দীপাঞ্জন চক্রবর্তী: ১২ আগস্ট, রাত প্রায় দেড়টা, চারদিকে নিশ্চিত অন্ধকার। মাথার ওপর চতুর্থীর ম্রিয়মাণ চাঁদ। আকাশে কোটি কোটি তারার মেলা। কনকনে হিমেল হাওয়া যেন পোশাকের ভেতরে হাড় অবধি কাঁপিয়ে দিচ্ছে। আশপাশের বরফ–ঢাকা পাহাড়ের চূড়া দিয়ে বয়ে আসা শনশনে হাওয়া, অনেক নীচে চিনাব নদীর একটি শাখার অবিশ্রান্ত কুলকুল আওয়াজ, সব যেন কানের কাছে ফিসফিসিয়ে বয়ে আনছে সাবধানবাণী— ফিরে যাও.‌.‌. ‌ফিরে যাও। এ মৃত্যু উপত্যকায় প্রবেশ করো না। হাতে ঘড়িতে সময় দেখাচ্ছে রাত দেড়টা। নিঃশব্দে এগিয়ে চলেছি আমি আর আমার দশজন সঙ্গী যেন অমোঘ মৃত্যুর মতো নিশ্চিত কিন্তু শব্দহীন। 
হঠাৎ আমার পথপ্রদর্শক গুলাম বাট আমার কানে কানে ফিসফিসিয়ে জানাল ‌‘‌সাব হম হিন্দুস্থান কা সীমা পার কর লিয়ে।’‌ থমকে গেলাম এক মুহূর্তের জন্য, ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনের দিকে তাকালাম একবার, হয়তো বা অবচেতন মনেই। শেষবারের মতো দেখা নিজের দেশকে?‌ নিজেই হেসে ফেললাম, আমার মতো একজন নৃশংস, দয়ামায়াহীন কমান্ডোর মধ্যে এখনও রয়েছে আবেগ। পেশার প্রয়োজনে ঠান্ডামাথার ঘাতক হয়েও বেঁচে আছে আপাত নরম, আবেগময় একটা অংশ?‌ হয়তো বা শেষবারের মতো একটু মাটি তুলে নিয়ে কপালে বুলিয়ে নিলাম, আবেগ ঝেড়ে ফেলে সদলে এগিয়ে চললাম লক্ষ্যের দিকে।
আমরা খুব ভাল ক‌রেই জানতাম আমাদের এই সমস্ত মিশনের দুটি পরিণতি। হয় ব্যর্থ হব, পাক অধিকৃত কাশ্মীরের মাটি রঞ্জিত হবে আমাদের রক্তে, নয়তো ফিরব সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়ে। নিজের দেশের মাটিতে। কিন্তু আমাদের জন্য অপেক্ষা করবে না কোনও জয়মালা বা পুরস্কার। কোনও বোধবুদ্ধিসম্পন্ন সরকারই গোপন অভিযান  নিয়ে ঢাকঢোল পেটায় না। সেটাই সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দিক। আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটের কথাও চিন্তা করতে হয় সরকারকে। আমরা জানতাম, ব্যর্থ হলেও শত্রুর হাতে ধরা পড়ব না, ধরা পড়তে পারি না। আমাদের জামার কলারে আটকানো থাকে পটাশিয়াম সায়ানাইডের ক্যাপসুল। ব্যর্থ হলে এক লহমায় চিবিয়ে নিতে হয় ওই ক্যাপসুল, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হয়। ভয়ঙ্করতম শারীরিক অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচার এবং মিশনের গোপনীয়তা বজায় রাখার একমাত্র পথ।
পরবর্তী চার ঘণ্টা এক অন্য ইতিহাস। শুধু এটাই জানাতে পারি, সফল হয়েছিলাম আমরা। গুঁড়িয়ে দিয়েছিলাম পাক অধিকৃত কাশ্মীরের সব থেকে বড় সন্ত্রাসবাদী ঘাঁটি। গিয়েছিলাম দশজন, ফিরলাম ছয়জন। বাকি চারজনের প্রাণহীন দেহ আমি নিজের হাতে বিস্ফোরক দিয়ে একটা ছোট্ট বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিশ্চিহ্ন করে দিয়েছিলাম। যেন কোনও প্রমাণ আমরা রেখে না যাই। সেই মুহূর্ত থেকে আমার সেই চার সঙ্গী হয়ে গেলেন এক বিশেষ শ্রেণিভুক্ত, ‌‘‌মিসিং ইন অ্যাকশন’‌ বা এম আই এ। প্রতি মাসে যঁাদের বাড়ি পৌঁছে যাবে সেনাকর্মীদের প্রাপ্য সব আর্থিক সুবিধা, কিন্তু তাঁদের পরিবারের লোকেরা জানতেও পারবে না কোথায় হারিয়ে গেল মানুষটি। এটাই ভবিতব্য। আমাদের কাজের কোনও স্বীকৃতি দেওয়ার উপায় নেই, উপায় থাকে না কোনও। 
