একটা সময়ে বলা হত, রাহুলের চেয়ে পরিণত বরুণ গান্ধী। সেই বরুণ মায়ের সঙ্গে বিজেপি–‌তে গিয়ে ভাল জায়গা পেয়েছেন। মানেকা গান্ধী মন্ত্রী, বরুণ সাংসদ। শুধু সাংসদ নয়, দলের গুরুত্বপূর্ণ পদেও বসানো হয়েছিল সঞ্জয়ের পুত্রকে। জরুরি অবস্থার সময়ে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত ছিলেন সঞ্জয় গান্ধী, সঙ্গত কারণে। ১৯৭৭ সালে ইন্দিরার পরাজয়ে সঞ্জয়ের ‘‌অবদান’‌ সবচেয়ে বেশি, কংগ্রেসিরাও বলেন। সেই সঞ্জয়ের স্ত্রী ও পুত্রকে দলে নিয়ে নেহরু–‌গান্ধী পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছে বিজেপি। প্রিয়াঙ্কা কিন্তু বরুণের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন। বোনের জায়গা থেকেই কথা বলতেন। বোন–‌ভাইদের মধ্যে অনাক্রমণ চুক্তি ছিল। বিজেপি–‌তে নিজের নম্বর বাড়ানোর জন্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে পরপর তিনটি সভায় কুৎসিত মন্তব্য করেন বরুণ। এতটাই যে, লালকৃষ্ণ আদবানি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, এ ধরনের কথা বলা চলবে না। এলোমেলো কাজ করায় দলের নেতা–‌কর্মীরা  চরম বিরক্ত হন, বরুণকে সাংগঠনিক পদ থেকে সরিয়ে দিতে হল। সেই থেকে শুরু হল অন্য পর্ব। এদিক–‌ওদিক প্রচ্ছন্ন বিজেপি–‌বিরোধী কথা বলা। সংবাদপত্রে লিখতেও থাকলেন, বিজেপি–‌র তথা সরকারের নীতি নিয়ে। কোনওরকমে সামাল দিলেন মানেকা। সঞ্জয়–‌তনয় নিজের কেন্দ্র সুলতানপুরে কোণঠাসা। বিজেপি–‌র প্রাথমিক সিদ্ধান্ত ছিল, বরুণকে প্রার্থী করা হবে না। রটল, বরুণ যাচ্ছেন কংগ্রেসে। না। কংগ্রেস রাজি হল না। নিজের পিলিভিট পুত্রকে ছেড়ে সুলতানপুরে দাঁড়াতে চাইলেন মানেকা এবং নেতৃত্ব সম্মত হল। কৃতজ্ঞ বরুণ মুম্বইয়ে বললেন, ‘‌আমাদের পরিবার থেকে কয়েকজন প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। কেউই মোদির সমকক্ষ ছিলেন না!’‌‌ তালিকায় নেহরুও তো আছেন। কী পুরস্কার?‌ মন্ত্রী হতে  চান?‌ গাছে কাঁঠাল। 

জনপ্রিয়

Back To Top