টালা ব্রিজ ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিতে হওয়ায়, রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কিছু কথা শোনা গেল। সরকারি উদ্যোগেই পুজোর আগে পরীক্ষা করে দেখা যায়, কিছু জায়গায় ফাটলের চিহ্ন। ঠিক কী অবস্থা, একটু সারিয়ে নিলেই চলবে কিনা, খতিয়ে দেখেন পূর্ত দপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা। উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। তারপর, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ডাকা হয় সর্বভারতীয় বিশেষজ্ঞ ভিকে রায়নাকে। তিনি জানান, ঝুঁকি এড়াতে হবে। বহুকাল আগে তৈরি সেতু তার মেয়াদ পার করে ফেলেছে, মেরামতে কাজ হবে না, ভেঙে ফেলাই উচিত। অসুবিধা সত্ত্বেও, পুজোর আগেই সিদ্ধান্ত, লরি ও বাস চলাচল বন্ধ, আপাতত চলবে শুধু ছোট গাড়ি। যথাসম্ভব বিকল্প ব্যবস্থাও করা হয়। ভোগান্তি এড়ানো সম্ভব নয়, তবে কিছুটা স্বস্তি, যাতে যাত্রীরা, পুজোর সময়েও বেশি সমস্যায় না পড়েন। পুজোর পর আবার পূর্ত দপ্তর, কলকাতা ও রাজ্য পুলিশ, রেল, নানা সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্তা, মুখ্যসচিব–‌সহ শীর্ষ অফিসারদের নিয়ে, মন্ত্রীদের নিয়ে আবার বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, ভেঙে ফেলা হবে প্রাচীন ব্রিজ। একই সঙ্গে সিদ্ধান্ত, এক বছরের মধ্যে তৈরি হবে নতুন ব্রিজ। সেই এক বছরে কী কী বিকল্প ব্যবস্থা করা যায়, তা–‌ও ভাবা হল। করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপি–‌র সভাপতি দিলীপ ঘোষ বললেন, এলাকার মানুষের প্রচণ্ড অসুবিধা হবে। রাজ্য সরকার আগে কী করল, কেন ব্রিজ ভাঙার অবস্থা, মাঝেরহাটে ভেঙেও পড়ল কেন?‌ দিলীপবাবুর জানা দরকার, সংশ্লিষ্ট ব্রিজগুলো তৈরি হয়েছে ৫০ বছরেরও আগে। তখন যত ভার বহনের কথা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে দশ গুণ গাড়ি চলাচল বেড়েছে। মাঝে বহু বছর তদারকি হয়নি। এই সরকার অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে পরীক্ষা করছে। দিলীপবাবুরা কী চাইছেন, যাতে টালা ব্রিজ চালু থাকে এবং বড় দুর্ঘটনা হয়?‌ রাজনৈতিক সঙ্কীর্ণতা আর কত বাড়বে?‌

জনপ্রিয়

Back To Top