আমি দু’‌দশকের বেশি কাজ করেছি এন এস জি, র এবং বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিশেষ এজেন্সিতে। আমার কাজ খবরের কাগজে লেখা নয়, আমার কাজ নিঃশব্দে আড়াল থেকে নিজের কাজ করে যাওয়া। কিন্তু চুপ করে, নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে থাকতে পারলাম না। যেভাবে পুলওয়ামা–পরবর্তী ভারতে হঠাৎ করে দেশপ্রেমের সুনামি আছড়ে পড়েছে, শুরু হয়েছে অতি নির্লজ্জভাবে আর্মড ফোর্সেসকে নিয়ে রাজনীতি, মনে হল প্রতিবাদ করা দরকার। বলা হয়— A commando never quits till his death‌!‌ ‌লড়াইয়ের ময়দানটা বদলে গেলে আমার কিছু করার নেই, কিন্তু আমি লড়ে যাব দেশপ্রেমের এই নির্লজ্জ রাজনীতিকরণের বিরুদ্ধে।
একটি প্রচলিত কথা আছে— ‘‌মৃতরাও কথা বলে’‌!‌‌‌ পুলওয়ামার শহিদরা ‘‌কথা’‌ বলতে শুরু করেছে, প্রশ্ন করতে শুরু করেছে। তাদের এবং আরও হাজারো শহিদের প্রশ্ন, ক্ষোভ, বেদনা আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়া আমার পবিত্র কর্তব্য। উত্তর দেওয়া উচিত দায়িত্ব প্রশাসনের, সরকারের। দেশের মানুষ করবে শেষবিচার। 
পুলওয়ামা–পরবর্তী দেশপ্রেমীদের বলতে চাই, আপনারা কি জানেন গত ছয় বছরে শুধু আধাসামরিক বাহিনীতে ৭০০ জওয়ান আত্মহত্যা করেছেন, ভয়াবহ ‌‌জীবনযাত্রার মান, ‌‌‌‌অসহনীয় কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে?‌ ২২ মার্চ, ২০১৮‌ ‌ভারতের স্বরাষ্ট্র সচিব লোকসভা‌র এস্টিমেট কমিটিকে লিখিত রিপোর্ট পেশ করেছেন যে, গত পাঁচ বছরে শুধু বিএসএফ–এর ৪৯১ জন সন্ত্রাসবাদী হামলায় মারা গিয়েছেন আর আত্মহত্যা করেছেন ৫২৯ জন!‌
কোথায় ছিলেন আপনারা তখন?‌ কোনও প্রশ্ন করেননি এই সরকারের কাছে, কী করছেন আপনারা আমাদের রক্ষীদের সঙ্গে?‌ কেন তঁারা আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছেন?‌
রাজনীতিতে একটা বহু পুরোনো প্রবাদ আছে, ‌‌‘‌যথাযথ সময়ে হত্যার নাম রাজনীতি।‌’‌ ১৪ ফেব্রুয়ারির আগের দু’‌মাস ভারতের সমস্ত সংবাদপত্রে শুধু রাফাল, ‌রাফাল আর রাফাল। ১৫ ফেব্রুয়ারি‌ থেকে দেশপ্রেমের জোয়ারে ভেসে গেল সব প্রশ্ন। কিন্তু একটা প্রশ্ন রয়ে গেল তার মধ্যেও। কাদের অসহায় আত্মসমর্পণ আর ভয়াবহ পরিণতির বদলে এল এই ‘‌দেশপ্রেম’‌?‌ অসহায় আত্মসমর্পণ বলছি, কারণ একটাও পাল্টা গুলি চলেনি। সুযোগই পাওয়া যায়নি।
গত পাঁচ বছরে শুধু কাশ্মীর উপত্যকায় সন্ত্রাসবাদী হামলা বেড়েছে ১০৬ %‌‌। ২০১৭ সালে মারা যান ৩৫৪‌ জন সামরিক এবং আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য, ২০১৮‌–‌তে মারা যান ৪৫৭ ‌জন। (‌সূত্র ‌S.A.T.P.ORG‌)। আত্মঘাতী হামলা হতে পারে, গোয়েন্দা দপ্তরের ‌৮ ফেব্রুয়ারি‌র এই সুনির্দিষ্ট খবর কীভাবে অগ্রাহ্য করা হল!‌ আমি কাশ্মীর উপত্যকায় বিশেষ একটি দপ্তরের হয়ে কাজ করেছি বেশ কিছু বছর। কাশ্মীরে কোনও গ্রামে, কোনও বাড়িতে কোনও মাসে ২০ কেজি ‌বাড়তি চাল গেলে তার খবরও সঙ্গে সঙ্গে চলে যায় গোয়েন্দাদের হাতে। বাড়িতে কি বাইরে থেকে নতুন অতিথি এসেছে?