূর্ব শিবতলায়। পরিযায়ী শ্রমিকদের গ্রামবাসীরা হোম কোয়ারেন্টিনে না রেখে কাউকে কোনও আমবাগানে, আবার কোনও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রেখেছেন। ফরাক্কার ২ নম্বর নিশিন্দ্রা কলোনির ৩ যুবক গোয়া ও দিল্লি থেকে শুক্রবার বাড়ি ফিরেছেন। চিকিৎসকরা তাঁদের ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। ফরাক্কার বিএমওএইচ সজলকুমার পণ্ডিত জানান, আক্রান্তরা সকলেই মহারাষ্ট্র থেকে এসেছেন। তাঁদের নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বাকি আটজনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাঁদের নমুনা পাঠানো হবে পরীক্ষার জন্য।

জনপ্রিয়

Back To Top