উদয় বসু, গৌতম চক্রবর্তী: করোনা নিয়ে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের অন্ত নেই। আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের। তার মধ্যেই আশার খবর আক্রান্তদের সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার। এমনকি বেশি বয়স্করা করোনায় আক্রান্ত হলে বাঁচার সম্ভাবনা কম, সাধারণের মনে তৈরি হওয়া এমন একটা ধারণা নস্যাৎ করে দিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন ব্যারাকপুরের ৮৮ বছরের অশীতিপর বরেন মুখার্জিও। অন্যদিকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন এক প্রসূতি মা এবং করোনা–‌যোদ্ধা সেবিকা।   
ব্যারাকপুরের বাসিন্দা অষ্টাশি বছরের বৃদ্ধ বরেন মুখার্জি করোনা আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। বুধবার তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরতেই উচ্ছ্বাসের বন্যা বয়ে যায় এলাকায়। ব্যারাকপুরের পুরপ্রধান উত্তম দাস–‌সহ এলাকার মানুষ ফুল দিয়ে হাততালি দিয়ে করোনা–‌জয়ী বরেন মুখার্জিকে সংবর্ধনা জানান। পাশাপাশি যাঁরা এই কঠিন মহামারী মোকাবিলায় নিজেদের জীবন উপেক্ষা করে একেবারে প্রথম সারিতে দাঁড়িয়ে লড়াই করে চলেছেন সেই নার্স, স্বাস্থ্যকর্মীদের উদ্দেশেও হাততালি দিয়ে তাঁদের সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়। বরেনবাবু সংক্রমিত হওয়ার পর থেকে এলাকা বাঁশ দিয়ে সিল করে দেওয়া হয়। এখনই নিরাপত্তার স্বার্থে বাঁশ খোলা হচ্ছে না। সাতদিন পর ফের বরেন মুখার্জির করোনা পরীক্ষা হবে। তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে বরেনবাবু সুস্থ হওয়ার খবরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকার মানুষ। 
এদিকে, জেলার দুই প্রান্তে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন দুজন মহিলা। একজনের বাড়ি ভাঙ্গড় থানা এলাকায় অন্যজনের জীবনতলা থানার ঘুটিয়ারি শরিফে। ভাঙ্গড়ের করোনা আক্রান্ত ছিলেন প্রসূতি মা। অন্যদিকে জীবনতলার করোনায় আক্রান্ত ছিলেন নার্স। প্রসূতি মা করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন নীলরতন সরকার হাসপাতালে। অন্যদিকে নার্স আক্রান্ত হন কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার একটি বেসরকারি নার্সিং হোমে। দুজনই ছিলেন চিকিৎসাধীন। মঙ্গলবার দুজনই ফিরে আসেন বাড়িতে। করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরে আসায় দুজনেই পেলেন উষ্ণ সম্বোর্ধনা। ফুল ছিটিয়ে তাঁদের অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাস্তায় রং বেরংয়ের বেলুন বেঁধে তৈরি করা হয়েছিল গেট। এক পলকে দেখলে মনে হতে পারে কোন অনুষ্ঠান বাড়ি। কিন্তু না। করোনাকে জয় করে বাড়ি ফিরে আসাতে আনন্দে আত্মহারা মানুষের এই আয়োজন। সামাজিক দূরত্ব মেনে মুখে মাস্ক পরে ফুল দিয়ে সম্বর্ধনা জানানো হয় দুই মহিলাকে। এই ঘটনায় খুশি তারাও। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর ,ভাঙ্গড়ের বধূ কয়েকদিন আগেই সন্তান প্রসবের জন্য ভর্তি হন কলকাতা নীলরতন সরকার হাসপাতালে। সেখানেই করোনা আক্রান্ত হন মা ও নবজাতক সন্তান। দুজনেরই করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসায় ভাঙ্গড়ে ভর্তি করা হয়। বুধবার বাঙ্গুর হাসপাতাল থেকে মা ও শিশু দুজনেই ফিরে আসেন বাড়িতে। বর্তমানে সুস্থ আছেন মা ও শিশু। অন্যদিকে কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে নার্সের কাজ করতে গিয়ে করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন জীবনতলার বধূ। তিনিও সুস্থ হয়ে মঙ্গলবার বাড়িতে ফিরে আসেন। 

জনপ্রিয়

Back To Top