‌ কে সেই অতিথি?‌ এই অবস্থায় কোথা থেকে, কীভাবে এল কয়েকশো কেজি আরডিএক্স?‌ একটি গাড়িকে ‘‌বিস্ফোরক’‌ করে তুলতে কম করে চার থেকে পঁাচ দিন সময় লাগে। কী করছিল গোয়েন্দারা ?‌ এত বড় ‌কনভয়‌ কী করে গেল আকাশপথে কোনওরকম নজরদারি ছাড়া?‌ গত কয়েকদিন দেখছি বাংলার সমস্ত নির্বাচনী বুথ নাকি অতিস্পর্শকাতর!‌‌ শুনেই শুরু হয়েছে আধাসামরিক বাহিনীর অভূতপূর্ব তৎপরতা। ১৪ ফেব্রুয়ারির আগে এই তৎপরতা কাশ্মীরে কেন দেখা যায়নি ?‌ বাংলা কি কাশ্মীরের থেকেও স্পর্শকাতর?‌ নাকি আধাসামরিক বাহিনী সেদিন সতর্ক, তৎপর হলে, অতগুলো শহিদ পাওয়া যেত না ?‌ তোলা যেত না অদ্ভুত ছক কষা দেশপ্রেমের জোয়ার, যাতে সাময়িকভাবে হলেও অনিল আম্বানি আর নীরব মোদির নাম সংবাদপত্রের প্রথম পাতা থেকে ভাসিয়ে দেওয়া যায়?‌ নাকি বাহিনী এবং গোয়েন্দারা তৎপর থাকলে কিছু গুন্ডা নিরীহ কাশ্মীরিদের পেটানোর সুযোগ পেত না?‌ 
নাকি এটা পূর্বনির্ধারিত এক সুচারু পরিকল্পনা?‌ প্রথমে সন্ত্রাসবাদী হামলা, তারপর এক জোরদার ‘‌জনমত’‌ তৈরি করা দেশজুড়ে ‘‌পাকিস্তানকে গুঁড়িয়ে দাও’‌, একটা ছোট্ট ‘‌প্রতি আক্রমণ’‌, যুদ্ধ–যুদ্ধ খেলা, আর কী চাই?‌ আসল সমস্যা থেকে জনগণকে বিভ্রান্ত করার এর থেকে বড় অস্ত্র আর কিছু হতে পারে না।
২৬/‌১১‌ ‌ভয়াবহ মুম্বই হামলার পর তৎকালীন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, কে দায়িত্ব নেবে এই ব্যর্থতার?‌ ভারতের তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শিবরাজ পাটিল, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী এবং উপমুখ্যমন্ত্রী যথাক্রমে বিলাসরাও দেশমুখ এবং আর আর পাটিল পদত্যাগ করেন সাতদিনের মধ্যে। ‘‌এবার রাজার পালা’‌, সেই গুজরাটি মুখ্যমন্ত্রী আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কাছেই জানতে চাওয়া, কেন অপসারিত হবেন না অজিত ডোভাল, যিনি আদ্যোপান্ত ব্যর্থ?‌ একজনও আধিকারিক বা মন্ত্রী দায়িত্ব নিয়েছেন ব্যর্থতার?‌ পুলওয়ামার শহিদরা কিন্তু প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।‌ মানেটা কী?‌ কেউ দায়ী নয় আমাদের মৃত্যুর জন্য!‌ কেউ দায়ী নয়, আর আমরা বেমক্কা শহিদ হয়ে গেলাম?‌ আমাদের অসহায় মৃত্যু কি কারও সুবিধা করে দিল?‌ না‌ কারও সুবিধা করে দেওয়ার জন্যই আমাদের মরতে হল এইভাবে?‌
ধরে নিলাম পুলওয়ামা একটা দুর্ঘটনা। কিন্তু তার জন্য কেন এত ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা কথা বলা?‌ প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেরিতে খবর পৌঁছোনো নিয়ে একরাশ নির্জলা মিথ্যা কথা। সাধারণ মানুষও জানেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বিদেশ সফর করেন, ওঁর সঙ্গে অস্থায়ী পিএমও ‌চলে। এই অস্থায়ী দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর বন্ধু মুকেশের জিও নেটওয়ার্কের ভরসায় ‌চলে না!‌‌ স্যাটেলাইট ফোনের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার প্রতিটি সেকেন্ড যোগাযোগ থাকে এবং সেই যোগাযোগ আবহাওয়ার কারণে বিঘ্নিত হয় না।  
পুলওয়ামা নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই দেখা গেল শহিদদের নিয়ে মেরুকরণ সম্ভব হচ্ছে না। তখন হঠাৎ করে বাজারে আনা হল আরেকটি পণ্য:‌ ‘‌এয়ার স্ট্রাইক’‌। পৃথিবীর সামরিক ইতিহাসে এর থেকে বেশি বিতর্কিত ঘটনা বোধহয় আর হয়নি। কেন বিবিসি বা রয়টার্সের মতো পৃথিবীবিখ্যাত সংবাদ সংস্থা অন্য খবর দিচ্ছে?‌ ওদিকে অমিত শাহ ভদ্রলোক দাবি করলেন, মৃত সন্ত্রাসবাদীর সংখ্যা ২৫০!‌‌ কে এই ভদ্রলোক?‌ গোপনীয়তার শপথ নেওয়া কোনও মন্ত্রী?‌ যদি তা না হয় একজন অসামরিক ব্যক্তির কাছে এই তথ্য গেল কীভাবে?‌ আবার বলা হচ্ছে, ‌NTRO image sattelite analysis-এর কথা!‌!‌ আমি ভেবেই পাচ্ছি না ‌NTRO–‌র মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল সংস্থার নাম কী করে নেওয়া হচ্ছে প্রকাশ্যে?‌ নিজেদের সন্দেহজনক আচার‌–আচরণকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে?
‌প্রধানমন্ত্রী বললেন, ‘‌সেনাকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে‌’‌!‌‌‌ যারা বাহিনীতে কাজ করছি তারা বিশ্বাস করব?‌ বায়ুসেনা চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে লাহোরে বোমা ফেলে আসতে পারে?‌ সম্পূর্ণ স্বাধীনতাই পেলে বায়ুসেনা প্রধান কী করে বারবার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘‌আমাদের যা টার্গেট দেওয়া হয়েছিল আমরা তাই হিট করে এসেছি’‌!‌‌‌ কে বা কারা বায়ুসেনা প্রধানকে ‘‌টার্গেট’‌ দিয়েছিল?‌ ‘‌সম্পূর্ণ ‌স্বাধীনতা’‌ থাকা সত্ত্বেও অন্য কেউ এর মধ্যে নাক গলায় কীভাবে?‌ বাহিনীর লোকজনই প্রশ্ন করতে শুরু করেছেন। লেফটন্যান্ট জেনারেল জামিরুদ্দিন শাহ প্রশ্ন তুলেছেন গুজরাট দাঙ্গার সময় সেনাকে নিষ্ক্রিয় করে রাখা নিয়ে। ‘‌উরি সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’‌–‌এর‌ প্রাণপুরুষ লেফটন্যান্ট জেনারেল হু‌ডা ‘‌উরি’‌ নিয়ে রাজনীতির বিরুদ্ধে। কর্নেল মুকুল দেব আদালতে নিয়ে গিয়েছেন সরকারকে। রোজ প্রশ্নকর্তাদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। প্রশ্ন তোলার দায়ে আমিও হয়ত খুব তাড়াতাড়ি ‌‘‌দেশদ্রোহী’‌ খেতাব পাব। বিশ্বাস করুন প্রধানমন্ত্রীজি, আপনাদের দেওয়া ‘‌দেশদ্রোহী‌’‌ তকমা আমার কাছে ‘‌পরমবীর চক্র’‌–‌র সমান। পুলওয়ামার শহিদদের তরফ থেকে আমি এই খেতাব নিতে প্রস্তুত। লেখার শুরুতে যে ‌‘‌সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বা কর্ভাট অপারেশনে’‌র কথা লিখেছি, সেটা হয়েছিল আপনারই পূর্বসূরি অটলবিহারী বাজপেয়ীর সময়। কিন্তু তার না হয়েছে রাজনীতিকরণ, না হয়েছে সিনেমা। না দেওয়া হয়েছিল ‘‌নতুন ভারত’‌–এর হুঙ্কার। কিন্তু কাজটা হয়েছিল। 
সবশেষে অনুরোধ করব, সশস্ত্র বাহিনী নিয়ে রাজনীতি করবেন না। তাদের কাজ করতে দিন। মনে রাখবেন, ‘‌Dead body speaks‌‌’‌, ‌মৃতেরা কথা বলে। শহিদের দেহ তো, মৃত্যুর পরেও দেশের ভালর জন্য লড়তে থাকে।
জয় হিন্দ।
লেখক এন‌এস‌জি‌ এবং ‘‌র’–র ‌প্রাক্তন ডেপুটি কমান্ডান্ট‌‌‌‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top